শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

কুলাউড়ায় বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা

  • প্রকাশের সময় : ১৫/০৯/২০২৩ ০৪:১০:১৩
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
26

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ইছলাছড়া খাসিয়া পুঞ্জির ১শ’ ৫০ একর জায়গায় সামাজিক বনায়নের নামে খাসিয়াদের রোপিত পান, সুপারি, কলা, লেবু,আনারসসহ বিভিন্ন প্রজাতীর মূল্যবান গাছগাছালি কাটায় স্থানীয় বরমচাল বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ইছলাছড়া পানপুঞ্জির হেডম্যান আলফায়াল খাসিয়া বিবিধ ভায়ালেশন মামলা (নং ১৬/২০২৩) দায়ের করলে বিচারক আদালত অবমাননার আবেদন গ্রহন করে বিবাদী কুলাউড়া রেঞ্জের বরমচাল বিট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে আদালত অবমাননায় বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে আদালতের সেরেস্তাদার জানিয়েছেন। 

ইছলাছড়া পুঞ্জির হেডম্যান আলফায়েজ খাসিয়া জানান, গত প্রায় ৫০ বছর থেকে ইছলাছড়া পুঞ্জিতে খাসিয়ারা বসবাস করে আসছে। বর্তমানে বসবাসরত ৪৯ পরিবারের সদস্য সংখ্যা রয়েছে ৫শ’র উপরে। খাসিয়ারা ইছড়াছড়া পুঞ্জির আওতাধীন বাউরগাং ও কালিয়ারআগা এলাকায় পানের ঝুম, মাছের ফিশারী, সুপারী, লেবু,আনারস, কলা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেছে। কালিয়ারআগা এলাকার তার পিতা তেলমোহন পথমি ৩০/৩২ বৎসর পূর্বে পাকা ঘর নির্মান করে বসবাস করেছেন। তিনি মারা যাওয়ার ১২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও পাকাঘর, গীর্জা বিদ্যমান রযেছে। কিন্তু বনায়নের নামে বনবিভাগ আমাদের রোপিত লক্ষ লক্ষ টাকার গাছগছালি, পানও অন্যান্য কৃষিজদ্রব্য কেটে সাবাড় করে একাশিয়া গাছ রোপন করে জবর দখল করেছে। আমাদেরকে  নতুন করে পুঞ্জিতে থেকে উচ্ছেদের পায়তারায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে বনবিভাগ। 

তিনি জানান, এজায়গার বিষয়ে বনবিভাগের পক্ষে গত গত বছরের ১০ আগস্ট একটি রায় আসে নিম্ন আদালত থেকে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করলে জেলা জজ আদালতের বিচারক আমাদের আপিল গ্রহন করে উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ ১শ’ ৫০ একর জায়গার দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ  প্রদান করেন । 

আলফায়েজ খাসিয়া আরও জানান, বনবিভাগ জেলা জজ আদালতের রায় না মেনে অর্থাৎ বিরোধপূর্ণ ১শ’ ৫০ একর জায়গায় দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ না মেনে বনায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় আমরা (খাসিয়ারা) বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করি। আদালত আমাদের মামলা গ্রহন করে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। 

এব্যাপারে বরমচাল বিট অফিসার হাফিজুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এবং উনার সরকারী অফিসে গিয়েও না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। 

তবে সিলেট বনবিভাগের কুলাউড়া রেঞ্জ অফিসার রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বনবিভাগের বরমচাল বনবিটের ১ হাজার ৮শ’ ৫০ একর জায়গা ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেষ্ট নামে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে স্বীকৃত এবং ১৯২৬ সাল থেকে রিজার্ভ ফরেষ্ট বনবিভাগের দখলে আছে। ২০২০-২১ সালের স্বল্প মেয়াদী সামাজিক বনায়নের বাগান সৃজিত হয় এবং  পূর্বের বিনষ্ট বাগানে পুনঃবনায়ন করতে গেলে খাসিয়ারা সরকারী কাজে বাধা দিয়ে আদালতে এসেছে। তবে আদালত অবমাননায় বিষয়ে কোন নোটিশ বনবিভাগ পায়নি। তিনি বলেন, খাসিয়ারা অবৈধভাবে এসব কিছু করছে। 



সিলেট প্রতিদিন / ইকে


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি