বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ অপরাহ্ন

সিলেটে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে ধর্ষক লিলুর সহযোগীরা

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০২/২০২২ ১২:৩২:৪৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
11

সিলেটের পনাইরচকে এখন অনেকেই বাড়িতে নেই। কেনো বাড়িতে নেই বলতে পারছেন না কেউ। যারা পালিয়েছে তারা গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার আসামি ও কুখ্যাত আসামি লিলু মিয়ার সহযোগী। গত বুধবার লিলু মিয়াকে দুইদিনের রিমাণ্ডে এনেছিল পুলিশ। আর রিমান্ডে নিয়ে আসার আগেই পালিয়েছে ওরা।

নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বজনরা দাবি করেছেন, দূরে থাকলেও তাদের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যেই অসুস্থ, নির্যাতিতা ওই গৃহবধূকে নিয়ে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। এদিকে, রিমান্ড শেষে লিলু মিয়াকে গতকাল আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আব্বাস মিয়া নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জের রিভারবেল্ট এলাকার গ্রাম পনাইরচক। দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে অনেক আগে থেকেই ওই এলাকা অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। গত ১৪ই জানুয়ারি পনাইরচকে ঘটে একটি লোমহর্ষক ঘটনা। এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দু’দিন আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনার তথ্য উদ্‌ঘাটনে স্থানীয় কুশিয়ারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ ইন্সপেক্টর এহতেশামুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। পনাইরচক গ্রামের মনির আহমদের স্ত্রী ওই মহিলা। মনির আহমদ স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের মুছন আলীর বাড়িতে বসবাস করতেন। ১৪ই জানুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার পর ১৬ই জানুয়ারি সকালে অচেতন ও উলঙ্গ অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর স্মৃতিহারা ছিলেন ওই গৃহবধূ। নির্যাতনের কারণে তার শরীরের ডান অংশ ও ডান পা অবশ হয়ে গিয়েছিল।

এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ গৃহবধূর মুখ থেকে তথ্য উদ্‌ঘাটন করে ঘটনার মূল হোতা একই গ্রামের লিলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এক সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তার করা হয় আব্বাস মিয়া নামে আরও একজনকে। পুলিশ লিলু মিয়াকে বুধবার দুইদিনের রিমান্ডে এনেছিল। তাকে কুশিয়ারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফাঁড়ির ইনচার্জ এহতেশামুল ইসলাম। দু’দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গতকাল সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘লিলু মিয়ার কাছ থেকে ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার জবানবন্দিতে ঘটনার অনেককিছুই পরিষ্কার হয়েছে।’ তিনি জানান. ‘গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি আব্বাসের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এখনো শুনানি হয়নি। আব্বাসকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।’ এদিকে, গতকাল সিলেটের আদালতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার আসামি লিলু মিয়ার জামিন চাওয়া হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

র্যাতিতা মহিলার স্বজনরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ। এরপর বাড়ি পাঠালেও তার স্মৃতি ছিল না। চিকিৎসার কারণে ধীরে ধীরে স্মৃতি ফিরে পাচ্ছেন। এখনো কথার জড়তা কাটেনি। শরীরের ডান অংশ ও ডান হাত অবশ থাকার কারণে তিনি হাঁটাচলা কিংবা বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না। তাকে ধরে ধরে বসাতে হয়। তারা জানিয়েছেন, টানা দু’দিনের নির্যাতনে কাহিল হয়ে পড়েছেন ওই গৃহবধূ। ধীরে ধীর স্মৃতিশক্তি ফিরে পেলেও হঠাৎ করে ভয়ে আঁতকে ওঠেন।

এদিকে, গত মঙ্গলবার সিলেটের আদালতে নির্যাততা ওই গৃহবধূর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানেও তার উপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। নির্যাতিতার ভাই আব্দুল লতিফ গতকাল জানিয়েছেন, তার বোনের উপর কেনো এই নির্যাতন সেটি এখনো তারা জানেন না। তবে, লিলু মিয়া এলাকার চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। লিলু মিয়াকে রিমান্ডে আনার আগেই এলাকা ছেড়ে তার সহযোগীরা পালিয়েছে। তারা বাড়িতে নেই।


সিলেট প্রতিদিন / এসএএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স