বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

অংকিতার সাফল্যের গল্প

  • প্রকাশের সময় : ১৭/০২/২০২২ ০৭:১৭:১৯
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
43

গোলজার আহমদ হেলাল :: দুই বাংলার জনপ্রিয় শিল্পী অংকিতা ভট্রাচার্য। এপার বাংলা আর ওপার বাংলার গৌরব ও অহংকার কন্ঠশিল্পী অংকিতার গৌরবগাঁথা সাফল্যের কাহিনী নতুনদের প্রেরণা শক্তি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার গোবরডাঙার মেয়ে অংকিতা ভট্রাচার্য। ছোট থেকেই গানের চর্চা শুরু হয় তার। মায়ের কাছেই হাতেখড়ি। তারপর থেকে বিভিন্ন রিয়্যালিটি শোতে অংশগ্রহনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। প্রথমদিকে ব‍্যর্থতাই ছিল সঙ্গী। তবু হাল ছাড়েন নি তিনি। চেষ্টা করে যেতে থাকেন। ভিড়ে ঠাসা বনগাঁ লোকালে করে গান শিখতে আসেন কলকাতায়। নানান প্রতিকূলতার পাশাপাশি ছিল অর্থনৈতিক বাঁধাও। তবে লেগে থেকেছেন সব পরিস্থিতিতে। এরপর Zee Bangla'র জনপ্রিয় Reality Show Sa Re Ga Ma Pa তে অডিশনের মাধ‍্যমে সুযোগ পান এবং ওই কম্পিটিশন এ বিজয়ী হন।অঙ্কিতা এই মুহুর্তে অত‍্যন্ত জনপ্রিয় সিঙ্গার। অঙ্কিতার এমন সাফল‍্যের গল্পই বিগত ৫ ফেব্রুয়ারি জী বাংলার জোশ টকসে তার নিজের মুখে শোনা যায়।

অংকিতা জানিয়েছেন কঠিন পরিস্থিতিতেও তার গান প্রাকটিস করে যাওয়ার কথা। ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজার সময় অংকিতার এমন গল্প তার শক্তিশালী প্রেরণা ও অনুপ্রেরণার কথাই জানান দিয়ে যায়। সা রে গা মা পা বিজয়ী অংকিতা ইতোমধ্যে সকলের বাটিতে স্থান করে নিয়েছেন।

তিনি শুধু টেলিভিশনে সীমাবদ্ধ নন, পুরো ইন্টারনেট বিশ্বে মোস্ট পপুলারিটি অর্জনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন তার শিল্পকর্ম দিয়ে। তার কমলা, মাংকি মাংগে ও নয়া দামান মিলিয়ন মিলিয়ন দর্শক হিট করেছে। জোশ টোকস বাংলার এ কাহিনী পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মানুষকে প্রেরণা দিয়ে যাবে।

আমাদের সকলের প্রিয় অংকিতা ভট্রাচার্য। এপার বাংলা – ওপার বাংলার কন্ঠ শিল্পী।পড়াশোনা করছেন ইতিহাস বিভাগে। সম্মান ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত। নৃত্য শিল্পীও বটে।কারণ, ড্যান্স বা নাচ দিয়েই অংকিতার এ পথে যাত্রা শুরু হয়। পরে গানকে বেছে নেয়া হয়। তবে নাচ, নৃত্য প্রিয় অংকিতাকে ছেড়ে যায়নি।

গোবরডাঙ্গার মেয়ে, গ্রামের মেয়ে অংকিতা। এখন কলকাতা শহরে বসবাস করছেন। সা রে গা মা পা বিজয়ী অংকিতার মা-বাবাকে গ্রামের লোকজন বলত, মেয়েতো গান শিখে লাভ কি? দু’দিন পর বিয়ে হয়ে যাবে। পড়াশুনা করাও।' এ নিয়ে তার মা-বাবাকে পাড়া-পড়শীর অনেক কথা শুনতে হয়েছে। এগুলো স্বচক্ষে দেখে অংকিতার মন যেমন বিষিয়ে উঠছিল, অপরদিকে গানে ক্যারিয়ার গড়তে অংকিতার সাহস বেড়ে গিয়েছিল। নিজেই নিজের কাছে অঙ্গীকার করে ফেলেছেন, এ পথে জয়ী হতেই হবে।পেছনে তাকানো যাবে না।

অংকিতার পরিবারের অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। ভাল ভাল ক্যারিয়ারের পেশাজীবী আছেন। সে ই শুধু গানে এসেছে। এতে তার অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। বাবার যখন চাকরি ছিল না, তখন তার বাবা পঞ্চাশ টাকা পেলে পঁচিশ টাকা রাখতেন গানের ক্লাসে যাওয়া আসা করতে অংকিতার নাস্তার জন্য। আর পঁচিশ টাকা রাখতেন তার যাতায়াতের জন্য।

ছোট্র মেয়ে অংকিতা। ছোট বয়সেই সা রে গা মা পা বিজয়ী হয়েছেন। কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী সম্প্রদায়ের প্রিয় শিল্পী। হিন্দু পরিবারের সন্তান অংকিতা যেন একটি ফুল। একটি পুষ্প। অনন্য অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী সদা হাস্যময়ী প্রাণবন্ত অংকিতা এগিয়ে যেতে চান বহুদূর, অনেক দূর।

অংকিতা একেবারেই সাধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত।অংকিতা অত্যন্ত স্মার্ট গার্ল। তার কথা-বার্তা, চলন- বলন, বাচন-ভঙ্গী ও নাচে গানে অসাধারণ মেধা ও প্রতিভার কথাই জানান দিয়ে যায়। অংকিতা গানের মাধ্যমেই ইতোমধ্যেই দু’বাংলার শ্রোতা-দর্শকদের ভালবাসা অর্জন ও মন জয় করেছেন। বিশেষ করে অংকিতা ভট্টাচার্য বাংলাদেশকে খুব ভালবাসেন।

ছোট্ট কোমলমতি অংকিতা অনেক বড় হও তুমি। তোমার সফলতায় দু’বাংলার আকাশ আলোকোজ্জ্বল হোক। নাচে ও গানে ঐতিহ্য আর শেকড় যেন মিশ্রিত থাকে প্রাণে প্রাণে।



সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স