সিলেটে নাদেলের ‘মধুর’ প্রতিশোধ
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০৫ অপরাহ্ন



ওয়েছ খছরু

প্রকাশ ২০২১-১২-৩১ ১২:৩৮:২০
সিলেটে নাদেলের ‘মধুর’ প্রতিশোধ

ওয়েছ খছরু : সাবেক অর্থমন্ত্রীর জমানা থেকেই সিলেটের রাজনীতিতে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠেছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল তখন তিনি ছিলেন সিলেট আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সারির নেতা।

নানা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও অগ্রজ রাজনীতিকদের কারণে তিনি ব্যাকফুটে ছিলেন। তবে নাদেল সীমানা অতিক্রম করেননি কখনো। এরপরও সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সহজেই ছাড় দেয়া হয়নি সিলেট ছাত্রলীগের সাবেক এই শীর্ষ নেতাকে। দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। সিলেটের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও নাসির উদ্দিন খানের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ২০১৯ সাল।

দু’দফা সিটি করপোরেশনের মসনদ হারানোর পর দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে বদলে দেয়া হয় সিলেট আওয়ামী লীগকে। নাসির উদ্দিন খান জেলার সাধারণ সম্পাদক হলেও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল থাকেন বঞ্চিত। ওই সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তিনি সফল হতে পারেননি। বরং সাইডলাইনের নেতা হিসেবে তাকে রেখে দেয়া হয়। এতে কিছুটা দোষেও দুষ্ট ছিলেন নাদেল নিজেই।

সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের শেষবারের পরাজয়ের পর নাদেলকে তোলা হয়েছিল কাঠগড়ায়। তখন কেন্দ্র থেকে তাকেও করা হয়েছিল শোকজ।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন; ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করার পর নাদেল মহানগরে এবং নাসির জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। সমানতালে চলা দু’জনের রাজনীতিতে শেষদিকে এসে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতিতে মারপ্যাঁচে এগিয়ে গিয়েছিলেন নাসির উদ্দিন খান। সেখানে পিছিয়ে গিয়েছিলেন নাদেল। মহানগর সাধারণ সম্পাদক হতে না পেরে সিলেটে তার রাজনীতি নিয়ে নানা শঙ্কাও তৈরি হয়। তবে ওই সময় নাদেল কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, কিংবা তার বলয়েরও নেতারাও প্রকাশ্যে কোনো ক্ষোভ ঝাড়েননি।

একই সময় আবার সিলেটের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সাবেক ছাত্রনেতাদেরও প্রাধান্য দেয়া হয়। এর মধ্যে মহানগরে আজাদুর রহমান, বিধান কুমার সাহা, জেলায় রঞ্জিতকে উপরের কাতারে নিয়ে আসা হয়েছিল।

এতে করে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন নাদেল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় কপাল খুলে যায় নাদেলের। হয়ে যান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। এরপর থেকে আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হচ্ছে না। সিলেট আওয়ামী লীগ থেকে এখন সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে কেন্দ্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাদেল। সিলেট থেকে নাদেল উড়ে গেলেও সিলেটের রাজনীতিতে তার অবস্থান রয়েছে আগের মতোই।

এখন সিলেট আওয়ামী লীগের নবীন-প্রবীণ নেতাদের নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান। পূর্বের মতো এখন আর সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতি নেই। এখন এক ডাকে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা এক কাতারে এসে শরিক হন। এখানে কারো হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগও রাখা হয়নি। কারণ- দলীয় প্রধান চান; সিলেটের ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ কারণে সিলেটের নেতারা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।

জেলা কিংবা মহানগর- উভয় অংশের নেতারা একসঙ্গে রাজনীতি করছেন। এখানে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার পর নাদেলের সঙ্গে ক্রমেই সিলেটের নেতাদের দ্বন্দ্ব দানা বাঁধে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাদেল সবখানেই চান নিজের হিস্যা।

সিলেটের নেতারা জানিয়েছেন, এই হিস্যা চাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে। কয়েক মাস আগে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে নাদেলের সঙ্গে সিলেটের নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হয়। ঘোষিত কমিটিকে প্রথমে গ্রহণ করেননি সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা। ছাত্রলীগ নেতাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা। সিলেটে এসে নাদেলও সেই দরজা খুলতে পারেননি।

পরবর্তীতে অবশ্য জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের মাধ্যমে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে গ্রহণ করেছে সিলেট আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগের এ দ্বন্দ্ব এখনো বহমান বলে জানিয়েছেন সিলেটের নেতারা। তারা বলেন, এই দ্বন্দ্বের পর থেকে নাদেলের সঙ্গে সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থায় বুধবার সিলেটের বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রথমবারের মতো সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে মেয়রের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা সেই নাগরিক সংবর্ধনাকে বয়কট করেন। এ কারণে মেয়র আয়োজিত ওই নাগরিক সংবর্ধনায় যাননি সিলেট আওয়ামী লীগের কেউ।

আর এখানেই সুযোগ নিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের তরফ থেকে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়েও আসেন। এই সংবর্ধনায় নাদেলের উপস্থিতি সিলেট আওয়ামী লীগে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সিলেটের নেতারা বিষয়টি সহজেই মেনে নিতে পারছেন না।

মন্ত্রীও ওই নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তৃতাকালে সিলেট আওয়ামী লীগকে এক হাত নিলেন। বললেন; ‘ওদের লজ্জা করা উচিত।’

তবে সিলেট আওয়ামী লীগের নাদেল বলয়ের নেতারা জানিয়েছেন- শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি দাওয়াত পেয়ে নাগরিক সংবর্ধনায় গেছেন। কে গেল না গেলে সেখানে দেখার কিছুই নেই। তিনি কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে যথার্থ কাজই করেছেন। এজন্য তিনি প্রশংসাও পাচ্ছেন। বরং সংবর্ধনায় না গেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনকে সিলেট আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো। সেই সুযোগ দেননি কেন্দ্রীয় নেতা নাদেল।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

বিজ্ঞাপন স্থান


পুরাতন সংবাদ খুঁজেন

ফেসবুক পেইজ