সিলেটের নিউ সিরাজী হোটেল, চলে তরুণ-তরুণীর অশ্লীল আড্ডা
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১১ অপরাহ্ন

এনামুল কবীর

প্রকাশ ২০২১-০৮-২২ ১৮:৩৯:১৬
সিলেটের নিউ সিরাজী হোটেল, চলে তরুণ-তরুণীর অশ্লীল আড্ডা

এমনিতে সামনের দিকটা খোলামেলা। কিন্তু এরপরই ভেতরের দিকে আছে  প্রাইভেসি সুরক্ষার কঠোর ব্যবস্থা। প্রায় খুঁপড়ির সমত ছোট ছোট কেবিন। এর সুযোগটা শতভাগ কাজে লাগাচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা। তারা সেখানে যাচ্ছে বসছে খাচ্ছে আর ফিসফিস করছে। অভিযোগ আছে, ঘন্টা হিসাবেও এসব কেবিন চড়ামূল্যে ভাড়া দেয়া হয়। এমনকি মাঝে মাঝে শ্লীলতাহানীর ঘটনাও ঘটছে এসব কেবিনে। এর সাথে মালিকপক্ষের চা-কফির চড়া দামের ফায়দাতো আছেই।

সিলেট মহানগরীর আম্বরখানা পয়েন্টের নিউ সিরাজী রেস্টুরেন্টের এসব কর্মকান্ড নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরানো। প্রচুর লেখালেখিও হয়েছে। কিন্তু কে শুনে কার কথা! রেস্টুরেন্টের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কথাবার্তায় মনে হল, মালিকপক্ষের অজান্তেই চলছে এসব কর্ম।

নিউ সিরাজীর নিচতলাটা এমনিতেই ঘিঞ্জি। তাও সেখানে প্রচুর মানুষের বসার ব্যবস্থা আছে। এর উপরতলায়ও বসার মত ২/৩টি টেবিল রাখা হয়েছে। এগুলোতে কাস্টমাররা খোলামেলা পরিবেশে বসে খাবার-দাবারের বিষয়টা অনায়াসে সারতে পারেন।

তবে একেবারে পেছনে উভয় পাশে রয়েছে খুব সুরক্ষিত খুঁপড়ির সতো অন্তত ৩/৪টি কেবিন। কেবিনগুলো তিনদিক থেকে বন্ধ। একদিকে সার্ভ করার জন্য একটু খোলা, তবে বন্ধের ব্যবস্থাও হয়েছে। কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো খোলা বা বন্ধ রাখা হয়। একটি সাধারণ মানের হোটেলে এমন সুরক্ষিত কেবিন ব্যবস্থা কেন? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

এই রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে অনেকেই গণমাধ্যম কর্মীদের অস্বস্তির কথা জানান। এই প্রতিবেদকের কাছেও গত এক বছরে অন্তত ৩/ ৪টি অভিযোগ এসেছে।

শনিবার ( ২১ আগস্ট ) সরজমিনে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টের দুতলায় উঠতেই অনেক নারী-পুরুষের সমবেত কলরব কানে আসে। তারপর দেখা যায়, খোলামেলা অংশে নারী ও শিশুসহ কয়েকজন যুবক বসা। খাওয়া দাওয়া করে টেবিল ছেড়ে তারা চলে যাওয়ার পরপরই ব্যস্ততা বেড়ে যায় ওয়েটারের। পেছন দিকের কেবিনে একাধিকবার তাকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যেতে দেখা যায়। কখনো খাবার নিয়ে, কখনো পানি চা বা কফি নিয়ে। ওয়েটার চলে যাওয়ার পর কয়েকবার ফিসফিসানির মতো আওয়াজও কানে আসে।

কফির অর্ডার দিলে ওয়েটার জানায়, প্রতি কাপের দাম ৩৫ টাকা। দুধ চা প্রতি কাপ ২০ টাকা। চা বা কফির পরিমাণ দেখলেও আপনার চক্কু চড়কগাছ হতে বাধ্য। কাপের তলায় একটুখানি! ধরুন, অর্ধেকের চেয়েও কম। ভাতসহ অন্যান্য যেকোন খাবারের দামও এমন চড়া।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ তারকা নয়, নয় চাইনিজ মানের। একটি অতিসাধারণ মানের রেস্টুরেন্ট মনে করে এটিতে আহারাদির জন্য উঠেন সাধারণ কাস্টমারও। কিন্ত এরপর সার্বিক পরিবেশ আর খাবারের দাম জেনে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যান প্রায় সবাই। তর্কবিতর্ক প্রায় লেগেই থাকে। কখনো কখনো তা ঝগড়াঝাটিতেও রূপ নেয়।

আর উপরতলায় আসেন তরুণ-তরুণীরা। বেশিরভাগই উঠতি বয়সী। তারা আসেন এবং বসেন দীর্ঘ সময়। চা বা কফির আড্ডার সাথে চলে ফিসফিসানী। তারপর তা অশ্লীলতার পর্যায়েও পৌঁছে যায় বলেও অভিযোগ আছে। আর রেস্টুরেন্টের এই পরিবেশের কথা না জেনেই হঠাৎ কোন ছেলে বন্ধুর পাল্লায় পড়ে কোন কোন তরুণী এখানে চলে এসে বিপাকে পড়েন। কেবিনে নিয়ে তাদের শ্লীলতাহানীর অপচেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, কবিন ঘন্টা হিসাবে ভাড়া দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়।

এত সুরক্ষিত কেবিনের প্রয়োজনীয়তা কেন- এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে থতমত খেয়ে যান সাজ্জাদ। কোন যুুক্তিসঙ্গত কারণই দেখাতে পারেন নি। উল্টো বিষয়টি প্রকাশ না করতে অনুনয় বিনয় করতে শুরু করেন। সুরক্ষিত কেবিনে ঘটা কর্মকান্ড রেস্টুরেন্টের মালিকপক্ষকে না জানাতেও অনুরোধ করেছেন তিনি।

সিলেট প্রতিদিন/এসএএম/ইকে

ফেসবুক পেইজ