শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন

বস্তাভর্তি কোরআন শরিফ দিয়ে যায় ইসহাক! সাবেক দুই শিবির নেতা আটক

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০৮/২০২৩ ১০:৩৮:১৭
এই শীতে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের
Share
57

সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার ধানুহাটারপাড়াস্থ এলাকায় ৪৫টি কোরআন শরীফ পুড়ানোর ঘটনায় শিবিরের ২ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।এই ঘটনার সাথে জড়িত ইসহাক নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করতে অভিযান করছে পুলিশ।

৬ আগস্ট রোববার  বিকেলে নুরুল রহমানের কাছে  জালালাবাদ থানাধীন ফতেহপুর মাদ্রাসার শিক্ষক ইসহাক নামের এক ব্যক্তি কার্টুন ও বস্তা ভর্তি কোরআন শরীফ দিয়ে যান। কুরআন শরীফ দিয়ে কার্টুন রক্ষিত কোরআন শরীফ মানুষের মধ্যে বিলি করতে বলেন। একই সাথে বস্তায় রক্ষিত কুরআন শরীফ গুলো পুড়িয়ে ফেলতে বলেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ইসহাক সিলেট বেতারের ক্বারী ও সিলেট আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কথামতো রবিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গ্রেফতারকৃত নুরুর রহমান সঙ্গীয় মাহবুবল আলমকে নিয়ে ৪৫টি কোরআন শরীফ পুড়ানোর সময় স্থানীয়রা দেখে ফেলেন। এ ঘটনার সাথে জড়িত ফতেহপুর মাদ্রাসার শিক্ষক ইসহাকসহ ঘটনায় অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

কুরআন শরীফ পুড়ানো হয়েছে এমন খবর জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ থেকে পেয়ে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২জন গ্রেফতার করে। কুরআন শরীফ পুড়ানো খবর পেয়ে উত্তেজিত জনতা শিবিরের ২ সদস্যকে মারধর করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। অভিযান চালিয়ে  সিলেট আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর চেয়ারম্যান নুরুর রহমানকে (৫০) গ্রেফতার করে। তিনি গোলাপগঞ্জের বসন্তপুর গ্রামের মৃত ফজুর রহমানের ছেলে, বর্তমানে তিনি কোতোয়ালি থানাধীন তপুবন এলাকার সরু মিয়ার বাসায় বসবাস করে আসছেন। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানাধীন বাউলাপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মাহবুব আলমকে (৪৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মাহবুব বর্তমানে কোতোয়ালি থানাধীন ধানুহাটারপাড় এলাকায় বসবাস করে আসছে।

 এদিকে, উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে পুলিশকে লক্ষ্য ইট-পাটকেল ছুড়ে।পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য  সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এসময়  উত্তেজিত জনতার ইটের আঘাতে অসংখ্য পুলিশ সদস্য আহত হয় এবং পুলিশের গাড়ী ভাংচুর হয়। আহত পুলিশ সদস্যদেরকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত নুরুর রহমান ও মাহবুব আলম  ছাত্র জীবনে শিবিরের সক্রীয় সদস্য ছিলো। নুরুর রহমান ছাত্র জীবনে ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়াতে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। তিনি বর্তমানে জৈন্তাপুর মাদ্রাসা সিলেটে ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক ও পাশাপাশি সিলেট আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের  সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী জানান, কুরআন শরীফ পুড়ানোর জন্য ঘটনাস্থল থেকে ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে পুলিশ পুড়ানো কুরআন শরীফ উদ্ধার করেছে। সেই সাথে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ। তিনি জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুরআন শরীফ পুড়ানোর ঘটনায় শিবিরের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এসময় উত্তেজিত জনতার হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।


সিলেট প্রতিদিন / এসএএম


Local Ad Space
কমেন্ট বক্স
© All rights reserved © সিলেট প্রতিদিন ২৪
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি