ছাতকে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভ প্রচার, এলাকায় তোলপাড়!
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশ ২০২১-০৯-২৪ ১১:২৮:৪৩
ছাতকে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভ প্রচার, এলাকায় তোলপাড়!

ছাতকে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও লাইভ প্রচারের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় চলছে। খোদ ওসির কক্ষে ধারণ করা এই ভিডিও পরবর্তীতে ছাতক টু সুনামগঞ্জ নামক একটি ফেইসবুক ভিত্তিক পেইজে লাইভ করা হয়। আপলোড দেয়ার পর মুহুর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। 

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ছাতক টু সুনামগঞ্জ নামক ফেইসবুক ভিত্তিক কথিত একটি নিউজ পেইজে লাইভটি প্রচারের পর প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখেন। ক্লু-লেস হত্যাকান্ডের বর্ননা শুনে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য দোষীরা পালিয়ে যাবে। এটা পুলিশের খামখেয়ালিপনা বলে লাইভ চলাকালে অনেকেই মন্তব্য করেন। 

খোদ পুলিশের মোবাইলে ধারণ করা গোপনীয় এই ভিডিও কিভাবে কথিত এই পেইজে চলে গেলো তা নিয়ে সচেতন মহলে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। পরবর্তীতে প্রায় এক ঘন্টা পর ভিডিওটি ডিলিট করে দেয়া হয়। কিন্তু এ প্রতিবেদকের কাছে স্কিন রেকর্ডার দিয়ে লাইভ চলাকালীন ওই ভিডিওটি সংরক্ষিত আছে।

ভিডিওতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিসহ ছাতক থানার ওসি নাজিমউদ্দিন, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাওঁ ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। 

এদিকে সারা দেশে ভূইফোড় এসব ফেইসবুক পেইজের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও উদ্ভট নাম ব্যবহার করে চলা এই পেইজে প্রায় সময় ছাতক থানার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রচার করতে দেখা যায়। এনিয়ে নানা সময় ছাতক থানা পুলিশ সমালোচিত হলেও টনক নড়েনি তাদের।

এব্যাপারে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রমে জড়িত  পুলিশ কার্যক্রম নিরপেক্ষ রাখতে আরো সতর্ক থাকা উচিৎ ছিল। এখন তা ঢালাও ভাবে প্রচার হয়ে গেছে। 

ছাতক থানার ওসি  নাজিম উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এগুলো করিনি, পরে অন্য কেউ হয়তো করেছে। ফেইসবুক লাইভ প্রচার করা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে তিনি এ বিষয়ে  অবগত ছিলেন না।এব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এব্যাপারে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন।

উল্লেখ্য গত ১৯-সেপ্টেম্বর রাত ১০ টার দিকে আখলাকুর রহমান ওরফে আখলাদ (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে পালিয়ে যায়।

রাতেই গ্রামের মাঠের ক্ষেতের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আখলাদ গোবিন্দগঞ্জ -সৈদেরগাও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামের জাহির আলীর পুত্র ও গোবিন্দগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে একই ইউনিয়নের গোবিন্দনগর গ্রামের  ফজলু মিয়ার পুত্র আবু সুফিয়ান সোহাগ ও  বিশ্বনাথ উপজেলার  দিঘলী-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের পুত্র আলীম উদ্দিন  কে নিজ বাড়ী থেকে  বুধবার  রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আসামিরা আদালতে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। 

সিলেট প্রতিদিন/এসএএম

ফেসবুক পেইজ