বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

অ্যাম্বুলেন্সের চালক ভাই কেন এতো অমানবিক!

  • প্রকাশের সময় : ১৫/০২/২০২২ ০৩:২৬:৩৪
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
18

সিলেট মেট্রোপলিট পুলিশের নায়ক মো.সফি আহমদ পিপিএম কে না চেনন। করোনা শুরু থেকে এখনো দিন-রাত অসহায় মানুষের জন্য খাবার থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবায় সহযোগীতার হাত বাড়ি দিচ্ছেন। আর এই সকল মানুষকে সহযোগীতি করতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলেন সফি। এবার সেই সফি অগ্নিদগ্ধ এক শিশুর ছাড়পত্র দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেন। শিশুটির ছাড়পত্র তার পরিবারের লোকজনের কাছে পৌঁছে দিতে এ্যাম্বুলেন্সের চালককে হাতে পায়ে ধরে মন গলাতে পারেনি। মোটরসাইকলে নিয়ে রাস্তার মধ্যে পড়েছিলেন সফি ও তার বন্ধু।

অ্যাম্বুলেন্সের চালক ভাই কেন এতো অমানবিক! সোমবার এমনি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মো.সফি আহমদ তার নিজের ফেসবুক আইডিতে।

সিলেট প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য তাঁর সেই স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো- আপনি জানেন কি মানুষ কতোটা অসহায় হলে অন্য একজন মানুষের সাহায্য নিতে চায়। হে আমি জানি কি ভাবে জানি জানতে চান। হে বলছি...১৩-০২-২২ তারিখে রাত ১১ টায় ওসমানী হাসপাতালে থেকে #ছাড়পত্র নিয়ে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল ভাই ও সাংবাদিক সাজলু লস্কর ভাইয়ের সহযোগীতায় আগুনে পোড়া লাবিবা (৫) কে সরকারী এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বার্ণ ও সার্জারী হাসপাতাল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স টা যখন লালাবাজার যায় তখন মনে পড়ে তার ছাড়পত্র রবি ভাই কাছে রয়ে গেছে। আমরা সাথে সাথে কল দিয়ে তাদের আসতে বলি কারণ ছাড়পত্র ছাড়া রোগী ভর্তি করবে না। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স #ড্রাইভার ভাইকে এতো করে বললাম আপনি গাড়িটা ঘুরিয়ে আসেন আমরাও এগোচ্ছি কিন্তু তিনি আসবেন না, কেন আসবেন না তাও বলতে পারছেন না।

অসহায় মহিলা পায়ে ধরলেও উনি ফিরে আসবেন না এমন কি আমার সাথে কথাও বলবেন না। আমি আর রবি ভাই বাইক নিয়ে এই টান্ডার মাঝে যাচ্ছি এমন সময় রাস্তায় ফেলে থাকা অ্যাটেল মাটিতে সিলিপ করে আমাদের বাইক কন্ট্রোল করতে পারিনি রাস্তায় পড়ে যাই। জায়গায় চন্ডিপোল বাইপাস এর সামনে, পচন্ড ব্যাথা নিয়ে বললাম ভাই আপনি গাড়িটা নিয়ে আসেন আমরা এক্সিডেন করেছি তার পরেও আসলেন না। নিষ্ঠার পৃথিবীতে একটা গাড়িও দাঁড়ালো না অন্ধকারে মধ্যে রাস্তার পাশে রবি ভাই শোয়ে আছে আমি বসে আছি বার বার কল দিলেও উনি আসবেন না।

পরে সাজলু লস্কর ভাইকে কল দিলে ভাই বললেন আমাকে নম্বর দাও, আমি দিলাম, ভাই কথা বলে বললেন সে চলে যাক আমি ভর্তি করার সময় দেখবো। পরে রোমান ভাই কে কল দিলে সে সুহেল ভাইয়ের সিএনজি নিয়ে আমাদের নিয়ে আসে। আমরা ভালো আছি কিন্তু মন ভালো নেই...আমরা হাতটা যখন ড্রেসিং করা হয় তখন যে পরিমাণ ব্যাথা পেয়েছি তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি কষ্ট পেয়েছি আমাদের বাজে খবর পেয়েও উনি আসলেন না। ছাড়পত্র ছাড়াই রোগীকে যেতো হচ্ছে ঢাকায়।

ওসমানী হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ভাই এতো অমানবিক হলেন কি করে। যেখানে মানুষের জন্য দিন রাত সব শেষ করে দিচ্ছি সেখানে আমাদের এতো বড় ক্ষতি হয়েছে জেনেও আসলেন না।

এরপর অপর একটি স্ট্যাটাসে সফি আহমদ পিপিএম লেখন-অবশেষে ছাড়পত্র ছাড়াই লাবিবাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ঢাকায় ভর্তি করা হলো। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইলো। আপনাদের দেওয়া ১১,৪০০/- টাকা মেয়েটার মায়ের হাতে তোলে দিলাম। বাকি যে টাকা জমা হবে এটা আমাদের ভলেন্টিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবো। যে কোনো প্রয়োজনে ০১৭১৪৩৬৩৪৮৬।


সিলেট প্রতিদিন / এমএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স