অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেলস অ্যাজেন্ট অব বাংলাদেশের নির্বাচন রাত পোহালেই। সকাল ৯টা থেকে সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ গ্যালারিয়া মার্কেটের আটাব কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে ভোট দিবেন সিলেট অঞ্চলের ভোটাররা। শেষ হবে বিকেল ৪টায়।
আটাবের এই নির্বাচন নিয়ে এখন আলোচনা-সমালোচনায় মুখর ট্রাভেলস পাড়া। নেতৃত্বে কারা আসছেন? যারা আসছেন তারা কি প্রবাসীবান্ধব হবেন? নাকি আবারও পুরানো সিন্ডিকেট মহলের জয় হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন থেকে ২০/২৫টা অ্যাজেন্সি মিলে সিন্ডিকেট করে টিকিটের দাম বাড়িয়ে প্রবাসীদের হয়রানি করেছেন? এই প্রশ্নগুলো নিয়েই চলছে আলোচনা।
আটাবের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে আলাপকালে ধারণা পাওয়া গেছে, এবার নির্বাচনে আটাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টের পালে জোর হাওয়া লেগেছে।
তারা নির্বাচনী প্রচারণায় তুলে ধরছেন প্রতিপক্ষের নানা অনিয়ম আর দুর্ণীতির বিষয়টাকে। তাদের মতে, এই যে দুবাই বা ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মাত্র ৪০/৪৫ হাজার টাকায় টিকিট কেটে যারা দেশে আসেন, ছুটি শেষে ফেরত যাওয়ার সময় তারা আর টিকিটই পাননা। পেলেও দাম দিতে হয় দ্বিগুণের চেয়েও বেশী। প্রায় লাখ টাকার উপরে খরচ করতে হয়। এতে প্রবাসীদের হতাশার গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে হয়। তাদের স্ত্রী কন্যাদের গহনা বা জায়গা জমি বিক্রি করে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে।
এই অবস্থার জন্য তারা দায়ী করছেন তাদের প্রতিপক্ষ প্যানেলকে, যারা বর্তমানে আটাবের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরা শুধু প্রবাসীদেরই পকেট কাটছেনা, কাটছে অন্যান্য সাধারণ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীদের পকেটও। তাদের সিন্ডিকেটের বাইরের ব্যবসায়ীদের সারাবছর মাথায় হাত দিয়েই বসে থাকতে হয়।
এ অবস্থা থেকে উত্তরনের উপায় হিসাবে তারা মনে করছেন আটাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টকে আবারও নেতৃত্বে নিয়ে আসা।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আটাবা সিলেট অঞ্চলের তিনবারের সভাপতি ও সমাজসেবক আব্দুল জব্বার জলিল বলেছেন, আমাদের প্রতিপক্ষে যারা নির্বাচন করছেন আবার তারা নেতৃত্বে এলে দেশের প্রবাসীসহ সাধারণ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীদের প্রচন্ড ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা কিছুতেই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন না এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঘাম ঝরানো রক্ত পানি করা টাকা টিকিটের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পকেটে পুরবে সিন্ডিকেটবাজরা। তাদের খপ্পর থেকে আটাবকে মুক্ত করতে এবং এই সেক্টরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এসএন মঞ্জুর মোরশেদের ( মাহবুব ) নেতৃত্বে আটাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টের জয় নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিপক্ষের দিকে একই তীর ছুঁড়েছেন মেসার্স সোহাগ ট্রেড অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্তাধিকারী মো. ইসমাইল হোসেন কয়েছ। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনিও সিলেটের প্রবাসীদের নির্যাতনের হাত থেকে সুরক্ষা এবং ট্রাভেলস ব্যবসায়ীদের নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগের জন্য তিনি আটাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টকে জয়যুক্ত করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাভেলস ব্যবসার সাথে জড়িত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আটাব’র নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসা জরুরী। এবার হয়ত তাই হচ্ছে। হলে স্বস্তিতেই থাকবেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।




প্রতিদিন প্রতিবেদক



