মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম: তাহলে কী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদই থাকছেন এমন প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে নগরজুড়ে। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সিলেট সফরের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।
সিলেট সফরকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আলাদা ভাবে শাবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্যের অপসারণের দাবি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে আচার্য্যকে জানানো হবে তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
অন্যদিকে, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তার নিজ দায়িত্ব পালন করে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শুক্রবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি ) সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যসহ শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় এই পরামর্শ দেন তিনি। আলোচানা শেষে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন।
শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর থেকেই উপস্থিত সাংবাদিক ও নগরজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয় তাহলে কী শাবিতে ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদই থেকে যাচ্ছেন। মিডিয়াপাড়াসহ সিলেট নগরজুড়ে এমন আলোচনা ছিলো দিনভর। উপাচার্যের পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা হতে দেখা যায় নগর জুড়ে। কেউবা ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পক্ষে আবার কেউ বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে অধিকাংশের মতে শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে যাবেন। তাদের মতে সরকার তাঁকে সরাতে চাইলে অনেক আগেই সরিয়ে নিতো।
প্রসঙ্গত, শাবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের অসদাচরণের প্রতিবাদে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে ওই হলের ছাত্রীদের মাধ্যমে সূচিত হয় আন্দোলন।
মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা অবধি সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করায় পূর্বঘোষণা অনুসারে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজনের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ জনের সাথে গতকাল আরও ৫ শিক্ষার্থী যোগ দেন।
২৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশনকারীদের অনশন ভাঙ্গার অনুরোধ করেন। এসময় অনশনকারীরা তাদের অবস্থান জানাতে শিক্ষার্থীদের কাছে এক ঘন্টা সময় চান। এরপর প্রায় দুই ঘন্টা পর তারা অনশন ভাঙ্গবেন না বলে জানিয়ে দেন।
এরপর বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে অনশনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের হাতে পানি পান করে ১৬৩ ঘণ্টার অনশন ভাঙেন।




মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম



