শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

রাতে শিলাবৃষ্টিতে ভাঙল গাড়ির গ্লাস, দিনে সিন্ডিকেটে চড়া দামের অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৪/২০২৪ ০৩:৫২:৩৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের ছবি : সিলেট প্রতিদিন
Share
42

কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সিলেটে। কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে অনেকের গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। আর এই সুযোগে রাত থেকে গ্লাসের দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। যেখানে একটি গাড়ির গ্লাসের দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সেখানে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়ে যথা সময়ে গ্লাস না পাওয়া জাতীয় জরুরী সেবা-৯৯৯ কল দিয়ে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুই চালক।


সোমবার (১ এপ্রিল) সিলেট নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, রোববার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়। এতে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। ফলে রাতেই সেহরীর সময় চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে অনেক গাড়ি চালক ও মালিকরা গিয়ে অতিরিক্ত দামে গ্লাস ক্রয় করেন। সোমবার সকালে তেমনি ওসমানী মেডিকেল রোডের দুই এম্বুলেন্স চালক আমিনুল ইসলাম ও বশির আহমদ যান দক্ষিণ সুরমার চাঁদনীঘাট নিউ জোনাকী মটরস্ এ। সেখানে তারা একটি গ্লাসের জন্য ৬ হাজার ৪০০ টাকা দেন। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও টাকা দিয়ে গ্লাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশকে অবগত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সমাধান করে।


এম্বুলেন্স চালক আমিনুল ইসলাম ও বশির আহমদ জানান, রাতে শিলাবৃষ্টিতে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। এই সুযোগে গ্লাস ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে সুযোগ বুঝে সাড়ে ৩ হাজার টাকার গ্লাস ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।


তারা জানান, সকাল থেকে আমাদেরকে দোকান কর্তৃপক্ষ বলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। গোডাউন থেকে গ্লাস এনে দিচ্ছি। এভাবে আমাদেরকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখেন। পরে আমরা গোডাউনে গিয়ে দেখি সেখানে কোনো গ্লাস নেই। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে গ্লাস দেবে বলে রিসিট কেটে নেয়। তাই আমরা কোনো উপায় না পেয়ে ৯৯৯ এ কল দিয়ে অভিযোগ করি।


এ বিষয়ে নিউ জোনাকী মটরস্ প্রোপাইটার মানিক মিয়া বলেন, সকালে দুজন চালক আমাদের দোকানে এলে গ্লাস ক্রয় করতে চান। এসময় তাদেরকে গোডাউন থেকে গ্লাস এনে দিতে চাইলে সেখানে গ্লাস পাওয়া যায়নি। কারণ রাতেই আমাদের গ্লাস শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আশাপাশের অনেক দোকানে গিয়ে আমরা কোনো গ্লাস পাই নি। তাই তাদের কাছে আমরা সময় চাই। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথা রাজি না হয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে।


অতিরিক্ত দামে কোনো গ্লাস বিক্রি হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে গ্লাস ক্রয় করে সিলেটে এনে বিক্রি করলে আমরা মাত্র ৫০০ টাকা পাই। একটি গ্লাস থেকে আমরা এই টাকাটি কি পেতে পারি না। সিলেটের অন্যান্য দোকানে এর থেকে বেশি দামে গ্লাস বিক্রি করা হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।


সিলেট প্রতিদিন / এমএ


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি