শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

আবারও সরব 'এমপি' কয়েসের বাড়ি

  • প্রকাশের সময় : ১১/০৩/২০২২ ০৮:৫৮:৩৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
15

সাজলু লস্কর :: বাড়িটা তেমনই আছে। সামনের মসজিদ, রাস্তা, সবুজ গাছাপালাও আছে। আছে সুরম্য অট্টালিকাসহ আরও অনেক কিছুআছে সেই পুকুর পারও।

কিন্তু নেই একজন, যিনি থাকলে গোটাবাড়িতো বটে, আশপাশ এলাকাও জীবন্ত মনে হতো। সর্বনাশা করোনার বিষাক্ত ছুবলে তিনি আজ থেকে ঠিক একবছর আগে চলে গেছেন জীবনের ওপারে, না ফেরার দেশে। 

গেলো বছরের আজকের এই দিনেই অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী, ভক্ত অনুরাগী, শুভাকাংখী ও আত্মীয়স্বজনকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন গণমানুষের নেতা, সিলেট-৩ আসনের সাবেক সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস।

দেশে থাকলে প্রত্যেক বৃহস্পতি শুক্র ও শনিবার তিনি চলে আসতেন বাড়ি। দলীয় নেতাকর্মী, এলাকার সর্বস্থরের জনসাধারণের মাঝে সময় কাটাতে খুব ভালোবাসতেন। তাই ছুটে আসতেন ফেঞ্চুগঞ্জের নূরপুরের বাড়িতে। সাথে সাথে খবরও হয়ে যেতো। যে ক’দিন বাড়িতে থাকতেন, নেতাকর্মীদের পদচারণায় মোটামুটি সরব থাকতো বাড়িটা। 

তারা আসতেন, আসতেন নানা প্রয়োজনে এলাকার মানুষও। আত্মীয়স্বজন শুভাকাংখীরাও আসতেন, বসতেন। নিজের প্রয়োজনটা জানাতেন, তিনিও মনোয়োগ দিয়ে শুনতেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপন নিতেন। কেউ কেউ তাঁর কথায় বুকভরা শান্তনা নিয়ে ফিরে যেতেন।

প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হতো মানুষের আগাগোনা। ব্যক্তিগত কাজকর্মের পাশাপাশি দলীয় কাজ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধানের উপায় বের করা, নতুন আর কি কি উন্নয়ন প্রকল্পগ্রহণ জরুরী তা আলোচনা বিচার বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছুটে যাওয়া, ইত্যাদি করতে করতে কাটত তাঁর ছুটির দিনগুলো।

তাঁর কাছের একাধিক দলীয় সূত্র জানিয়েছেন, ছুটিছাটায় ঢাকায় অবস্থান তাঁর জন্য ছিল রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর ব্যাপার। নিজেই হাসতে হাসতে বলতেন, এলাকায় গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলা, তাদের সুখদুঃখে পাশে না থাকলে আমি তাদের কিসের নেতা? আর নেতাতো বানিয়েছেন এলাকার মানুষ। আমি তাদের জন্যই রাজনীতি করি।

শুক্রবার ( ১১ মার্চ) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বাড়িতে শিরনি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ একবছর পর আবারও বাড়িটি সরব হয়ে উঠেছিল। অনুষ্ঠানে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। সরব হলেও হারানোর বেদনাও ছিল আগত সচেতন মানুষের মনে। তাদের অনেকেই ঘুরেছেন বাড়ি এবং এর আশপাশ এলাকায়। তারা অনুভব করতে চেয়েছেন তাঁকে হৃদয় দিয়ে। তার সুন্দর আর প্রাণবন্ত আচার আচরণ কথাবার্তার স্মৃতিচারণ করে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আর অধিকাংশের চোখে পানি না থাকলেও ছিল বুকে বা হৃদয়ে। সেখানে শোকের ঢেউগুলো বারবার আছড়ে পড়েছে নদীর তীর ভাঙা ঢেউয়ের মতো।

মাহমুদ উস সামাদ নেই। তাই প্রতি বৃহস্পতি শুক্র বা শনিবার বাড়িটা আর জমজমাট হয়ে উঠেনা। উন্নয়ন কাজ দেখতে এদিক সেদিক ছুটেনা তাঁর ব্যবহৃত গাড়িগুলো। ফেঞ্চুগঞ্জ বা দক্ষিণ সুরমার আপামর জনসাধারনের মনে প্রিয় নেতার জন্য যে রক্তক্ষরণ চলছে এখনো-যেকোন রাজনৈতিক আলোচনায় ঘুরেফিরে তাঁর প্রসঙ্গ যে উঠে পড়ে, এতো তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।


সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স