রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুরে লালশাপলা বিলের পানি সেচে মাছ বিক্রি: হুমকিতে পর্যটন স্পট

  • প্রকাশের সময় : ২৬/০২/২০২২ ০১:১৫:২৪
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
7

সিলেটের জৈন্তাপুরের লালশাপলা বিলের পানি সেচ করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করে নিয়েছে স্থানীয় একটি চক্র। পানি সেচের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পর্যটন স্পট লালশাপলা বিল। বিলের পানি সেচ করায় কেন্দ্রী বিলের লাল শাপলা ধ্বংস হওয়ার আশংকা করছেন পরিবেশ কর্মীরা।

লাল শাপলা বিলের মাছ ধরার সাথে শাপলা বিল সংরক্ষণ কমিটি ও স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জড়িত বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী, হরফকাটা ও ইয়ামবিলে প্রচুর পরিমাণে লাল শাপলা ফুল ফূটে। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে এই লাল শাপলা বিলের ছবি সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় তা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার লোক প্রতিদিন লাল শাপলা বিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। লাল শাপলা বিলকে সিলেট জেলা ব্রান্ডিং হিসেবে ব্যবহার করছে জেলা প্রশাসন।

এক সময় এই বিল গুলো ইজারা প্রদান করা হতো। লাল শাপলা সংরক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন গত পাঁচ বছর থেকে ইজারা বন্ধ করে দেন। ফলে বিল গুলোতে প্রচুর পরিমাণে লাল শাপলা ফুল ফুটে। বিগত দিনে বিল ইজারা না দেওয়ায় এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার বিলে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শাপলা বিলের চতুর্দিকে বাধ নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে তার কাজ শুরু হয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ এর তত্বাবধানে কাজ শুরু হওয়ার পরে বিলের পানি কমানো হয়। কিছুদিন পর বাধ নির্মাণের কাজ চলাকালে একটি কুচক্রি মহল পানি সেচ করে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করেন। ফলে লাল শাপলা বিল ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে। বিলের পানি সেচ ও মাছ বিক্রির ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন কিছুই জানেননা।

স্থানীয়দের অভিযোগ- লাল শাপলা বিল সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শাহিনুর রহমান ও তার সহযোগীরা পানি সেচে মাছ ধরেছেন।

তবে লাল শাপলা বিল সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শাহিনুর রহমান দাবি করেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ কে খাস কালেকশন এর নামে এক লক্ষ টাকা দিয়ে তারা মাছ ধরেন। তবে এই টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জানান, বাধ নির্মাণ এর জন্য তিনি বিলের এক হাত পানি কমিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রিপা রাণী জানান, লাল শাপলা বিল খাস কালেকশন এর জন্য দেয়া হয়নি। যদি কেউ মাছ ধরে তবে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

সিলেটের এই পর্যটন স্পট এর পানি শুকিয়ে মাছ ধরার ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শাপলা বিল পর্যটন স্পট সিলেট জেলা ব্রান্ডিং করে। পানি সেচ করে মাছ লুট করে যারা বিলের পরিবেশ ও প্রতিবেশ নষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।


সিলেট প্রতিদিন / এসএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স