জৈন্তাপুরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাকারবারীরা। তাদের পথের কাটা হলে হুমকির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। চোরাকারবাীদের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রশাসনকে সহযোগিতার অজুহাতে এক যুবককে অপহরণ করেছে তারা। থানায় অভিযোগ দাখিলের পর পুলিশের সহযোগিতায় অপহৃত যুবক উদ্ধার, আটক করা হয় অপহরণে জড়িত এক চোরাকারবারীকে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লালাখাল সীমান্তে বিজিবি ভারতীয় নাছির বিড়ি ও মাদকদ্রব্য আটক করে। বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাকারবারী জহিরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, হারিছ মিয়া, মনজুর মিয়া, ফখরুল ইসলাম, সাকিল আহমদ ও আব্দুস শুকুরকে লালাখাল সীমান্ত এলাকায় ধাওয়া করলে তারা মাদক ও নাছির বিড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে উল্লেখিত চোরাকারবারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে।
এক পর্যায় চোরাকারবারীরা পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে চারিকাটা ইউনিয়ননের নয়াখেল পূর্ব গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে তাজুল ইসলাম বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে বলে দায়ী করে এবং তাদের মালামাল আটকের ক্ষতিপূরণ দাবী করে, অন্যতায় প্রাণনাশের হুমকীও দিয়ে থাকে।
গত ৬ মার্চ জৈন্তাপুর উপজেলার ৩নং চারকিাটা ইউনিয়নের চতুল বাজার থেকে লালাখাল রাস্তার মোড়ে ওঁৎপেতে থাকে চোরাকারবারীরা। এসময় অপহৃত তাজুল ইসলামকে জোর পূর্ব চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য চারাকাটা ইউনিয়নের ভিত্রিখেল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে জহিরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, হারিছ মিয়া, এনামুল হক ইমাইর ছেলে মনজুর মিয়া, খলিল মিয়ার ছেলে ফখরুল ইসলাম, লিয়াকত আলীর ছেলে সাকিল আহমদ সহ কয়েক জন চোরাকারবারী তাকে একটি প্রাইভেট গাড়ীতে তুলে অঞ্জাত স্থানে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ভিকটিমের বড় ভাই আলমাছ উদ্দিন জৈন্তাপুর থানা পুলিশে খবর দেয় এবং স্থানীয় লোহজন নিয়ে অনেক খোঁজাখুজি করে। তৎক্ষনাত অপহরণকারীরা তাজুল ইসলামের বড় ভাই আলমাছের কাছে মোবাইল ফোনে ৫লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পুলিশ ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে সন্দহ ভাজন স্থানে তল্লাসি করে কোন সন্দান না পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান করিম ও ইউপি সদস্য জলাল উদ্দিনের সহযোগিতায় তাজুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে অপহৃত তাজুল ইসলামের বড় ভাই আলমাছ উদ্দিন বাদী হয়ে গত ৬মার্চ জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন ( মামলা নং ৭, ১০/০৩/২০২২)। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ৪নং আসামী হারিছ মিয়াকে আটক করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ. আই নিখিল বিশ্বাস জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করি এবং পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে মামলা রেকর্ড করে হারিছ মিয়া নামে একজন আসামীকে আটক করি।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



