মিশিগানের ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশী কামরুল হাসান
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৪৩ অপরাহ্ন



আশিক রহমান, মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র)

প্রকাশ ২০২২-০১-০৬ ১১:০৬:২৯
মিশিগানের ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশী কামরুল হাসান

প্রবাসে বাংলাদেশীদের সফলতার গল্প দিনদিন বড় হচ্ছে। বাড়ছে প্রবাসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুতদের নিজেদেরকে জানিয়ে দেয়ার, আমরাও পারি। কঠিন সময়কে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।

বলছিলাম, মিশিগানের হ্যামট্রামেক সিটিতে বসবাসরত বাংলাদেশী- আমেরিকানদের পদচারনা। মিশিগানের হ্যামট্রামেক সিটি প্রশাসন নির্বাচনে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার ইতিহাসে বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিটিতে বিভিন্ন মেয়াদে পলিশ বংশোদ্ভুতরা মেয়র নির্বাচিত হলেও গেল বছরের ২ নভেম্বরের নির্বাচনে ইয়েমেনি বংশোদ্ভুত আমেরিকান আমির গালিব মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি এই নির্বাচনে ৩ জন মুসলিম কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছেন। মেয়র ও কাউন্সিলর মিলে ৭ সদস্যবিশিষ্ট পুরো সিটি প্রশাসনের দায়িত্বে এখন মুসলিমরা, যেখানে ২ জন বাংলাদেশী-আমেরিকান  কাউন্সিলরও আছেন। তারা হলেন কামরুল হাসান ও নাইম লিয়ন চৌধুরী।

গত ২ জানুয়ারি শপথ গ্রহনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।

যথারিতী ৪ জানুয়ারি সাধারণ সভায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সিটির ডিপুটি মেয়র নির্বাচিত করা হয়। সভায় বিনা আপত্তিতে ০-৭ ভোটে বাংলাদেশী আমেরিকান বংশোদ্ভুত কাউন্সিলর কামরুল হাসানকে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। 

এদেশে মূলধারার রাজনীতি ও সফলতার গল্প নিয়ে ডেপুটি মেয়র কামরুল হাসানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তার দেশের বাড়ি চট্রগামে চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। তিনি মরহুম আমিনুল হক মেম্বারের ৪র্থ ছেলে। তারা ১০ ভাই বোন এবং নিজেও ৫ সন্তানের জনক।

কামরুল হাসান নিজ গ্রাম মোহাম্মদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করে জোয়ারা বিসি হাইস্কুল থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি পাস করেন।তারপর গাছবাড়িয়া সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে দেশের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৫ সালে গণিত বিষয়ে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে মেধাতালিকায় ৫ম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

এমনকি ১৯৯১ সালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত সমিতির ভিপির দায়িত্বও পালন করেন। 

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রিতে অধ্যয়নের জন্য আমেরিকার নিউইয়র্কে আসেন। 

প্রবাসে বিভিন্ন প্রতিকূলতা থাকার কারনণ এই সম্মানজনক ডিগ্রি অর্জন করতে না পারলেও ২০০২ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েট মারসি ইউনিভার্সিটিতে ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য ভর্তি হন।পাশাপাশি শুরু হয় জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই। মিশিগানে বিভিন্ন বড়বড় কোম্পানী মাস্টারক্রাপ্ট, লেদারওয়ার্ক, ডিস্ট্রিয়া, ফারসিয়াসহ কয়েকটি কোম্পানির ম্যানাজারিয়াল পদসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

বর্তমানে তিনি বিশ্বখ্যাত ফোর্ড মোটরস কোম্পানির প্রসেস কোচ হিসেবে দায়িত্ব এবং হ্যামট্রামেক সিটির ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।

এদেশের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, শুরুতেই আমাদের কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডসহ বাংলাদেশ- আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ককাস'র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।

২০০৯ সালে প্রথম হ্যামট্রামেক সিটির কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় হ্যামট্রামেক সিটি মেয়র, ওয়েইন কাউন্ট্রি কমিশনার ও স্টেট রিপ্রেসেজেনটেটিভ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।কিন্তু প্রতিবারই সামান্য ভোটের জন্য কাংখিত ফলাফল আসেনি। 

বর্তমানে ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কমিউনিটির মানুষের জন্য কি করার আছে এবং নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি হয়ত আগামীতে এই সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহন করবোনা। কারণ, আমাদের কমিউনিটির অনেকেই আছেন আমাদেরকে বা শহরের মানুষদের নিয়ে কাজ করার। আমি চেষ্টা করছি এবং করব তাদেরকে মূলধারার রাজনীতি বা স্থানীয় প্রশাসনিক নির্বাচনে অংশগ্রহন করানোর। তবে একটা বিষয় ধ্রুব সত্য যে, আমাদের এই স্থানীয় নির্বাচনে দেশীয় আঞ্চলিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। যার কারণে, আমাদের কাংখিত ফল পেতে অনেক বেগ পেতে হয়। নিজেদের স্বার্থে এগুলো পরিহার করতে হবে।আমরা সম্প্রতি আমাদের মধ্যে ঐক্য বৃদ্ধির জন্য একটি সংগঠন তৈরী করেছি। আশা করি আগামী নির্বাচনগুলোতে আমরা যে নির্বাচনেই অংশগ্রহন করি না কেন, আমরা আমাদের ফলাফল পাবো। 

উল্লেখ্য যে, আমেরিকার ইতিহাসে বাঙ্গালীদের মধ্যে যে কোন সিটি প্রশাসনে প্রথম কাউন্সিলর সাহাব আহমেদ সুমীন যিনি হ্যামট্রামেক সিটিতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র গ্যারি জিক'র সাথে ডেপুটি মেয়র হিসেবে এবং আরেক কাউন্সিলর এনাম মিয়া ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান ডেপুটি মেয়র কামরুল হাসানের এই সফলতায় মিশিগানে বাংলাদেশীদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস চলছে।

সিলেট প্রতিদিন/ইকে

বিজ্ঞাপন স্থান


পুরাতন সংবাদ খুঁজেন

ফেসবুক পেইজ