সিলেটে স্কুল মাঠে পরিত্যক্ত গাছ, অপসারণে উদ্যোগ নেই!
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

প্রতিদিন প্রতিবেদক

প্রকাশ ২০২১-০৯-১৪ ১৯:২০:৩৭
সিলেটে স্কুল মাঠে পরিত্যক্ত গাছ, অপসারণে উদ্যোগ নেই!

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় দূর্গাকুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আড়াই মাস থেকে পড়ে আছে পরিত্যক্ত রেইন্ট্রি গাছ। গত ২৮ জুন উপচে পড়ে পঞ্চাশোর্ধ বিশাল এই গাছটি। আড়াই মাস পেরিয়ে গেলে গাছটি আজ পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষনা করে। যার ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী না থাকায় গাছ উপচে পড়ে গেলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাছটি পড়ে যাওয়ার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বন বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অপসারণের জন্য লিখিত আবেদন জানান। গাছটি অপসারণের আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করেনি বনবিভাগ।

জানা যায়, গত ৩০ জুন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. বায়েজীদ খান স্বাক্ষরিত এক পত্রে সিলেট বিভাগীয় বনবিভাগকে রেইন্ট্রি গাছটি নিলামের জন্য মূল্য নির্ধারণ ও অপসারণ সহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আবেদন জানান। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও গাছটি অপসারণে সিলেট বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়নি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলার পরেও পড়ে যাওয়া গাছ অপসারণে বনবিভাগের উদাসীনতা রয়েছে বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমে আসায় গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে সরকার। যার ফলে আবারও শুরু হয়েছে পাঠদান। শিক্ষার্থীদের পথচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঝড়ে পড়া গাছ পরে থাকায় শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা যাওয়া করছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা এমন আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় বিশাল আকৃতির রেইন্ট্রি গাছ ঝরে উপচে পড়ে যায়। ২৮ জুন গাছটি ঝড়ে পড়ার পরও আজ পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি। গাছটি পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকিয়ে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিন টাইমে ও ছুটির পর গাছের উপর উঠে লাফালাফি করে থাকে, যার কারণে ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেগুপ্তা কানিছ আক্তার জানান, মহামারী করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের নির্দেশনায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়। গত ২৮ জুন বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে থাকা বিশাল বড় একটি গাছ ঝড়ে উপচে পড়ে যায়। গাছটি পরে যাওয়ার পর অপসারণের জন্য বনবিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয় নি। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত গাছটি অপসারণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সিলেট প্রতিদিন/এসএএম

ফেসবুক পেইজ