দেশের ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগে উপযুক্ত ১০ ব্যক্তির নামও রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিয়েছে সার্চ কমিটি। এখন এ তালিকা থেকে পাঁচজনকে বাছাই করে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে সিইসি-ইসি পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা। তাই নির্বাচন কমিশনের নতুন সঞ্চালকদের পেতে এখন শুধু গেজেটের অপেক্ষা। এদিকে সার্চ কমিটি তালিকা চূড়ান্ত করার পর থেকেই নানা জনের নাম সামনে আসছে। কে হচ্ছেন সিইসি আর কমিশনারই বা কারা হচ্ছেন, এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের নামের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সরকারের সুহৃদ রাজনৈতিক দল ওয়ার্কার্স পাটি। এর আগে সার্চ কমিটি গঠনের পর থেকেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দাবি এসেছে বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে। কমিটির সঙ্গে বৈঠকেও তাঁরা ১০ নাম প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে প্রস্তাব আসা নাম প্রকাশ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় থাকা নামগুলো প্রকাশ করা হবে না বলেই জানিয়েছিলেন সার্চ কমিটির প্রধান। সংশ্লিষ্টরা জানান, সার্চ কমিটির চূড়ান্ত তালিকা দাখিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের কার্যক্রম একেবারেই শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে।
এখন রাষ্ট্রপতি তাঁর সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে সিইসি ও ইসি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজনের তালিকা। এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন হচ্ছে। এর আগে দুবার সার্চ কমিটি গঠন করে ইসিতে নিয়োগ হলেও তখন আইন ছিল না। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন’ ২৭ জানুয়ারি সংসদে পাস করা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। এ সময়ের মধ্যে নিজেরা সাতটি ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে চারটি বৈঠক করেছে সার্চ কমিটি। প্রথম দুই বৈঠকের পরই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসহ সবার কাছে প্রস্তাব আহ্বান করেন তাঁরা।
ব্যক্তিগতভাবে নিজের নাম নিজে প্রস্তাব করার সুযোগ রাখা হয়েছিল এবার। নিবন্ধিত দুই ডজন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ছয় পেশাজীবী সংগঠন নাম প্রস্তাব করে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও অনেক নাম-প্রস্তাব জমা হয়েছে কমিটির কাছে। এসব প্রস্তাব থেকে ৩২২ জনের নামের তালিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে কমিটি। তালিকা যাচাই-বাছাই করে কয়েকজন ব্যক্তির নাম একাধিকবার পাওয়া যায়।
সংশোধনের পর তালিকায় থাকে ৩১৫ জনের নাম। ১৭ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে সে তালিকা ছোট করে ৫০ জনে নামিয়ে আনে সার্চ কমিটি। ১৯ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে তালিকা আরও ছোট করে ২০ জনে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে ১২-১৩ জনে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। বিএনপি, সিপিবিসহ বেশ কয়েকটি দল কোনো তালিকা দেয়নি সার্চ কমিটিকে। ২২ ফেব্রুয়ারি নিজেদের শেষ বৈঠকে ১০ নাম চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয় সার্চ কমিটির পক্ষ থেকে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চূড়ান্ত ১০ নামের তালিকা তাঁর হাতে তুলে দেন সার্চ কমিটির সদস্যরা।
তাঁরা আইন অনুযায়ী সিইসি-ইসি পদের প্রতি শূন্যপদে দুজন করে ১০ জনের নাম প্রস্তাব করেছেন রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সার্চ কমিটির সদস্যদের বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সার্চ কমিটির সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে নাম জমা দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেছেন। এখন রাষ্ট্রপতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্দেশনা দেবেন। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পাঁচজনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত আইনে বলা হয়েছে- স্বচ্ছতা ও নিরক্ষেতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে সার্চ কমিটি। আইনে বেঁধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি পদের জন্য দুজন এবং নির্বাচন কমিশনারের শূন্যপদের প্রতিটির জন্য দুজনের নাম তাঁরা প্রস্তাব করবেন রাষ্ট্রপতির কাছে।
সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কাউকে সুপারিশের ক্ষেত্রে তার তিনটি যোগ্যতা থাকতে হবে। তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; বয়স ন্যূনতম ৫০ বছর হতে হবে; কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধাসরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত পদে বা পেশায় অন্তত ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।




প্রতিদিন ডেস্ক



