সিলেটে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো বিডি লাইক অ্যাপ
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:০৬ অপরাহ্ন

মশাহিদ আলী

প্রকাশ ২০২১-০৮-২৯ ০৫:১৫:৪৯
সিলেটে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো বিডি লাইক অ্যাপ

করোনা মহামারির সময়ে যুবক-যুবতী ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।কেউ হাজার টাকা দিয়ে এসব ব্যবসা শুরু করেন। আর কেউবা লাখ টাকা নিয়ে এসব ব্যবসায় নেমেছেন। তবে ইন্টারনেটভিত্তিক সাইবার জগৎ এখন অপরাধের আখড়া। এমন কোনো অপরাধ নেই যা এই জগতে ঘটছে না। বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত ফেসবুক ও ইউটিউব কেন্দ্রিক নানা অপরাধ-প্রতারণা ঘটে চলছে অহরহ। সামান্য অসাবধানতার কারণে এর ব্যবহারকারী প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

এমনই একটি অনলাইন অ্যাপ হচ্ছে বিডি লাইক। এই অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ইনভেস্ট করে সহজে টাকা আয় করা যায় বলে মানুষকে লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। 

সম্প্রতি সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট জেলার সহকারী বরাবর একটি প্রতারাণার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বিডি লাইক ব্যবহারকারী ভুক্তভোগী।

অভিযোগে ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন, বিগত ছয় মাস ধরে bdlike.org নামক কোম্পানি বিশ্বনাথ থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনসাধারনের নিকট হতে প্রতারণা করে প্রায় ছয় লক্ষাধিক টাকা নিয়ে গেছে। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো খুঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সংশ্লিষ্টদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযোগ পত্রে তারা আরও বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবক, আমরা টাকা আয় করার আশা নিয়ে এই কোম্পানিতে কাজ করি। আমরা কেউ জানতাম না এই কোম্পানি প্রতারণার আশ্রয় নিবে। এই কোম্পানিতে ছয় লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করেছি, বর্তমানে আমরা আমাদের সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা।

জানা যায়, শুধু বিশ্বনাথ থানা বা সিলেট জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় একই অভিযোগে দিনাজপুর থানায় জিডি করেছেন আরেক ভুক্তভোগী।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী মিনহাজুল আরাফাত মিরাজ বলেন, গত কয়েক মাস আগে আমার ছোট ভাই ইউটিউবে বিডি লাইক অ্যাপে কম টাকা ইনভেস্ট করে ঘরে বসে আয় করার কথা জানতে পারে। আমাদের এলাকার বেশ কিছু মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা আয় করেছিল।পরে সেইও ওই অ্যাপের মাধ্যমে ১হাজার টাকা বিনিয়োগ করে। পরে বিনিয়োগের টাকা তুলে আবার টাকা বিনিয়োগ করে।তার দেখাদেখি আমিও প্রায় ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করি।কিন্তু গত এক মাস ধরে অ্যাপের কর্মকর্তার বিভিন্ন ধরনের টালবাহান শুরু করেছে। 

তিনি বলেন, ২হাজার টাকার একাউন্টে প্রতিদিন কয়েকটি ভিডিও দেওয়া হতো।সেই ভিডিও দেখে স্কিনশর্ট তুলে গ্রুপে দিলে সাথে সাথে বিনিয়োগকারীর একাউন্ডে ৩০টাকা করে জমা হতো। বিনিয়োগের কয়েকটি সিস্টেম রয়েছে। তারমধ্যে সিলবার, প্লাটিনাম, গুল্ড, ডায়মন্ড ও মাস্টার।এগুলোতে আবার কয়েকধাপে টাকা বিনিয়োগ করতে হয়।কিন্তু বর্তমানে তাদের কারো মোবাইলে যোগাযোগ কার যাচ্ছে না। সিলেটের প্রায় কয়েক হাজার যুবকরা এখন এই কোম্পানির প্রতারণার শিকার।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)গাজী আতাউর রহমান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি যে বিশ্বনাথ ঘটেছে তা কিন্তু না।এটা যতদূর জানতে পেরেছি সারাদেশে ঘটেছে।তারপরও বিষয়টি আমরা দেখছি।

এব্যাপারে বিডি লাইক অ্যাপের সংশ্লিষ্টদের মোবাইলে বেশ কয়েকবার কল দিলে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

ফেসবুক পেইজ