রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন
শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা

হাফিজ আফতাব মিয়া ছিলেন একজন কুরআনের প্রকৃত খাদেম

  • প্রকাশের সময় : ২০/০৯/২০২৬ ২১:০৫:০১
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
2

সাহিত্য পত্রিকা প্রতিভাত সম্পাদক, দক্ষিণ সুরমা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক কাজির বাজার পত্রিকার দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি কবি ও সংগঠক এম. আলী হোসাইন’র পিতা দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের প্রবীণ মুরব্বী আলহাজ্ব হাফিজ মোঃ আফতাব মিয়ার মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে গত শনিবার বিকেলে নগরীর স্টেশন রোডস্থ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।


দক্ষিণ সুরমা সাহিত্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি দেওয়ান মতিউর রহমান খাঁন এর সভাপতিত্বে ও দৈনিক বার্তা বাহক, সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কবি নূরুদ্দীন রাসেল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কবি সাহিত্য সমালোচক মামুন সুলতান, প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ ফুলর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার ও কবি বাবুল আহমদ, সিলেট ছড়াপরিষদের সহসভাপতি ছড়াকার অজিত রায় ভজন, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সদস্য, সংগঠক লুৎফুর রহমান, কবি, সংগঠক ও নাট্যকার ধ্রুব গৌতম এবং অনুভূতি প্রকাশ করেন মরহুম হাফিজ আফতাব মিয়ার পুত্র কবি এম. আলী হোসাইন। শুরুতে কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ রুহেল আহমদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা সাহিত্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সুরমা মেইলের চীফ রিপোর্টার কবি ও সংগঠক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।


শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেছেন, হাফিজ আফতাব মিয়া ছিলেন একজন প্রবীণ হিতৈষী, নিরহংকার, নির্লোভ, ধর্মপ্রাণ ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ আল্লাহওয়ালা মানুষ এবং পবিত্র কোরআনের একনিষ্ঠ খাদেম। দীর্ঘ জীবনে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার, মসজিদ-মাদ্রাসার খেদমত এবং মানুষের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর কর্মময় জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে ইমামতি ও শিক্ষকতার মহান পেশায়।


অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কবি ও সংগঠক কামাল আহমদ, দৈনিক সচিত্র সিলেট পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি সৈয়দ আছলাম হোসেন, অনুপ্রাণন সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দন, মাসিক প্রতিভাত এর বিভাগীয় সম্পাদক ও যুব সংগঠক ফয়ছল আহমদ। 

‎‎

বক্তারা বলেন, হাফিজ আফতাব মিয়া ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন ‘কোরআনের পাখি’। পবিত্র কোরআনের শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি আজীবন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইমামতি ও শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখছেন।


শোকসভায় বক্তারা আরও বলেন, হাফিজ আফতাব মিয়া শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অনেক শিক্ষকেরও শিক্ষক। ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন শিক্ষায় তাঁর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের সাধনা তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর যথেষ্ট যশ-খ্যাতি ছিল। তবে খ্যাতি কিংবা সামাজিক মর্যাদা কখনো তাঁর বিনয় ও সরলতাকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, বিনয়ী ও নিরহংকার প্রকৃতির মানুষ।


বক্তারা বলেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিজের জন্য কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা না করে অন্যের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর স্বভাব। তাঁর জীবনাচরণে ধর্মীয় অনুশাসন, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।


শোকসভায় বক্তারা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, হাফিজ আফতাব মিয়ার মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, ছাত্র-শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বৃহত্তর সমাজ একজন অভিভাবকসুলভ মানুষকে হারিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে তাঁর অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর কাছে তিনি ছিলেন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর চলে যাওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।


বক্তারা আরও বলেন, মানুষের জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত থাকে তার কর্ম ও আদর্শের মধ্যে। হাফিজ আফতাব মিয়া তাঁর দীর্ঘ জীবনের কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পরও সেই স্মৃতি অমলিন থাকবে। তিনি তাঁর ছাত্র-ছাত্রী, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমাজের মানুষের মাঝে তাঁর আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন।


দোয়া মাহফিলে বক্তারা মরহুম হাফিজ আফতাব মিয়ার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 


দোয়া মাহফিলে মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মরহুমের জীবনের সকল নেক আমল কবুল, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এ অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান এবং মরহুমের রেখে যাওয়া নেক আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করা হয়।


হাফিজ আফতাব মিয়ার মতো নির্লোভ, নিরহংকার, ধর্মপ্রাণ ও মানবিক মানুষ সমাজে বিরল। তাঁর জীবন থেকে নতুন প্রজন্ম ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, বিনয়, মানবসেবা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা নিতে পারে। তাঁর কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।


সবশেষে মহান আল্লাহপাকের কাছে দোয়া করা হয়, তিনি যেন মরহুম হাফিজ আফতাব মিয়াকে ক্ষমা করে দেন, তাঁর কবরকে নূরে ভরিয়ে দেন, কবরের আজাব থেকে হেফাজত করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আ-মীন দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ রুহেল আহমদ। 


এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সোহেল, প্রচার-প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক এমরান ফয়ছল, সদস্য মো: নজরুল ইসলাম, দৈনিক বার্তা বাহক পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার লিমন আহমদ ও আব্দুল আহাদ, কবি জালাল জয়, আব্দুল মতিন প্রমুখ।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স