এনামুল হক মুন্না
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ রাতে রোগী দেখতে গিয়ে প্রত্যক্ষ করলাম দুই ওয়ার্ড ছাপিয়ে ফ্লোরে অনেক রোগী শুয়ে আছেন। জরুরী বিভাগেও রোগীদের প্রচন্ড ভীর।
আমি যতটুকু জানি ৪১ জন ডাক্তারের মধ্যে ৫ জন, নার্স ২৮ জনের মাঝে ১২ জন রয়েছেন। এক্সরে ও এনজিওগ্রামের টেকনেশিয়ান নেই। যেটি অন্য বিভাগ থেকে কাভার দেওয়া হচ্ছে। চালক থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। এর পরও প্রাথমিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এর ভাড়া কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের মানুষের চাহিদা বেশি।
ফলে সমস্যা, সংকট প্রকট। ইতোমধ্যে এমপি, ডিসি, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম আমরা। আশ্বাস দিয়েছিলেন জকিগঞ্জকে অগ্রাধিকার দেবেন।
মূলত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার আগে এমপি মহোদয় নিজেই ফোন দিয়ে বলেন মুন্না হাসপাতালে উপস্থিত হবেন। তিনি খুবই তৎপর সমস্যা নিরসনে। অথচ তেমন একটা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বা অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোন প্রোগ্রামে গেলে বা পরিচিত রোগীরা একটু সহযোগিতার জন্য বললে প্রায় সময় হাসপাতাল ভিজিট করতে হয়। সেই সুবাদে ওয়ার্ডের রোগীদের ভোগান্তি আর কষ্টের কথাগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলি। যদিও ফেসবুক আইডিতে এসব দেওয়া হয় না। তবে এ সংক্রান্ত সংবাদ পত্রিকা বা নিউজ পোর্টালে প্রকাশ হয়ে থাকে।
সত্যি বলতে হাসপাতালটি নিজেই অসুস্থ, সেখানে অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করবে কিভাবে? তবুও দেখলাম স্বাস্থ্য কর্মীরা রোগীদের সুস্থ করতে প্রাণান্তকর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্লিনার কম থাকার পরও অনেকটা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন দেখেছি।
আশাকরি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লাখো মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল সিলেটের "জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স" এর সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত এগিয়ে আসবেন, সেটিই আমাদের প্রাণের দাবি।
লেখক : সেক্রেটারি জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব।




এনামুল হক মুন্না, জকিগঞ্জ



