শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৮ অপরাহ্ন

এ কে শেরাম’র ছোটগল্প- কাঁচামরিচ

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৭/২০২৩ ০৬:১১:৩৬
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
26

মা, মা -

ছেলের এমন চিৎকারে চমকে ওঠে মা। ছেলে দুটোকে খেতে দিয়ে রান্নাঘরটা মুছছে রহিমা। 

শান্ত আর কান্ত পিঠোপিঠি দুই ভাই, ১১ আর ৯। একটু খেয়েই কাজে বেরিয়ে যাবে দুভাই। ছোট কান্ত টোকাইয়ের কাজ করে, প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের ঠোঙ্গা এসব কুড়িয়ে জড়ো করে। আর শান্ত নানা জায়গায় ছুটা কাম করে। মা রহিমা বাসায় বাসায় গিয়ে কাজ করে। সব শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে ওদের রাত প্রায় ৮/৯টা বেজে যায়। বাসা মানে তো এই খুপড়ি ঘর!

- কী হলোরে, ছাগলের বাচ্চার মতো এমন চিৎকার করছিস ক্যান? 

সকালে সামনের ডোবা থেকে দু-একটা ট্যাংরার পোনা, পুঁটি, ডারকিনা ধরে এনেছিলো রহিমা। সেগুলোই একটু ঝোল করে রেঁধে দিয়েছে দুই ছেলের জন্য। রাতের বাসি ভাতের সাথে আনন্দে গোগ্রাসে গিলছে দু'ভাই।

- মা-। উত্তেজনায় আবার চিৎকার করে ওঠে শান্ত।

- কীরে, কী হলো তোমার?

- মা, কাঁচামরিচ! শান্ত আরও জোরে চিৎকার করে বলে।

- কাঁচামরিচ? কোথায়, দেখি দেখি।

তরকারির বাটি থেকে আধচেরা আস্ত একটা কাঁচামরিচ তুলে এনে শান্ত দেখায় তার ভাইকে- এই যে!

অবাক চোখে তাকিয়ে দেখে কান্ত- তাইতো! আহা কতদিন পরে কাঁচামরিচ দেখলাম।

শান্ত মার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে- মা, তুমি কাঁচামরিচ পেলে কোথায়?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে রহিমা আস্তে বলে- ঐ যে পাশের তিনতলা বিল্ডিং, তার মালকিনের কাছে গেছিলাম একটা কাজে। লজ্জা-শরম ফেলে বললাম, ভাবি, আমার বড় ছেলেটা কাঁচামরিচ খুব পছন্দ করে। কতদিন হলো খেতে পায় না। একটা কাঁচামরিচ দেবে গো ভাবি? খুব বড় মনের মানুষ ভদ্রমহিলা। দ্বিতীয়বার বলতে হয়নি, আমাকে আস্ত দুটো কাঁচামরিচ দিয়েই দিলো।

- ভাই, আমাকেও একটু দে-না। কান্ত কাঁচুমাচু হয়ে বলে।

- নে নে। শান্ত একটুও না ভেবে কাঁচামরিচের পুরো অর্ধেকটা দিয়ে দেয় কান্তকে।

তৃপ্তি সহকারে ভাত খাওয়া শেষ করে হাত মুছতে মুছতে কান্ত বলে, ভাই চল, আজ আমাদের দিনটা ভাল যাবে। একটু তাড়াতাড়িই কাজে যাই।

রহিমা কেবল গোপনে দু' চোখ মুছে।


সিলেট প্রতিদিন / এমএনআই


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি