বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

‘আমি সরকার দলের লোক... তরে বাইন্ধা রাখমু’

  • প্রকাশের সময় : ১৯/০২/২০২২ ১০:০৩:৩২
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
10

৯ মাসের বকেয়া বিল আদায় করতে গিয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা।

বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের মারতে ক্রিকেট খেলার ব্যাট নিয়েও তেড়ে আসেন আওয়ামীলীগ নেতা রুহুল আমীন।

এসময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে পেটানোর হুমকিও দেন। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার পর বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম আলীবর্দী খান সুজন বাদী হয়ে রুহুল আমীনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রুহুল আমীন নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই গ্রামের রজব উল্লার ছেলে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রুহুল আমীন ক্রিকেট খেলার ব্যাট নিয়েও পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীদের মারতে বার বার তেড়ে যান । ‘আমি সরকার দলের লোক’ দাবি করে ভিডিওতে শোনা যায় তার মুখে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ। পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীদের দা দিয়ে কুপানোর হুমকিও দেন।

একবার তাকে বলতে শুনা যায়, ‘আমি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। তরে বাইন্ধাঁ রাখমু  (বেঁধে রাখবো), পুলিশ আইয়া নিবো (পুলিশ এসে উদ্ধার করবে)। পুনরায় সংযোগ চালু না করলে বেঁধে পেটানোর হুমকিও দেন।

পল্লী বিদ্যুতের সূত্র বলছে, ৩৫০/১২৪০ হিসাব নম্বরের মিটারটি রুহুল আমীনের পিতা রজব উল্লার নামে রয়েছে। বতর্মান রুহুল আমীন ওই মিটারটি ব্যবহার করছেন। তাদের হিসাবে ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ১ শত ৮৪ টাকা বকেয়া বিল রয়েছে।

এই বিল পরিশোধের জন্য বার বার তাগিদ দেওয়া হলেও তা কানে তোলেননি আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন।  মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বকেয়া বিল আদায়ের জন্য নবীগঞ্জ  উপজেলার দত্তগ্রামস্থ রুহুলের বাড়িতে হাজির হন নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পলাশ মাহমুদ, সহকারী এনফোর্সমেন্ট কো-অডিনেটর মাকসুদ আহমেদসহ ৬-৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি।

এ সময় বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বিদ্যুৎকর্মীরা। এতে চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন আওয়ামীলীগ নেতা রুহুল আমীন। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারিদের মারতে বার বার তেড়ে যান।

এ ঘটনায় বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম আলীবর্দী খান সুজন বাদী হয়ে রুহুল আমীনকে আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন বলেন, আমার কিছু বকেয়া বিল ছিল, এজন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা আমার বাড়িতে যান, আমি বাড়িতে না থাকায় মোবাইল ফোনে তাদের কাছে কিচ্ছুক্ষণ সময় চাই, কিন্তু কোনো ধরনের সময় না দিয়ে তারা আমার সংযোগটি কেটে ফেলেন, এরপর উনাদের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়।আমি পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বকেয়া বিল পরিশোধও করেছি। 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নবীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম আলীবর্দী খান সুজন বলেন, ৯ মাস বকেয়া বিল আদায় করার জন্য আমার অফিস থেকে কয়েকজন লোক রুহুল আমীনের বাড়িতে যায়।

এ সময় বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় তার বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের লোকজনকে মারতে ক্রিকেট খেলার ব্যাট নিয়ে তেড়ে আসেন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, পরে তিনি বকেয়া বিল পরিশোধ করেছেন তবে তার বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে, রুহুল আমীনকে আসামি করে ইতিমধ্যে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ বলেন, অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা অভিযোগ দেবে বলেছে, এখনো অভিযোগ পাইনি। পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, বকেয়া বিল চাইতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বিষয়টি দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রুহুল আমীন ইতিপূর্বেও নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন। ২০১৬ সালে নবীগঞ্জ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্রীর শরীর স্পর্শসহ শ্লীলতাহানী করে আটক হন। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


সিলেট প্রতিদিন / এলএস


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স