গাড়ি সাইড না দেওয়ায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে সাংসদের চড়
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-০৯-২৪ ০৪:৫৩:২৩
গাড়ি সাইড না দেওয়ায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে সাংসদের চড়

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পাথরঘাটা প্রিমিয়ার লীগ-২০২১ এর ফাইনাল খেলাটি ছিল বরগুনার পাথরঘাটা পৌরশহরের স্টেডিয়াম মাঠে। সেখানের প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা -২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন। খেলার মাঠে আসার পথে সাংসদকে নিয়ে আসা মোটরসাইকেল বহরকে সাইড না দেওয়ায় নজরুল ইসলামের নামে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠে শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার বিকেল চারটার দিকে খেলা উপভোগ করতে আসা কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পাথরঘাটা পৌরশহরের স্টেডিয়াম মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নজরুল ইসলাম পাথরঘাটা পৌর ছাত্রলীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন জানান, পাথরঘাটা স্টেডিয়াম মাঠে  খেলোয়াড়বাহী  একটি  মাইক্রো নিয়ে মাঠের দিকে যাচ্ছিলেন নজরুল ইসলাম। এদিকে  মাঠের  কাছাকাছি পৌঁছতে খেলোয়াড়বাহী মাইক্রোটি সাংসদের মোটরসাইকেল বহরের সামনে পড়ে। এ সময় ওই মাইক্রোবাসটিকে  সাইড দেওয়ার  জন্য সাংসদকে বহনকারী মোটরসাইকেল থেকে হর্ন বাজানো হয়। কিন্তু সড়ক সরু হওয়ায় মাইক্রোটি সাইড দিতে জায়গা পাচ্ছিল না।  এতেই  বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হন সাংসদ রিমন। পরে কিছুটা সামনে গিয়ে জায়গা পেয়ে মোটরসাইকেল বহরকে সাইড দেয় খেলোয়াড়বাহী মাইক্রোবাসটি।

নজরুল ইসলাম বলেন, সাংসদ রিমন মঞ্চে বসে আমাকে ডেকে পাঠান। সাংসদের সামনে আসতেই পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মধু আমাকে এমপির পা ধরে মাফ চাইতে বলেন। সামনে এগিয়ে যেতেই এমপি রিমন মাঠ ভর্তি দর্শক ও খেলোয়াড় ও অতিথিদের সামনেই আমাকে চড়-থাপ্পর দিতে শুরু করেন। 

তিনি আরও বলেন, সাংসদ রিমন আমাকে গাড়িতে দেখেই ক্ষিপ্ত হন। তিনি তখন মাইক্রোর ড্রাইভারকে কিছু না বলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছিলেন।  মূলত, আমি  প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ সুলতানা নাদিরার হয়ে শোক দিবস উপলক্ষে ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়েছিলাম। তিনি  রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের মাঠ ভর্তি দর্শকের সামনে মিটিয়েছেন।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাবির হোসেন এমপির আচরণে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমপি আমাকে বলেছেন- নজরুল মাইক্রোর ড্রাইভারকে সাইড না দেওয়ার  জন্য বলছেন। এজন্যই তিনি কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মেরেছেন।

এ ব্যাপারে বিএফডিসি মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর জমাদ্দার বলেন, দেখেছি এমপি চড় মেরেছেন। মনে হয় কোন বেয়াদবি করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা - ২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই

ফেসবুক পেইজ