রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

বিশ্বনাথে রাস্তায় ঘর নির্মাণ করলেন সাবেক মেম্বার

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৬/২০২৪ ১০:৫৫:৪৩
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
133

সিলেটের বিশ্বনাথে দু’টি গ্রামের লোকজনের হাওর ও মসজিদে চলাচলের রাস্তার উপর ঘর নির্মাণ করেছেন সাবেক মেম্বার! তিনি সালিশানদের শর্ত ভেঙে নিজ বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বাহিরে দীর্ঘদিনের পুরাতন রাস্তার উপর এই ঘর নির্মাণ করেছেন। ঘটনাটি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজি গ্রামে। তার মধ্যে একটি পক্ষ হচ্ছেন উত্তর দৌলতপুর ও হাসনাজি দুটি গ্রামবাসী।


এ দুই গ্রামবাসীর পক্ষে কাজ করছেন সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ধন মিয়া মেম্বার। আর অপর পক্ষ হচ্ছেন হাসনাজি গ্রামের সাবেক মেম্বার গৌছ আলী। 


একাধিক বার সালিশ বৈঠক করেও কোনো সুরহা হচ্ছেনা। আপোষ নামায় স্বাক্ষর দেয়ার কথা থাকলেও তিনি স্বাক্ষর না দিয়ে রাস্তা উপর ঘর নির্মান করেছেন সাবেক মেম্বার গৌছ আলী। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম্ উতেজনা বিরাজ করে আসছে।


জানা যায়, হাবড়া বাজার দশপাইকা সড়ক থেকে হাসনাজি গ্রামের ভেতর দিয়ে চাউলধনী হাওর ও গ্রামের পশ্চিমের মসজিদে যাতায়াতের একটি রাস্তা রয়েছে। রাস্তার বেশ কিছু অংশ সাবেক মেম্বার গৌছ আলীর বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বাহির দিকে চলে গেছে। কিন্তু রাস্তা দিয়ে প্রায় ৩০/৪০ বছর ধরে দুটি গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে চাউলধনী হাওর থেকে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসতেন। 


এছাড়াও রাস্তা দিয়ে গ্রামের পশ্চিমের মসজিদে গিয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। হঠাৎ করে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সাবেক মেম্বার গৌছ আলী তার বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বাহিরে রাস্তার উপর একটি ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্র আনে।


এসময় স্থানীয় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজন মুরব্বিয়ানদের সমন্বয়ে আপোষে দেখে দেয়ার জন্য সমজিয়ে নিয়ে আসেন। ওই আপোষ বৈঠকে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার গন্যমান্যসহ ১৭ জনের একটি টিমও গঠন করা হয়। ওই আপোষ টিমের লোকজন উভয় পক্ষের সমন্বয়ে সাড়ে ৫ হাত রাস্তা রেখে বাকি অংশটি গৌছ আলীকে দিয়ে সীমানা পিলার স্থাপন করে দেন। এবং ওই সাড়ে ৫ হাত রাস্তার উপরে থাকা গছ কেটে দেয়ার কথাও বলে আসেন সালিশ ব্যক্তিরা। 


পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে লেখা সালিশ নামায় উভয় পক্ষের স্বাক্ষর দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাবেক মেম্বার গৌছ আলী রাস্তার উপর ঘর নির্মাণ করার পর গাছ কাটাতো দূরের কথা এখন আর শর্ত অনুযায়ি সালিশ নামায়ও স্বাক্ষর দিচ্ছেন না। ঘর নির্মানের পর এই রাস্তাটি এখন অনেকটা সরু হয়ে পড়েছে। এতে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, উভয় পক্ষের বিরুধ নিরসনের স্বার্থে তারা আপোষের একটি টিম গঠনের মাধ্যমে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু সীমানা নির্ধারণের পর গৌছ আলী সেখানে ঘর নির্মাণ করার পর তিনি আপোষ নামায় আর স্বাক্ষর দিচ্ছেন না। উল্টো পুন:বিচার চাইতেছেন।


জানতে চাইলে সাবেক মেম্বার গৌছ আলী বলেন,  এই আপোষে আমি সন্তোষ নয়। আমি সালিশয়ানদের কাছে পুন:বিচার চেয়েছি।

  



সিলেট প্রতিদিন / টিবি


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি