শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

সড়কে অনিয়ম: বাড়ছে দুর্ঘটনা

  • প্রকাশের সময় : ২৪/০২/২০২২ ০২:৩৮:৫৯
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
10

যত্রতত্র পার্কিং, ওভারটেকিং, সড়কের মাঝখানে গর্ত, যানবাহনে বেপরোয়া গতি- এ সকল অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর তাই দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি সিলেটের সকল দুর্ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করলে দেখা যায়- অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটেছে চালকের অদক্ষতা, ওভারটেকিং, যত্রতত্র পার্কিং ও রাস্তায় জেব্রাক্রসিং না থাকার কারনে।

সিলেট নগরীতে সড়কগুলোতে প্রয়োজনীয় সকল জায়গায় নেই জেব্রা ক্রসিং। সব সময় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয় পথচারীদের। শুরুতে চৌহাট্টা পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং থাকলেও রাস্তা সংস্কারের ফলে তাও উঠে যায়। নগরীর ব্যস্ততম পয়েন্ট চৌহাট্টা, আম্বরখানা, রিকাবীবাজার গোল চত্তরে উল্টো পথে গাড়ি চলে বেশী। সড়কের একপাশ থেকে অন্য পাশে যেতে গাড়ি চালকরা উল্টো পথ ব্যবহার করেন। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও এদিকে নজর নেই কারও। ট্রাফিক আইন থাকলেও তা বাস্তবায়ন ও মানতে দেখা যায় না।

সিলেট নগরীর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি গুলো যত্রতত্র অবৈধ গাড়ি স্ট্যান্ড। নগরীর বন্দরবাজার, জেলরোড, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, সুরমা পয়েন্টসহ প্রতিটি মোড়ে মাড়ে রয়েছে গাড়ি স্ট্যান্ড। এদের মধ্যেই অধিকাংশই অবৈধ। এছাড়াও রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা, জিন্দাবাজার পয়েন্টে অবৈধ মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডের নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন পথচারীরা। ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

এ ছাড়াও নগরীতে ফুটপাত দখল আরেকটি বড় সমস্যা। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিসিক মেয়র যত পদক্ষেপই নিয়েছেন তা ভেস্তে গেছে। যখনই মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি যায়, তখনই ফুটপাত খালি হয়। এর কিছুক্ষন পর আবারও হকাররা ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে থাকেন। দীর্ঘদিন থেকে মেয়র-হকার ইদুরখেলা চলছেই। ফুটপাত দখলের কারনেই রাস্তাগুলো ছোট হয়ে আসে, ঘটে নানা দুর্ঘটনা।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, অতিরিক্ত গতির গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা নিচ্ছি। যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই অ্যাকশনে যাচ্ছে পুলিশ। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নগর কর্তৃপক্ষের সাথে পুলিশ সব সময় রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যেসব দুর্ঘটনা হয়েছে তা অধিকাংশই হয়েছে দ্রুত গতি, ওভারটেক করে গাড়ি চালানো এবং চালক ও পথচারীদের অসচেতনতার কারণে। যানবাহনের দ্রুত গতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। কিন্তু কোন পদক্ষেপই কাজে আসছে না।

সর্বশেষ গত ৭দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুর এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮জন। ওই সড়কের আশপাশে বাসা বাড়ি হওয়ায় মানুষের চলাচল বেশী। তাই যানবাহনের গতি বেশী থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার-রশিদপুরের মধ্যবর্তী এলাকাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ওই এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি দুই ট্রাকের সংঘর্ষে আহত হন ৬ জন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরস্থ আলীনগর-সাবসেন রাস্তার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওসমানী নগর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার নবকুমার বলেছেন, চালক ঘুমে থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের রশিদপুরস্থ তাজমহরম এলাকায় কার্ভাড ভ্যান-ট্রাক ওভারটেক করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এসময় ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

একইভাবে গত বছরের (৯ ডিসেম্বর) দক্ষিণ সুরমার আলীনগর এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে পা থেঁতলে যায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। এই ঘটনায় আহত হয় আরেকজন। নিহত নুরুল বখত (৩৫) দক্ষিণ সুরমার সিলাম টিলাপাড়ার মৃত আকমল বখতের ছেলে। আহত একই বাড়ির বিরাই বখতের ছেলে সাহেল(২০)। তারা দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

এর আগে ওই বছরের (২০ সেপ্টেম্বর) তাজমহরম গ্রামের রাস্তার সামনে প্রাইভেটকারের চাপায় বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে ওভারটেক ও অসচেতনতার কারণে। সড়কের পাশে বাসা বাড়ি থাকায় সড়ক পারাপারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। মহাসড়কে গাড়ি চলাচলে নির্ধারিত গতি বাস্তবায়ন ও মহাসড়কের সাথে যুক্ত গ্রামের রাস্তাগুলোতে জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করলে হয়তো সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মহাসড়কে আমরা ইতোমধ্যে গতি ও ওভারটেকিংয়ের সাইনবোড লাগিয়ে দিয়েছি। সড়কের মোড়ে ও বাঁকা সাইটগুলোতে লাইট বসানো হয়েছে।

গাড়ির গতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি বলেন, জেব্রাক্রসিং মানুষের পারাপারের জন্য, গাড়ির গতি কমাতে স্প্রিড ব্রেকারে বিকল্প নেই। খুব শিগগিরই দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় জেব্রাক্রসিং, স্প্রিড ব্রেকার ও রোর্ডসাইনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।


সিলেট প্রতিদিন / এসএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স