এনামুল কবীর : সিলেট যেনো এক ট্রাভেলসের নগরী! তালতলা থেকে জিন্দাবজার, জিন্দাবাজার থেকে আম্বরখানা- কোথায় নেই ট্রাভেলস অ্যাজেন্ট। তবে তার কতটা বৈধ আর কতটা অবৈধ- সাধারণ মানুষের তার বুঝার কোন উপায়ই নেই।
যে কেউ যেনোতেনোভাবে মার্কেটগুলোর মালিককে বুঝিয়ে ট্রাভেলস অ্যাজেন্টের নামে ঘর বাগিয়ে নিচ্ছেন। তারপর শুরু হচ্ছে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারনা।
এমনকি কনসালটেন্সি ফার্মের আড়ালেও এমন প্রতারনার প্রচুর অভিযোগ আছে। সাম্প্রতিক আলোচিত ও গ্রেফতারকৃত দালাল আমিনুর রহমান তেমনই একজন প্রতারক।
ইউরোপের রোমানিয়া, আলবেনিয়া, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশে পাঠানোর নামে তিনি প্রতারনার মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতারিতরা। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
তবে সিলেটে এমন আমিনুর রহমানের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় বলে মনে করছেন অনেকে। নগরীর তালতলার সুরমা টাওয়ার, সুরমা মার্কেট, জিন্দাবাজারের ইদ্রিস মার্কেট মিলেনিয়াম,ব্লুওয়াটা,আলহামরা,চৌহাট্টা,আম্বরখানা ইত্যাদি এলাকার মার্কেটগুলোতে ট্রাভেলসের ছড়াছড়ি।
এদের অধিকাংশকেই অবৈধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তারা একটা লাইসেন্স প্রাপ্ত ট্রাভেলসের অ্যাজেন্ট বা সাব অ্যাজেন্ট হিসাবে ব্যবসা শুরু করেন। এরপর নিজেদের লোকজনকে ছড়িয়ে দেন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন গ্রামে। তারা নানা প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে একলাখ থেকে দেড় দু’লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
কখনো কখনো ৫/৬ লাখও। তারপর একসময় তারা হয় গা ঢাকা দেন আর প্রতারিতদের হাহাকারে বাতাস ভারি হয়। কেউ কেউ ধরা পড়েন আইনের হাতে। তবে পকেট কাটা সাধারণ মানুষের পকেটে আর সহজেই হারানো অর্থ ফেরেনা। এমনটাই চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
এই অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, বাসা ভাড়া দিতে যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি মালিকপক্ষকে দেয়ার নিয়ম করা হয়েছে, তারা আবার সেটির কপি থানায় হস্তান্তর করছেন, একইভাবে ট্রাভেলস অ্যাজেন্টের নামে যারা ঘর ভাড়া নিতে আসবে তাদের বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স আছে কি না তা জমা নিতে হবে মার্কেট মালিকদের।
সেটির কপি মালিকপক্ষ নিজ দায়িত্বে থানায় হস্তান্তর করবেন।এমন একটা নিয়ম চালু করতে পারলে সিলেটে ট্রাভেলসের হাট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হতে পারে। এতে প্রতারনার হারও অনেকটাই হ্রাস পাবে বলেও তাদের অভিমত। পাশাপাশি কঠোর নজরদারিও অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে অটাব সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন আহমদ আমজাদ বলেন, এটি একটি চমৎকার ধারনা। আমাদের আগামী সভায় আমরা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা করব। তারপর সবাই মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রাশাসনকেও জানাবো।
এ ব্যাপারে আলাপকালে সিলেট মহানগরীর অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া ) বিএম আশরাফ উল্যা তাহের বলেন, আমরা লাইসেন্সবিহীন ট্রাভেলসগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালাবো। আর লাইসেন্স নিয়ে ঘরভাড়া দেয়ার বিষয়টি একটি দারুন আইডিয়া। আমরা এটা নিয়ে মার্কেট মালিকদের সাথে আলোচনা করে অবশ্যই একটা উদ্যোগ গ্রহণ করবো।




এনামুল কবীর



