সিলেট প্রতিদিনে সংবাদ: অবশেষে আজ খুলছে সেই পার্কের দুয়ার
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম

প্রকাশ ২০২১-০৯-২৫ ১০:৩৫:২৯
সিলেট প্রতিদিনে সংবাদ: অবশেষে আজ খুলছে সেই পার্কের দুয়ার

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম : দীর্ঘ পনেরো বছর পর অবশেষে দোয়ার খুলছে বহুল প্রত্যাশিত সিলেটের ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’র। আজ শনিবার পরীক্ষামূলক ভাবে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে অবস্থিত পার্কটি চালু হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে হচ্ছে হবে বলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে থাকা পার্কটি অবশেষে চালু হওয়ার খবরে উচ্ছাসিত এলাকাবাসী।

এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ‘সিলেটের শেখ হাসিনা শিশু পার্ক অপেক্ষা আর কতো’ শিরোনামে সিলেট প্রতিদিনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর টনক নড়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন সুত্র জানায়, আজ শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষামূলক খুলবে সিলেটবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত এই পার্ক এর প্রধান ফটক। নির্ধারিত প্রবেশ মূল্য ও ফি দিয়ে সপ্তাহের রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা ও শুক্র-শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পার্কের রাইডস চড়তে পারবে শিশুরা।

আপদত পরিক্ষামূলকভাবে পার্কটি চালু হলেও খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’টি উদ্বোধন করা হবে।

সিলেটে শিশুদের নির্মল বিনোদন দিতে অত্যাধুনিক সব রাইডস নিয়ে যাত্রা শুরু করছে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’। নামকরণ জটিলতায় ১৫ বছর ধরে আটকে থাকা এই পার্কটি শেষ পর্যন্ত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ নাম নিয়েই উন্মুক্ত হচ্ছে সর্বসাধারণের জন্য। 

জানা যায়, সুরমা নদীর তীর ঘেঁষা দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ এর অবস্থান। শুরুর দিকে ‘এম সাইফুর রহমান’র নামে পার্কের কাজ শুরু হলেও পরে নাম বদলে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’ নামেই পার্কটির কাজ চলে। নাম বদলের পরই ‘সুরমা ন্যাচারাল পার্ক’ এর নামে ৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চীনা একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে পার্কে রাইড বসানো হয় ‘মনো রেল’সহ বিভিন্ন ধরণের রাইড। এ ‘মনো রেল’ দর্শনার্থীদের তাক লাগিয়ে দেবে। এর আগে সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন পার্ক থাকলেও এই পার্কে সর্বপ্রথম ‘মনো রেল’ সংযোগ করা হয়েছে। মনো রেলে মাটি থেকে ১৫ ফুট উপর দিয়ে এক হাজার ৩৬১ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করা যাবে। এটি থাকবে পার্কের চারপাশ জুড়ে।

এছাড়া রয়েছে আকর্ষনীয় ম্যাজিক প্যারাসুট। ম্যাজিক প্যারাসুটে একসঙ্গে ১৮ জন ৭০ ফুট উঁচুতে উঠানামা করতে পারবেন। নদী, প্রকৃতি আর পার্কের নানা বৈচিত্র দর্শনার্থীদের তাক লাগিয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পার্কটিতে দর্শনার্থীদের জন্য আরো রয়েছে পাইরেটশিপ, টুইস্টার, বাম্পার কার, ফ্রুট ফ্লাইং চেয়ার, ক্যারসেল, জাম্পিং ফ্রগ ও ভিজিটিং ট্রেন। ভিজিটিং ট্রেন দিয়ে একসাথে ২৬ জনকে নিয়ে ৪২০ ফুট ঘোরা যাবে। এসব রাইডের সাথে আরো কিছু রাইড রয়েছে। যা সিলেটের অন্যান্য পার্ক থেকে এই পার্কটিকে এগিয়ে রাখবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানের উদ্যোগে এই পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেসময় মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণসহ পার্কের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। তখন পার্কটির নামকরণ এম. সাইফুর রহমানের নামে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে থমকে যায় পার্ক নির্মাণের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমানের নামে থাকায় গতি পায়নি প্রকল্পটি। অবশ্য ২০১৩ সালে বিএনপি দলীয় নেতা ও সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই পার্ক চালুর ব্যাপারে আবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে পার্কে বিভিন্ন রাইডস বসানোর কাজ শুরু হয়। চীন থেকে এনে বিভিন্ন আধুনিক রাইডস বসানো, বিদ্যুৎসংযোগ চালুসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ হয়।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নামে পার্কটি নামকরণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালে এতে রাজী হয়নি মন্ত্রণালয়। তখন ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’সহ অন্য নামে নামকরণ করে পার্কটি চালুর চেষ্টা করা হয় বলে সূত্র জানায়। এরপর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি ডিও লেটারের সূত্র ধরে পার্কটির নামকরণ হয় ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’। এর আগে এ পার্কের নাম ছিল ‘এম সাইফুর রহমান শিশু পার্ক’। শেষ পর্যন্ত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্ক’ নামেই এই পার্কের যাত্রা শুরু হচ্ছে।

সিসিক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক ধাপে প্রায় ১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে পার্কটি তৈরির জন্য। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিসিকের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে জননেত্রী শেখ হাসিনা শিশু পার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প খাতে সর্বশেষ ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এবিষয়ে, সিলেট সিটি প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিলেট প্রতিদিনে বলেন, আজ শনিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পার্কটি চালু করা হলেও খুব তাড়াতাড়ি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন পার্কটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

ফেসবুক পেইজ