তাহিরপুরে জামায়াত পরিবারে নৌকা!
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৩৫ অপরাহ্ন



তাহিরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ ২০২২-০১-১৪ ০৯:২৪:৫২
তাহিরপুরে জামায়াত পরিবারে নৌকা!

রাজন চন্দ,তাহিরপুর : সিলেট অঞ্চলে শীর্ষ সারির এক জামায়াত নেতার ভাগিনাকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ এনে ক্ষোভ, হতাশা আর অভিমানে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাইলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এক নেতাকে কোনো কিছুতেই অবসরে দিতে চাচ্ছে না তার কর্মী সমর্থকরা।

তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান এমন অভিযোগ এনে হতাশা ও অভিমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ ও রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেয়ার চেষ্টা করছেন।

সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নেই ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামীলীগ। প্রার্থী তালিকায় সিলেটের শীর্ষ জামায়াত নেতা মাওলানা শামসুজ্জামানের ভাগিনা আবুল খায়েরকে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তৃণমূল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আবুল খয়েরের নাম না থাকা সত্ত্বেও এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নিবেদিত ও নির্যাতিত ত্যাগী অনেক নেতাদের পাশ কাটিয়ে জামাতের শীর্ষ নেতার পরিবারে নৌকা দেয়ায় চরম ক্ষোভ আর অভিমান নিয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাচ্ছে তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খাঁন।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মিটিংয়ে ওয়ার্ড কমিটির সকল তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সমর্থনে আবুল হোসেন খানের একক নাম প্রস্তাব করে পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু নাম না থাকা ও যার তৃনমুলে কোনো অবস্থান নেই সেই ব্যাক্তিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়ায় সকল নেতাকর্মীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এখানে নৌকার ভরাডুবি অনেকটাই নিশ্চিত।

এ বিষয়ে নৌকার মনোনীত প্রার্থী আবুল খয়ের বলেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধ। আমি নিজে সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। দল আমাকে যাচাই-বাছাই করেই নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে, আমি অবশ্যই বিজয়ী হবো।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন খাঁন বলেন, সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের আমার রাজনৈতিক জীবনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ও বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। যুগ যুগ ধরে আমার অনেক শ্রম ঘামের বিনিময়ে উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত করেছি। শুধুমাত্র আ’লীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে বার বার জামাত বিএনপি দ্বারা মোট ২৭ টি মিথ্যে মামলার শিকার হয়েছি। ওয়ান এলিভেনের সময় একনাগাড়ে ৭ মাস জেলে থাকা সহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বছরের পর বছর কারাবরণ করেছি। কিন্তু শেষ জীবনে এসে আমার আওয়ামী লীগে থাকা কিছু খন্দকার মোস্তাক প্রজন্মের ষড়যন্ত্র ও মনোনয়ন বাণিজ্যের কাছে আমি অবমুল্যায়িত হয়েছি। তাই রাজনীতি থেকে আমি এখন অবসর নেয়ার চেষ্টা করছি।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

বিজ্ঞাপন স্থান


পুরাতন সংবাদ খুঁজেন

ফেসবুক পেইজ