রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

সিলেটে শুধুই নির্দেশনা, তদারকির নেই কেউ

  • প্রকাশের সময় : ১২/০২/২০২২ ০১:৫২:৪২
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
20

মশাহিদ আলী : হঠাৎ করেই সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার দুই দফায় করোনার সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিলেটেও সেই সব বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হচ্ছে কাগজ আর কলমে। আর রাস্তায় গাড়ি দিয়ে মাইকিং করে। কিন্তু বাস্তব অর্থে স্বাস্থ্যবিধি বা সরকারের নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না কেউ। নেই কোনো তদারকিও। তবে জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

জানা যায়, সিলেটে গত কয়েক মাস করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে এসেছিল। কমেছিল মৃত্যুর হার, বেড়েছিল সুস্থ রোগীর সংখ্যা। এতে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। চলাচল ছিল বেপরোয়া। হাট-বাজার, মার্কেট সকল স্থানে বেড়েছে মানুষের ভিড়। তবে হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পালটে যায়। সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীন সিলেটের মানুষ। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মাস্ক না পরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেশি। যেন প্রাণঘাতী করোনার ভয়াবহতাকে পাত্তাই দিচ্ছে না তারা।

জানুয়ারি শেষ ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সিলেটে করোনা নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিল বেশি এ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন সবাই। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে শনাক্তের হার কমেছে। তবে- এ নিয়ে চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন-সিলেটে স্বাস্থ্য বিধি না মানায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মাস্ক না পরা, দূরত্ব বজায় না রাখা এবং সামাজিক অনুষ্ঠানাদি পালনে সতর্ক হচ্ছেন না কেউ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়,

১.উন্মুক্ত স্থানে ও ভবনের ভেতরে সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ১০০-র বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে যারা যোগ দেবেন তাদের অবশ্যই কোভিভ টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে।

২.দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

৩.অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় রোধে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

৪.রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে বিধি নিষেধের কোনো কিছুই মানছেন না। দোকান-শপিংমলের সামনে দেখা যায় শুধু কাগজ দিয়ে লেখা রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য। স্বাস্থ্যবিধি কাগজ আর কলমেই সীমাবদ্ধ। ক্রেতা ও বিক্রেতা সবাই উদাসীন স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে। মার্কেট আর শপিংমলের মতো হোটেল ও রেঁস্তোরার মালিকরাও দায় সারচ্ছেন ফেস্টুন টাঙিয়ে।

সিলেটের বিভিন্ন হোটেল ও রেঁস্তোরা থেকে খাবার সংগ্রহ বা বসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হচ্ছেনা। কিছু মানুষ এ বিষয়ে অসচেতন হলেও হোটেল কর্তৃপক্ষের আচরণ আরো উদাসীন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ভ্যাকসিন সনদ আছে কি-না তা যাচাই করছে না হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। তারা কেবল নিজেদের ব্যবসা ঠিক রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পানসি রেষ্টুরেন্টের মার্কেটিং ম্যানেজার রুবেল আহমদ বলেন, বসে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে হোটেল ও রেঁস্তোরার লোকদের ভ্যাকসিন সনদ দেখাতে হবে এ তথ্য অধিকাংশ লোকই জানে না। আর খাবার খেতে বা নিতে আসা মানুষজন ভ্যাকসিন সনদ সঙ্গে আনছেন না। আমরা তাদের সচেতন করছি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক ডা.হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন- সিলেটে করোনা পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্থিতিশীল। যদি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য সবাইকে মাস্ক সহ করোনার সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো.মজিবর রহমানের সাথে। তিনি জানিয়েছেন-ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রামমান আদালত। জরিমানা করা হচ্ছে নিয়মিত। হোটেল মালিকরা রেষ্টুরেন্টের বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন টিকা সনদ ছাড়া যাতে কেউ রেষ্টুরেন্টে প্রবেশ না করেন। তাছাড়া আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত তদারকি করছেন। মালিকদের সাথেও তাদের সাথে কথা হয়েছে।


সিলেট প্রতিদিন / এমএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স