একাত্তরে বাংলার মাঠেঘাটে শোনা যেত এই স্লোগান। এমনকি ৫৬ হাজার বর্গমাইল পেরিয়ে স্লোগানটি উচ্চারিত হতো দেশের বাইরেও। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং ইউরোপের বাংলাদেশী অধ্যুষিত দেশগুলোতে এই স্লোগান শোনা যেত নিত্যদিন। আনন্দের কোন খবর বা ঘটনায় দলমত নির্বিশেষ সবার মুখেই উচ্চারিত ‘জয় বাংলা।’
আমাদের বড় প্রিয় এই স্লোগানটিকে সরকার এখন জাতীয় স্লোগান হিসাবে গ্রহণ করেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে বুধবার (২ মার্চ ) প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছিল প্রেরনার উৎস, যা উচ্চারণে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভের আগুন ধরিয়ে দিতো প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মনে, পঁচাত্তরের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর একসময় তা বাংলাদেশে অলিখিত বা অঘোষিতভাবে বলতে গেলে এই স্লোগান নিষিদ্ধ হয়েই পড়েছিল।
এরপর ৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন, তখন আবার নির্দিধায় জয় বাংলা উচ্চারণ শুরু হয়।
আওয়ামী লীগের দলীয় এই স্লোগান একাত্তরে সার্বজনিন হয়ে উঠেছিল। তারপর জাতির পিতাকে হত্যা এবং সামরিক শাসনসহ অন্যান্য সরকারের আমলে এটি আবার সেই দলীয় স্লোগান পর্যায়ে থেকে ছিল এতদিন। তবে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত ও আন্তরিক চেষ্টায় সেই অবিনাশী স্লোগান ‘জয় বাংলা’ এখন জাতীয় স্লোগানের স্বীকৃতি পেয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সাংবাদিধানিক পদাধিকারীগণ, সরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা জাতীয় দিবস উদযাপন এবং অন্যান্য সরকারি ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নিজেদের বক্তব্য শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাত্যহিক সমাবেশ শেষে এবং সভা সেমিনারে বক্তব্যের শেষে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরাও বলবেন ‘জয় বাংলা’।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



