রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদে আবারও সেই ইয়ানুকোভিচ!

  • প্রকাশের সময় : ০৩/০৩/২০২২ ০৯:১৬:৪১
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
13

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের অষ্টম দিনেও দেশটি নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা স্পষ্ট করেনি ক্রেমলিন। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এরই মধ্যে ইউক্রেনের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হতে পারেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু করে দিয়েছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে আমেরিকাসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো নিজেদের ‘বন্ধু’ দাবি করে অস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জোগান দেয়ার আশ্বাস দিলেও রাশিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতে জড়াবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি সাহায্য করলে রাশিয়ার রোষে পড়বে ভেবেও পিছিয়েছে অনেক দেশ। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি নিজেও সেনাসজ্জা গায়ে তুলেছেন। বন্দুক নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু শেষরক্ষা হবে কি না এ নিয়ে সন্দেহে রয়েছে সারা বিশ্ব।

রুশ হামলার মুখে পড়ে কিয়েভের পতন হলে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের দায়িত্ব কে সামলাবেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তবে এই আবহে কিয়েভের পতনের পর যার নাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম উঠে আসছে, তিনি ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ।

অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫০ সালের ৯ জুলাই ইউক্রেনের ইয়েনাকিভ শহরে ইয়ানুকোভিচের জন্ম। তার মা নার্স এবং বাবা ট্রেনচালক ছিলেন। মাত্র ২ বছর বয়সে মাকে হারানো ইয়ানুকোভিচের শৈশব কাটে চরম দারিদ্রে। ১৯৬৭ সালে ডাকাতির অভিযোগে তিন বছর এবং ১৯৭০ সালে মারামারির কারণে ২ বছর জেলও খেটেছিলেন ইয়ানুকোভিচ। তবে পরবর্তীকালে এই ঘটনাগুলিকে কৈশোর বয়সে করা ভুল হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন তিনি।

১৯৭১ সালে ইয়েনাকিভের নগর আদালতের বিচারপতির ভাইয়ের মেয়ে লুদিমিলা নাসটেনকোকে বিয়ে করেন ইয়ানুকোভিচ। এরপর পড়াশোনা করতে তিনি ১৯৭৪ সালে ডোনেৎস্ক পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হন। পড়তে পড়তে চাকরিও জুটে যায়। কর্মক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় উন্নতি করার পর ১৯৯৬ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন ইয়ানুকোভিচ। ইউক্রেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিওনিদ কুচমা তাকে ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি সেই পদে ছিলেন। এরপর তিনি ২০০৬ সালে নির্বাচিত হয়ে আবার ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন।

অতঃপর, ২০১০ সালে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে শামিল হন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ইয়ানুকোভিচ। ২০১০ সালে ভিক্টর ইউসচেনকো প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরলে তিনি সেই আসনে বসেন। কিন্তু ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রাজনীতিতে গণবিক্ষোভ (মেইডেন রেভোলিউশন)-এর মুখে পড়ে রাজনৈতিক পালাবদল হয়। ইউক্রেন ছেড়ে রাশিয়া পালিয়ে যান ইয়ানুকোভিচ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ইয়ানুকোভিচ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করলে আন্দোলনকারীরা বন্দুক এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কিয়েভের রাস্তায় নামেন। ২০১৩ থেকে লাগাতার গণ-আন্দোলনের মুখে পড়ে সরকার ভেঙে পড়ে। পালিয়ে যান ইয়ানুকোভিচ। ইউক্রেন থেকে পালিয়ে গিয়ে পুতিনের ছত্রছায়ায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে ঠাঁই হয় ইয়ানুকোভিচের। পুতিনের বিশ্বস্ত হিসেবেও পরিচিত হন তিনি।

কিয়েভ নিয়ে ক্রেমলিনের চিন্তাভাবনা স্পষ্ট না হলেও, পুতিন বর্তমান জেলনস্কি সরকারকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে বলেই মত অন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। জেলনস্কিকে সরিয়ে ইয়ানুকোভিচকে ইউক্রেনের গদিতে বসালে পুতিনের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হবে বলেও মত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

তবে সে ক্ষেত্রেও একটি প্রশ্ন থাকছে। ইয়ানুকোভিচকে জোর করে ক্ষমতায় বসিয়ে দিলে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার শর্তে আপাতত ইউক্রেনবাসী তা মেনে নিলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা এই ব্যবস্থা মানবেন কি না, বলা কঠিন। রাশিয়ার আক্রমণের চোখরাঙানি কত দিন ইউক্রেনবাসী মেনে নেন, তা অবশ্য কেউই নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না।


সিলেট প্রতিদিন / এমআরএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স