চট্টগ্রাম নগরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসে ১২ বছরের এক কিশোরী ও ৩২ বছরের এক নারী আত্মহত্যা করেন। পরে তাদের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসা হয়। এরপর লাশগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদনে জোর জবরদস্তি কিংবা ধর্ষণের আলামত না মিললেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সিআইডির ল্যাবরেটরিতে চিকিৎসকের পাঠানো দুই মরদেহে পাওয়া যায় একই পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি।
এদিকে দুই মাসের ব্যবধানে দুটি অপমৃত্যুর ঘটনায় দুই নারীর দেহে একই পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি নিয়ে বিস্মিত হয় সিআইডি। পরে তদন্ত শুরু করেন তারা। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন লাশ ঘরের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত দারোয়ান সেলিমকে (৪৮) শনাক্ত করেন তারা। পরে সোমবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেলিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সেলিম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার সাতেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট ঘাসিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় থাকেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও পাঁচলাইশ থানায় নারী নির্যাতন মামলা ছিল। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্ত করার আগে পর্যন্ত মরদেহ দুটি হাসপাতালের ১ নং ইমার্জেন্সি মর্গে ছিল। সেখানে মরদেহের পাহারায় ছিলেন সেলিম। সেলিমই এই অপকর্ম করেছেন বলে সন্দেহ করেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে সেলিমকে সিআইডি অফিসে চায়ের দাওয়াত দেয়া হয়। চা পানের সময় সেলিমের মুখ থেকে বের হওয়া লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া যায় ওই মরদেহ দুটিতে যে ব্যক্তির শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে তিনি এই সেলিম।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দারোয়ান সেলিম মরদেহের সাথে বিকৃত যৌনাচার করার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কৃঞ্চ কমল ভৌমিক পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।




প্রতিদিন ডেস্ক



