সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিল ব্যবস্থাপনা ও বিতরণ কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চরম অসংগতি ও হযবরল পরিস্থিতি। আগের দিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরদিনই গ্রাহকদের হাতে এসে পৌঁছাচ্ছে নতুন বিল, যেখানে জরিমানাবিহীন বিল পরিশোধের শেষ তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র একদিন বা পরের দিনই! পল্লী বিদ্যুতের এমন ‘ভৌতিক’ ও হঠকারী কাণ্ডে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের ফরিদপুর ও পশ্চিম ভাগ এলাকায় এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহকের হাতে চলতি নভেম্বর মাসের ৫ তারিখকে বিগত মাসের জরিমানাবিহীন বিল পরিশোধের শেষ দিন উল্লেখ করে নতুন বিলের কাগজ পৌঁছে দেন সংশ্লিষ্ট মিটার রিডার ও বিল বিতরণকারী কর্মকর্তারা।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বিল তৈরি, বিতরণ এবং পরিশোধের শেষ তারিখের মধ্যে ন্যূনতম কোনো সামঞ্জস্য বা বাস্তবসম্মত ব্যবধান রাখা হচ্ছে না। ফলে নিয়মিত ও সময়মতো বিল পরিশোধ করেও অনেক গ্রাহককে নতুন করে অযথা দুশ্চিন্তা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা নির্ধারিত বুথের মাধ্যমে বিল পরিশোধকারী গ্রাহকেরা এ নিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অনেক সময় মনগড়া ও ইচ্ছামতো তারিখ নির্ধারণ করে গ্রাহকদের ঘাড়ে বিল চাপিয়ে দেয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মতো হয়রানিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে গিয়ে গ্রাহকদের নানা ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানের এমন খামখেয়ালি আচরণে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক আজমল খান বলেন, "বিল প্রস্তুত, বিতরণ ও তথ্য হালনাগাদে চরম সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের বিলিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে আমাদের মনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একজন গ্রাহক পূর্বের বিল নিয়মমতো পরিশোধ করার পরদিনই যদি পরবর্তী বিল হাতে পেয়ে দেখেন যে পরিশোধের শেষ দিন অতি সন্নিকটে বা পরদিনই, তবে তা চরম উদ্বেগজনক।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের এমন যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে নিরপরাধ গ্রাহকদের বিনা কারণে বিলম্ব মাশুল বা অতিরিক্ত আর্থিক জরিপাণার মুখে পড়তে হতে পারে। দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধন ও গ্রাহক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এ ধরনের অসংগতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিল প্রস্তুতের তারিখ, গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর সময় এবং পরিশোধের শেষ সীমার মধ্যে যৌক্তিক ব্যবধান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি তথ্য হালনাগাদ করার অনলাইন ব্যবস্থাও আরও গতিশীল করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আব্দুর রশীদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



