এনামুল কবীর :: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির রাজনৈতিক তৎপরতা ইদানিং নজর কাড়ছে সচেতন মহলের। বিশেষ করে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠনের ব্যাপারে তারা সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। আর এসব কারণে বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীরা অনেকটাই চাঙা। এর বিপরীতে আওয়ামী ঘরানার নেতাকর্মীদের মদ্যে হাতাশার দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ থেকে আরও দীর্ঘই হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি অনেক আগে গঠন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। তবে দলটির সাথে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে তাদের আওতাধীন প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি উপজেলা কমিটিগুলোও গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ অবস্থায় তারা খুব তাড়াতাড়ি সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে অতি সম্প্রতি। আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীকে আহ্বায়ক ও মিফতাহ সিদ্দিকীকে সদস্যসচিব করে গঠিত এই কমিটি কাজ করছে দ্রুত। তারা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ৯টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী। তারা দ্রুত ওয়ার্ড কমিটি গঠনে কাজ করছেন।
এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কয়েস আহমদ জানান, ইতিমধ্যে সিলেট জেলার ১৮টি উপজেলা ও পৌর ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখন চলছে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি গঠন। তাও প্রায় ৬০ ভাগের মতো শেষ। তিনি জানান, মহানগর যুবদলের কার্যক্রমও এগিয়ে চলেছে। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি সক্রিয়।
এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল ও ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলার কমিটি গঠন করে ফেলেছে। কমিটিতে আসা নেতৃবৃন্দ এখন মহা উৎসাহে কাজ করছেন। তবে কিছু কিছু উপজেলা থেকে অসন্তোষের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে প্রায় বছর দু’য়েক আগে। তারা সাংগঠনিক তৎপরতায় বেশ ভালো অবস্থানে। তবে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।
সিলেট জেলা ও মহানগর তাঁতী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও আওয়ামী ঘরানার অন্যান্য সংগঠনের অবস্থা তেমন একটা ইতিবাচক নয়।
যেমন সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের কথাই ধরুন। ১৪ বছর পর ভোটের মাধ্যমে জেলা ও মহানগর যুবলীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয় ২০১৯ সালের ২৭ ও ২৯ জুলাই। জেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শামীম আহমদ ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমদ। আর মহানগর যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মুশফিক জায়গীরদার।
সেই শেষ। এরপর আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। নানা সময়ে নানা কারণে আটকে আছে তা। কখনো করোনা, কখনো নির্বাচন, উপনির্বাচন ইত্যাদি কারণ উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। তিন বছর মেয়াদী কমিটির প্রায় আড়াই বছর শেষ হয়ে গেলেও এখনো, কবে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না নেতৃবৃন্দ। বলছেন হবে। এদিকে জেলা যুবলীগের অধিনস্ত উপজেলা যুবলীগও চলছে পুরানো কমিটিতে। একই দশা মহানগর যুবলীগেরও।
এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিও ছিলনা দীর্ঘদিন। অতিসম্প্রতি তাদের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে গঠন হবে- কেউ না জানলেও সম্প্রতি সিলেট প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে উভয় ইউনিটের নেতৃবৃন্দই জানিয়েছিলেন যতদ্রæত সম্ভব তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন। ইতিমধ্যে তারা প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছেন।
খোঁজ নিযে জানা গেছে সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সবেমাত্র শুরু হয়েছে।
অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন কার্যক্রমে এমন স্থবিরতার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমদ ভিপি বলেন, আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। কেন্দ্র চাইলেই আমরা কমিটি জমা দিতে পারি।
জাতীয়তাবাদী ঘরানার সাম্প্রতিক তৎপরতার দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, তারা বিরোধী দলে বা ক্ষমতার বাইরে আছেন। তাই তাদের তোড়জোড় একটু বেশী। এটি কোন বিষয়ই না।
সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তিও জানালেন, তাদের কমিটি প্রস্তুত। সবকিছু এখন কেন্দ্রের উপর নির্ভর করছে। তারা বললেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি জামা দিবেন মুক্তি-মুশফিক।
তবে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি নিয়ে তোড়জোড় প্রসঙ্গে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করলে আমরা অবশ্যই শক্তিশালী।
বিএনপি আগামী বড় ধরনের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে কি না, সে প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, না না। ওরকম কিছুনা।




এনামুল কবীর



