সিলেটে ভিপিএন-এ চলছে ফ্রি ফ্রায়ার- পাবজি
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

এনামুল কবীর

প্রকাশ ২০২১-০৯-১৪ ১৬:০৯:২৫
সিলেটে ভিপিএন-এ চলছে ফ্রি ফ্রায়ার- পাবজি

অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনলাইন মোবাইল গেম ফ্রি ফায়ার ও পাবজি। দুটি গেমের নেশায়ই বুঁধ সিলেটসহ সারাদেশের কিশোর তরুণ। এমনকি উচ্চ আদালতের নিষেধে গেম দুটি খেলার উপায় বন্ধ করার পরেও কিন্তু থেমে নেই এই আসক্তি। এখন বাংলাদেশে থেকেই আমেরিকান পরিচয়ে  চলছে এই সর্বনাশা নেশার নিবৃত্তি। ভিপিএন ব্যবহার করে চলছে এখন ফ্রি ফায়ার- পাবজি।

যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয় সব পেয়েছির দেশ। শর্ত একটাই। থাকতে হবে ডলার। এটি থাকলে সবকিছুই মিলে এই দেশটাতে। অনলাইনে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতেও আছে সেই ডলারের খেলা। বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য ভিপিএন-এ সয়লাব অনলাইনের ভূবন। এই ভিপিএন ডাউনলোড করেই এখন চলছে ফ্রি ফায়ার বা পাবজি।

সিলেটেরই ইলেক্ট্রিসাপ্লাই এলাকার দুই কিশোর রাজু ( ১৬) ও রনি (১৫)। দু’জনেই আসক্ত পাবজি আর ফ্রি ফায়ারে। সরকার এ দুটি গেম খেলার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছি জেনে প্রথম কয়েকদিন তারা হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। বেশ হতাশা প্রকাশ করেছিল তারা। 

তবে কয়েকদিন আগে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে দু’জনেই জানিয়েছে, এসব বন্ধ করা অসম্ভব। তারপর হাসতে হাসতেই রাজু জানায়, ইতা বন্ধর কোন উফায় নাই। আমরা এখনো খালাই।

এতে ওদের কাজকর্মের ক্ষতি হয় কি না জানতে চাইলে দু’জনেই জানায়, কিতার খতি। আমরার খেলাও চলে কামও চলে।

জানা গেছে, অনলাইন গেম পাবজি আর ফ্রি ফায়ারে শুধু কিশোর তরুণই নয়, অনেক যুবক ও মধ্যবয়সীরাও আসক্ত। তেমনই একজন নগরীর সুরমা মার্কেট এলাকার হাবিবুর রহমান ( ৪০)। বললেন, খেলাত চলছেই। এখন ঝুঁকি অন্যত্র। আমরা বয়স্করা ভিপিএনে কেবল পাবজি বা ফ্রি ফায়ার খেলছে। কিশোর তরুণদের যারা এতদিন ভিপিএন সম্পর্ক খুব একটা ধারণা রাখতনা, তারা এখন সেটি দ্রুত পেয়ে যাচ্ছে, ডাউনলোড করছে এবং এই গেমগুলোর মত ভয়ঙ্কর বিভিন্ন সেক্সুয়াল সাইটে সহজেই প্রবেশ করছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে।

এর থেকে মুক্তির উপায় বলতে গিয়ে হাবিব বলেন, ওসবে কোন লাভ নেই। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে স্মার্ট ফোন  দেয়া যাবে। আর প্রাপ্ত বয়স্করা যারা আসক্ত তাদের তাদের ব্যাপারে কঠোর নজরদারি চালানো যেতে পেরে।

নিজের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সবসময় না আমি কেবল অবসরেই খেলি এক আধটু- বলে হাসতে হাসতে কেটে পড়েন তিনি।

সিলেট প্রতিদিন/ইকে

ফেসবুক পেইজ