ওয়েছ খছরু: সিলেট আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অবস্থা কাহিল। ইউপি নির্বাচনে তছনছ করে দিয়েছে দলের সাংগঠনিক অবস্থা। তৃণমূলে বেড়েছে দূরত্বও। বিষয়টি অনুধাবন করেছেন জেলার নেতারা। এ কারণে খুব দ্রুতই তারা আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে সাজাতে চান। হাতে নিয়েছেন কর্মসূচিও। এরইমধ্যে দেয়া হয়েছে কিছু নির্দেশনাও। যে ৬টি উপজেলায় বর্ধিত সভা হয়নি সেই উপজেলাগুলোতে চলতি মাসের মধ্যে বর্ধিত সভা করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
শেষ হওয়া ইউনিয়ন নির্বাচনে এবার তেমন সুবিধা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তবে- বিদ্রোহী মিলে ফল আশানুরূপ। ইউপি নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- সিলেটে নৌকার প্রার্থী হয়ে ৩৬ জন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে। মোট ৮৫টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকার এই ফলাফল। আর বিদ্রোহীরা জয়লাভ করেছেন ১৩ জন। এর বাইরে বিএনপি ঘরানার ১৬ ও জামায়াতে ইসলামী ঘরানার ৯ জন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন; সিলেটে ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ছিলেন। বিদ্রোহীরাও দলের ভোট টেনেছেন। সার্বিকভাবে সিলেটে দলীয় ভোট কমেনি। বরং বেড়েছে। তবে- নির্বাচনে একই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার কারণে তৃণমূলের নেতারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। এ কারণে খুব দ্রুতই তৃণমূল সাজানোর কাজ শুরু করা হবে।
গত শনিবার এ নিয়ে সিলেটে বর্ধিত সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এই বর্ধিত সভায় সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার পর বাকি থাকা ৬টি উপজেলায় চলতি মাসেই বর্ধিত সভার আয়োজন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জসহ আরও ১টি।
এ ছাড়া- বর্ধিত হওয়া শেষ হয়ে যাওয়া ৭টি উপজেলার নেতাদের তৃণমূল সাজাতে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটি নতুন করে গঠন করা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মজির উদ্দিন জানিয়েছেন- প্রায় এক যুগ আগে সিলেট আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে সাজানো হয়েছিলো। অনেক ওয়ার্ডে কমিটি নেই।
এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইকালে এসব দুর্বলতা ধরা পড়েছে। এ কারণে নতুন করে তৃণমূলকে সাজাতে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করার পর ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। এরপর যেসব উপজেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে সেগুলোকে সাজানো হবে। করা হবে উপজেলা সম্মেলনও।
তিনি জানান- ‘জেলা নেতাদের নির্দেশে আমরা তৃণমূলের দিকে নজর দিচ্ছি। আর সেখানেও ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান তিনি।’
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছেন জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এবার তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন নাসির উদ্দিন খান। তাদের টিমওয়ার্ক বেশ শক্তিশালী। এ কারণে এবার জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গতিশীল হয়ে উঠেছে। ইউপি নির্বাচনে তাদের অভিজ্ঞতা তিক্ত। এই অভিজ্ঞতা থেকে সিলেট আওয়ামী লীগের তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে তারা নতুন করে মাঠে নামছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন- ‘আগামীতে জাতীয় নির্বাচন। সিলেটে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই ভোটব্যাংক ধরে রেখেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই। আমরা তৃণমূলের নেতাদের মূল্যায়িত করতে এবার উদ্যোগ নিচ্ছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল সিলেটের মানুষ পাবে। তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করবো।’
এদিকে- গত শনিবারের বর্ধিত সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যে সকল নেতাকর্মীরা পরিশ্রম করছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। একইসঙ্গে বিজয়ী দলীয় প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের পরিচালনায় বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ আশফাক আহমদ, এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, ড. আহমদ আল কবির, মুক্তিযোদ্ধা সাদ উদ্দিন আহমদ, এডভোকেট শাহ মো. মোসাহিদ আলী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন ইসলাম কামাল, মোহাম্মদ আলী দুলাল, কবীর উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান, সাইফুল আলম রুহেল, এডভোকেট রনজিত সরকার, আইন সম্পাদক এডভোকেট আজমল আলী প্রমুখ।




ওয়েছ খছরু



