সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও চলছে গণটিকা কার্যক্রম। তাই সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে আসা মানুষের উপস্থিতি ছিল অনেক। টিকা প্রত্যাশী অনেক নারী-পুরুষ গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে নিচ্ছেন টিকা। এ সময় অনেকের মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে পাওয়া গেছে নির্ধারিত সময়ের পর টিকা কার্যক্রম শুরুর অভিযোগ।
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সিলেটের ১৩টি উপজেলা বিভিন্ন স্থানেও ও সিলেটে সিটি করপোরেশেনর ২৭টি ওয়ার্ডের ৯৬টি কেন্দ্রে গণটিকা দেয়া হচ্ছে। সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়েছে টিকাদান। বিকেল ৩ টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম বিরামহীনভাবে চলবে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনো প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয় অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টিকা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই টিকা কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করতে থাকে টিকা প্রত্যাশীরা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অনেককে। এসময় মানুষকে গাদাগাদি করে মাস্ক ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ওসমানীতে টিকা নিতে আসা সৈয়দা নাদিয়া নামে এক তরুণী বলেন, এতদিন টিকা নেইনি। আজকের পরে আর প্রথম ডোজের টিকা দেবে না শুনে টিকা নিতে এসেছি। লম্বা লাইন টিকা পাবো কি না বুঝতেছি না। মানুষের এতো ভিড় আগে দেখিনি।
আশরাফুল নামের একজন বলেন, সকাল থেকে প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে টিকা কেন্দ্রে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা দিয়েছি। টিকা কার্যক্রম ধীর গতিতে হচ্ছে তাই সময় কিছুটা বেশি লেগেছে।
নগরীর জল্লার পাড়ের বাসিন্দা ইমন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় মানুষের উপচেপড়া মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘন্টা দু’এক পর অনেকটা হাতাশা নিয়ে টিকা কেন্দ্রের বাইরে এসে দাঁড়ান। তিনি বলেন, আগে কোনো দিন এমন ভিড় দেখিনি।আজকে যেভাবে মানুষ টিকা নিতে আসছেন।একজনের ওপর দিয়ে গিয়ে অন্যজন টিকা দিতে চাইছে। টিকা দিতে পারবো কি না বলতে পারছি না।
সিলেট বিভাগে ৭ লক্ষ মানুষকে গণটিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। সকালে তিনি সিলেট প্রতিদিনকে জানান, ৭ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে তিনশো থেকে পাঁচশো মানুষকে প্রথম ডোজ দেওয়া হবে।
জানা যায়, পুরো সিলেট বিভাগে টিকা দানে স্থায়ী-অস্থায়ী ৪০টি ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করছে। তারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে ভাসমান লোকজনকে টিকা প্রদান করছে।
সিসিক জানায়, যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি সেসব নাগরিকগণ জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্ম নিবন্ধনপত্র নিয়ে কেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণ করবেন। যাদের এর কোনটিই নেই তারাও টিকা কেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও যারা ইতিমধ্যে সুরক্ষা এপসে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন কিন্তু কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেননি তারাও আজ টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। পরবর্তীতে তারা টিকা গ্রহণের তথ্য সুরক্ষা এপসে হালনাগাগ করাতে পারবেন নগরভবনে স্থাপিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে।
যারা রেজিষ্ট্রেশন ব্যতিত গণটিকা ক্যাম্পেইনে টিকা গ্রহণ করবেন তাদেরকে কেন্দ্র থেকে একটি সরকারি টিকা কার্ড প্রদান করা হবে।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



