শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

নাবিলের নীলিমাময় আকাশ

  • প্রকাশের সময় : ২৪/০৩/২০২৪ ০১:১৯:৩৩
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
77

তাসলিমা খানম বীথি


আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমাকে আপনার কেমন লেগেছে?

না, না। এক্ষুনি বলতে হবে না। পরে বললে হবে।

জ্বী-মুচকী হেসে, মাথাকে হালতো করে, হে বলে. নাবিলের কথা জবাব দেয়, সামিয়া।


২. আমি আফ্রিকাতে দীর্ঘদিন ছিলাম। ২০ বছর পর দেশে আসছি। তার মধ্যে অনেকবার চেষ্টাও করেছি আসতে, পারিনি। পরিবার ছোট ছোট ভাইবোন রেখে গিয়েছি। যখন তাদের কথা ভাবতাম দেশে আসার কথা ভুলে যেতাম। তাদের পড়াশোনা বেড়ে ওঠা। গ্রামের ছোট কাচা বাড়িকে পাকাপুক্ত ভাবে এয়ারকন্ডিশন করে তৈরি করা। এসবে সময় বয়ে গেছে কখন, টের পাইনি। বিয়ে বয়সে বিয়ে করতে পারিনি তাই আর করব না ভেবেছিলাম। দেশে আসার পর আম্মার শেষ কথা। সব সন্তানের মত আমিও যেনো সংসারি হই। তিনমাসের ছুটিতে এসে এক মাস চলে গেছে, কনে দেখতে দেখতে। নাহার আপার বাড়িতে সেদিন দাওয়াতে গেলাম। তখন বিয়ের কথা শুনে আপা আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত বললেন। জেনে আমারও আগ্রহ হলো। আমি জানি আপনিও একজন দায়িত্বশীল মেয়ে। যে মেয়ে তার পরিবার প্রতি যত্নশীল, সে মেয়ে অবশ্যই স্বামী শুশুর বাড়ির প্রতি যত্নশীল হবে। আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে। আমার মনের কথা জানালাম।


এবার আপনার কথা বলেন। নাবিল একনাগারে তার সম্পর্কে বলে গেলো। সামিয়া বলল- নাহার আপা আমার বান্ধবীর বড় বোন হলেও নিজের বোনের মতই স্নেহ করেন। আমার কথা জেনেছেন আপার কাছে। নতুন করে আর কি বলব? বিয়েশাদি পারিবারিক মতামতে আমার ইচ্ছা। সামিয়া কথা শেষ না হতেই পাশের টেবিল থেকে ওঠে এসে নাহার আপা হেসে বললেন, কী ব্যাপার তোমাদের দুজনের কথা খালিমুখে চলবে। কিছু তো খেতে হবে। জী আপা অবশ্যই। কী খাবেন? আপনাদের পছন্দ মত অর্ডার দেন বলে, মেন্যুলিস্ট নাবিল এগিয়ে দেয় সামিয়ার দিকে। কিছুক্ষণ পর গ্রীল নান আর চা আপ্যায়ন পর রেস্টেুরেন্ট থেকে বের হয়। যাবার পথে সামিয়াকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দেয় নাহার আপা। গাড়ী থামার আগেই নাহার আপা নাবিলকে বলে, সামিয়া বাসার সামনে চলে আসছি। চল সবাই মিলে তাদের পরিবারের সাথে দেখা করে যাই। নাবিলের ইচ্ছা থাকলেও তার সাথে আসা কামাল মামা না করে ওঠলেন। সামিয়া গাড়ী থেকে নেমে সালাম দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়। নাবিল তখনো অপলোক ভাবে সামিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। বাসন্তী রং সেলোরকামিজে সামিয়াকে দারুণ লাগছে। বসন্ত সব ফুল এনে সামিয়ার খোঁপায় লাগিয়ে দিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে- মোর প্রিয়া হবে এসো রানী, দেবো খোঁপায় তারার ফুল।


৩. র্দীঘ ২০ বছর পর প্রবাস থেকে বাড়ির ছেলে ঘরে ফেরায়। পরিবারে আনন্দে উচ্ছাস বয়ে যাচ্ছে। সেই আনন্দ ফেইক হয়ে গেলো নাবিলের বাড়ির সবার। প্রবাসের জীবনে পারি দিতে নাবিল ছুটলো এয়ারর্পোটের দিকে। ভেবেছিল এবার হয়তো একাকিত্ব জীবনে নতুন কেউ আসবে। বাকি জীবনটা তার সাথে হাসি আনন্দে কাটিয়ে দেবে। সেই স্বপ্ন গোড়াবালি। পরিবারের বিয়ে জন্য এ পর্যন্ত যতগুলো মেয়ে দেখেছে কাউকে তার এতটা ভালো লাগেনি। সামিয়াকে দেখার পর থেকে বিয়ে করতে সম্মাতি দিলোও। মা রাজী হলো না। কামাল মামা বলল-সামিয়া এতটা সুন্দর না, তাছাড়া মেয়েটি একটা প্রাইভেট জব করে। নাবিলের মা কিছুতেই চাকরিজীবী মেয়ে বিয়ে করাবে না। যারা ঘরে বাইরে কাজ করে এসব মেয়ে সাংসারি হয় না। নাবিলের প্রচন্ড মন খারাপ হলো। সে জানতো তার এবং পরিবার জন্য সামিয়া বেস্ট ছিলো। কিন্তু সেটি আপজনরা বুঝলো না। মায়ের কথা শুনে কাউকে কোন কিছু জবাব না দিয়ে নাবিল ফিরে যাচ্ছে আফ্রিকায়।


প্লেনে বসে জানালা দিয়ে আকাশপানে চেয়ে থাকলেও তার দুচোখে শুধু সামিয়ার মায়াবী মুখটি ভেসে ওঠে। হৃদয়ের সমস্ত দুখের প্রদীপ জ্বেলে সাদামেঘের বেলা নাবিল হারিয়ে যায় নীল আকাশের নীলিমায়।


সিলেট প্রতিদিন / টিবি


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি