সাজলু লস্কর :: তারুণ্যের উচ্ছাসে ভাসছে এখন সিলেট ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকটা ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে। বিশেষ করে নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুকদের মধ্যে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরুর খবরে এই উচ্ছাস- আনন্দ। চলছে সানন্দে দৌড়ঝাঁপ।
সিলেট ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাইয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য এবং সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের গ্রীন সিগন্যালও পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ ছিল কমিটিহীন। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগে ২০১৭ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ও ২০১৮ সালে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষাণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর টানা প্রায় ৪/৫ বছর কমিটিহীন ছিল সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। নানা ব্যানারে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হলেও কান্ডারিবিহীন ওসব কর্মসূচি ছিল অনেকটাই প্রাণহীন।
বারবার ধর্না দিলেও নানা কারণে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন বা অনুমোদনের তেমন একটা উদ্যোগ দেখা যায়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। এনিয়ে প্রচুর আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কমিটি গঠনের বিষয়টি বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরেছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আলোচনা-সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি করা হয় নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় রাহেল সিরাজকে। আর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন কিশওয়ার জাহান সৌরভ আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. নাঈম আহমদ।
কমিটি অনুমোদনের পরপরই নানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে সিলেট ছাত্রলীগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি ইউনিট সচেতন মহলের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। আগের কমিটির বিতর্কের ছায়া অন্তত এ কমিটিতে পড়বেনা বলেই সবার মনে বিশ্বাস জন্মাতে থাকে। তারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রয়ী ছাত্রলীগ তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও বেশী শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকে।
এদিকে কমিটি অনুমোদনের পর গত নভেম্বরের শেষের দিকে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ হয়েছিল সিলেট প্রতিদিনের। তখন তারা যতদ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংগঠনিক তৎপরতার ক্ষেত্রে তারা সঠিক পথেই এগুচ্ছেন। ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কয়েকটি ইউনিটকে বিলুুপ্ত ঘোষণা করে নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুকদের সিভি আহ্বান করা হয়েছে। আরও অনেক ইউনিট নিয়েও তারা কাজ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অতি সম্প্রতি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ এবং সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশোয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ঢাকা ঘুরে এসেছেন।
তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাইয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এবং সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এসব আলাপ-আলোচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়টিই প্রধান্য পেয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ বলেন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে আমরা কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেয়েছি। কাজও শুরু করেছি। যতদ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জমা দেয়া হবে।
প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ। তারা বলেন, কাজটি আরও আগেই শুরুর প্রস্তুতি আমাদের ছিল। তবে ইউপি নির্বাচনের কারণে বিষয়টি কিছুটা পিছিয়েছে। কারণ, আমরা নৌকার জয় নিশ্চিতে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।
উভয় ইউনিটের নেতৃবৃন্দই বলেছেন, আমাদের কাছে নৌকার বিজয়টা সবসময়ই প্রধান্য পায় বা পেয়েছে। এজন্য সর্বস্ব উজাড় করে কাজ করেছি আমরা। তার স্বাক্ষি সিলেট বিভাগের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
এদিকে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর খবরে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে কমিটিতে আসতে ইচ্ছুক নেতৃবৃন্দ নানাভাবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
তারা সিভি জমা দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।




সাজলু লস্কর



