সিলেটে করোনায় স্বস্তি, অসচেতনতায় অস্বস্তি
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

এনামুল কবীর

প্রকাশ ২০২১-০৯-২৪ ১১:১৮:৩৪
সিলেটে করোনায় স্বস্তি, অসচেতনতায় অস্বস্তি

সিলেটে করোনার হম্বিতম্বি কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিকে সচেতন মহল স্বস্তিদায়ক মনে করলেও অস্বস্তির কারণ অন্যত্র। বিশেষ করে জনগন এখনো এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন নয় বলেই মনে করছেন করোনা নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা। আর এমনটা চলতে থাকলে আবারও পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 

সিলেটসহ সারাদেশ জুন জুলাইয়ে করোনা রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে। রমজান এবং এর পরে প্রায় দুমাস কঠোর লকডাউনে ছিল সারাদেশ। তখন করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু আর কর্মহীন মানুষের হাহাকার মিলে সারাদেশে বিরাজ করছিল চরম অশান্তি। 

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ।

আগস্টের শুরুর দিক থেকেই করোনা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। সংক্রমনের হার কমতে থাকে। ভ্যাক্সিন প্রয়োগ কঠোর লকডাউন-  ইত্যাদির সুফল হিসাবে প্রকৃতির এই অভিশাপ থেকে মুক্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এখনও সেই ধারাবাহিকতা বজায় আছে।

শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ জন। মৃত্যু হয়েছে একজনের। সুস্থ হয়েছেন হয়েছেন ২৮ জন আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন। এদের সবাই আবার সিলেট জেলার অধিবাসী। আর বিভাগজুড়ে করোনার জন্য বিশেষায়ীত হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৮৬ জন। হবিগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে কোন করোনা রোগী নেই। সুনামগঞ্জে হাসাপতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৭জন আর মৌলভীবাজারে আছেন দুজন। শনাক্তের হারও ছিল চারের নিচে, ৩ দশমিক ২৩।

এমন খবর স্বস্তিদায়ক হলেও অস্বস্তির কারণ হচ্ছে, জনগন স্বাস্থ্যবিধি মানতে অতটা আগ্রহী নয়। দিব্যি মাস্ক ছাড়াই ঘুরছেন, হাত মেলানোর সৌজন্যতাও প্রদর্শন করছেন অবলীলায়। আর মাস্ক বা স্যানিটাইজার ব্যবহারে অগ্রহ নেই অনেকের। 

সম্প্রতি পুরো বিষয় নিয়ে কথা হযেছিল সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সাবেক উপপরিচালক ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আনিসুর রহমানের সাথে। 

তিনি জানিয়েছেন, এই স্বস্তিদায়ক অবস্থাটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। গেল বছরও দুর্গাপূজার আগে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। এরপরই কিন্তু আবার বাড়তে শুরু করেছিল যা গত আগস্ট পর্যন্তই ভুগিয়েছে খুব।

এ অবস্থায় তার পরামর্শ হচ্ছে, করোনা আছে। সংক্রমনটা হয়ত কমেছে নানা উদ্যোগের ইতিবাচক ফল  হিসাবে। তবে আমাদের বেপরোয়া আচরণ ও অসচেতনতায় তা আবার ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

আর তাই সবাইকে মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যবহার, হাত মেলানো ও কোলাকোলির বিষয়টা বাদ দিতে হবে এবং অবশ্যই সামাজিক দূরত্ত্ববিধি মানতে হবে বলে আবারও বার্তা দিলেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

সিলেট প্রতিদিন/এসএএম

ফেসবুক পেইজ