দাওয়াত না দিলে আপনি যাবেন কেন?
শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

শামীম আহমদ ভিপি

প্রকাশ ২০২১-০৮-২০ ১৭:০৮:৩১
দাওয়াত না দিলে আপনি যাবেন কেন?

সংগ্রামী বন্ধুগণ,সংগ্রামী শুভেচ্ছা রইল। এ ব্যাপারে অতীতে আমি একবার লিখেছিলাম। গত ১৭ তারিখ আমাদের প্রিয় নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক জনাব আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল সিলেট ৩ আসন এর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট সফরে আসেন। উনি আসায় আমাদের তিন উপজেলার প্রত্যেকটি যুবলীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন । তার জন্য নিখিল ভাই সহ কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দ কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

এখন আসি মূল কথায়- আমি এর পূর্বে এ ব্যাপারে একবার লিখেছি - যে কোন একজন মানুষ নিখিল ভাইকে তার বাসায় দাওয়াত দিয়েছে । নিখিল ভাইয়ের সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দ আছেন। সে তাদের হিসেব করে খাবারটা তৈরি করলো । ধরেন আপনি যুবলীগের একজন নেতা বা কর্মী কিন্তু ওই বাসায় আপনার দাওয়াত নাই, আপনাকে দাওয়াত দেয়নি, আপনি সেখানে যাবেন কেন?

যদি আপনি সেখানে বিনা দাওয়াতে যান তাহলে আমি ধরে নেবো আপনার ন্যূনতম ব্যক্তিত্ব নাই। আপনাকে তো সবাই ছোট নজরে দেখবে। যুবলীগ করবেন আর ব্যক্তিত্ব থাকবে না সেটা তো হতে পারে না। নিখিল ভাই যত বাসায় খেয়েছেন তারা আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন বিধায় আমি সেখানে গিয়েছি। যদি দাওয়াত না দিতেন। তাহলে আমি নিখিল ভাইকে বাসার গেইটে বুঝিয়ে দিয়ে আমি চলে আসতাম ।

যেহেতু উনি আমার নেতা। গত তিন দিনের অভিজ্ঞতায় দেখলাম প্রায় নেতাকর্মী কেমন ভাবে বিনা দাওয়াতে বাসায় গিয়ে হাজির হয়েছেন। বাড়ির মানুষ বা বাসার মানুষ যে তাদেরকে খাবার সার্ব করবে সেই সুযোগটুকু তারা দিতে নারাজ। আমি মাঝে মাঝে বড় আশ্চর্য হই। আমরা রাজনীতি করি। সমাজকে সুন্দর করার জন্য, কাজ করি মানুষকে শিখানোর জন্য অথচ আমরা নিজে এমন কিছু কাজ করি যেটা শুনলে, দেখলে ঘৃণা হয়।

সম্ভবত ক্লাস থ্রী তে পড়ি। আমার এক ক্লাসমেট আমাকে বললো জানোস আমি টেলিভিশন দেখেছি। তার কাছ থেকে টি,ভি কি সেটা ভাল ভাবে বুঝলাম। তখন আমাকে বললো তুই দেখবি? আমি বললাম দেখবো । কোথায় যেতে হবে ? বাড়িতে বলে যদি পারমিশন দেন তাহলে যাবো। সে বললো শেরপুর অমুকের বাড়ি। আমি বললাম ঘরের ভিতরে না বাহিরে দেখায়। আমাকে বললো ভিতরে তবে খাটে ( পীড়া) বসে দেখতে হবে।

আমি তাকে গালাগালি করি। আমার জীবনের প্রথম টিভি দেখার শখটা বিসর্জন দিতে হলো। কারন এটা ওজনের বিষয়। ব্যক্তিত্ব পৃথিবীতে সবচে বড়। আরো অনেক বিষয় দেখেছি। রাজনৈতিক প্রোগ্রামে স্টেজে এলাও না তারপরেও স্টেজে গিয়ে অনেকে উঠে পড়ে । আমি জীবনে এগুলি করিনি। আমার এত বছরে রাজনৈতিক জীবনে যেখানে এলাও না সেখানে কোনদিন যাইনি।

যদি কোন কারনে আমাকে বলে নেমে যাও এর চেয়ে বড় লজ্জার বিষয় আর হতে পারে না। এগুলি আমাদের খেয়াল করা অত্যন্ত দরকার সুতরাং ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন,সম্মান অর্জন করুন।

লেখক

সভাপতি

সিলেট জেলা যুবলীগ।

সিলেট প্রতিদিন/এসএএম

ফেসবুক পেইজ