হবিগঞ্জে বিভিন্ন বসতবাড়ি ও আঙিনা থেকে ১৩৭টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে পাঁচটি সাপের ডিম। এত বিপুলসংখ্যক সাপ একসঙ্গে কোথায় অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে বন বিভাগ। জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি কোনো বনে সাপগুলো ছেড়ে দিলে মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় প্রাথমিকভাবে রেমা-কালেঙ্গা বনে অবমুক্তির পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের জেলা সদস্য রবি কাস্তা বিভিন্ন বাড়িঘর থেকে সাপগুলো উদ্ধার করে হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে সাপগুলো বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেগুলো বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা সাপের মধ্যে রয়েছে ৭০টি পদ্মা গোখরা, ৬০টি খইয়া গোখরা ও পাঁচটি দারাশ। এ ছাড়া একটি মা দারাশ, একটি মা খইয়া গোখরা এবং পাঁচটি ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাপ ও ডিমের সংখ্যা ১৪২টি। এর মধ্যে সাপ ১৩৭টি। উদ্ধার করা কয়েকটি ডিম থেকে ইতিমধ্যে বাচ্চাও ফুটেছে।
প্রাথমিকভাবে সাপগুলো রেমা-কালেঙ্গা বনে অবমুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে এতগুলো বিষধর সাপ একসঙ্গে সেখানে ছেড়ে দিলে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়।
হবিগঞ্জের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বিষধর সাপগুলো বর্তমানে আমাদের জিম্মায় রয়েছে। সবগুলোকে রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে।’
চুনারুঘাট বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং বন্যপ্রাণীবিষয়ক গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, এতগুলো বিষধর সাপ সাতছড়ি কিংবা ছোট আয়তনের অন্য কোনো বনে অবমুক্ত করা হলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকতে পারে। তাই সাপগুলোর জন্য বড় কোনো বনাঞ্চল বা উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল বেছে নেওয়া প্রয়োজন। কোথায় অবমুক্ত করলে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, সেটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সাপগুলো অবমুক্তির উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




হবিগঞ্জ প্রতিনিধি



