বিজয়ের পঞ্চাশ বছর তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৩৩ অপরাহ্ন



আল-আমিন

প্রকাশ ২০২১-১২-১৬ ০৩:১৩:০৭
বিজয়ের পঞ্চাশ বছর তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ

আমি বাংলাদেশের বিজয়ের পঞ্চাশ বছর অতিবাহিত করছি, এই ভেবে আমার অহংকার হয়, আমি গর্ব করি। এবছর বাংলাদেশ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করেছে। গেল বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ তথা জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ বা জন্মশতবার্ষিকী দেখার সুভাগ্য আমার হয়েছে। পঞ্চাশ বছর প‚র্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাল সবুজের পতাকার বিজয় হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স‚চনা হয়। কোভিড-১৯কে উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যব্যাধি মেনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি বাঙালি মহাউৎসবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং এবছর বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে। আমি এই মহাউৎসবগুলোর আয়োজন দেখছি এবং আনন্দ অনুভব করছি। এসময়টি আমার কাছে এক অনুভ‚তিময় আনন্দের উজ্জ্বলময় বছর হিসেবে আমার স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে।

বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন উন্নয়নের সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। নয় মাসের সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ আজ মহাউৎসবে উন্নয়নের পথে। আগামীর বাংলাদেশ অনুভ‚তিময় এক আনন্দের অধিকতর উজ্জ্বল দিনের অপেক্ষায়। বাংলাদেশ আজ নব জাগরণে, অযুত সম্ভাবনার মুহ‚র্তে। স্বাধীনতার চেতনার রূপ সংবিধানের জাতীয় চার ম‚লনীতি: গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের আদর্শে। এজন্য আজকের বাংলাদেশ অতীতের বাংলাদেশকে উহ্যরেখে এখন সম্ভাবনাময় আগামীর উন্নয়নের মহাসড়কে। দেশ এখন সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশে উন্নত হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দ‚রদর্শিতায় আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, জলবায়ুর পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রাকৃতিক দ‚র্যোগ মোকাবেলাসহ রাষ্ট্র সবক্ষেত্রেই সফলতার দিকে হাঁটছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, স্বাধীনতার বাংলাদেশ, মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ এবং তারুণ্যের চোখে আগামীর উন্নয়নের বাংলাদেশকে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে উপলব্ধি করছি।

এজন্য এবারের বিজয় দিবস আমাদের কাছে অধিকতর তাৎপর্যবহন করছে। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে লক্ষ্যনীয়, রাষ্ট্র দেশের গৃহহীন মানুষগুলোকে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ অন্যান্য মৌলিক সুবিধা প্রদান করছে। একেকটি গ্রামকে উন্নত শহরে রুপান্তর করছে। নগর এবং গ্রামে প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভাট করে দিচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। বছরের পহেলা দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো নির্মাণ, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন করছে। দেশ সারাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে বিশ্বের দরবারে নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশানুযায়ী দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠায় দেশ গুরুত্বপ‚র্ণ অবস্থানে আরো দ্রæতগতিতে পৌঁছবে বলে আশাবাদী। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে আরো দ্রæতগতিতে এবং দেশের জনগণের জীবনমান শতভাগ সমৃদ্ধ হবে। আজকের বাংলাদেশ যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমÐলে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

আমরা চাই, দেশের সকল নাগরিকের সুবিধা সুনিশ্চিত, অসহায়ের মানুষের সহায়, তথ্য প্রযুক্তি প্রসারে হাতের মুঠোয় বিশ্ব, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ, কৃষকের মুখে হাসি, উড়াল সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, সুরমা সেতু, প্রশস্ত চারলেনের রাস্তা, গৃহহীনদের নিশ্চিত আবাসন, দরিদ্রের ঘরে বিনাম‚ল্যে চাল, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্ত সম্মান, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার, সবার জন্য সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, ভয়াবহ মাদক নির্ম‚ল, বয়স্ক ভাতা নিশ্চয়তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চলমান থাকুক। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে আগামীর উন্নয়নের বাংলাদেশকে নতুন রুপে দেখার প্রত্যাশা হলো, আমাদের দেশ হবে প্রাচুর্যে প‚র্ণ। অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ হবে। নিজেদেরকে সৃজনশীলতায় সৃষ্টি করবে উদ্দীপ্তভাবে। নতুন শক্তিতে নিজেদের ভাগ্য গড়ার প্রত্যয়ে আস্থাশীল হবে নিজের আত্মপরিচয়ে।

কারণ আমরা স্বপ্ন দেখি একটি নিরাপদ বাংলাদেশের, একটি দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের। আমরা চাই, আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্র হবে দুর্নীতিমুক্ত। স্বার্থপরতা এবং সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পশ‚ন্য দেশ হবে। এদেশের নাগরিক দক্ষ, সুশিক্ষিত ও সৃজনশীল মানবসম্পদে রুপান্তরিত হবে। নিজেদের সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ধারা অব্যাহত থাকবে সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। বেকারত্বকে মানব সম্পদে রুপান্তর করে বিশাল জনসমষ্টির এই দেশ হবে শত সম্ভাবনা এবং প্রগতিশীল রাজনীতি, উন্নয়নে অগ্রগামী, শান্তিপ‚র্ণ, কল্যাণমুখী এবং সৃজনশীল এক জনপদরূপ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল তারুণ্য। তারুণ্যের মনে, শক্তিতে এবং ভাবনায় থাকে দেশপ্রেম। একাত্তরের তরুণদের মধ্যে যেমন ছিল একতা, সাহস, ঐক্য।

তেমনি এখানকার তরুণদের মধ্যে আছে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া, শিক্ষা ও জ্ঞানভাÐার এবং শক্তি। তরুণদের এই চেতনার মনোবল, উৎসাহ ও উদ্দীপনায় অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতার সংগ্রামের বিজয়। আমাদের বিশ্বাস, তারুণ্যের নেতৃত্বের গুনাবলী দিয়েই আমাদের স্বাধীনতার সুফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। আজকের তরুণরা শিক্ষায় ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেধা ও সাহস দিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। দেশের তরুণ প্রজন্ম স্বধীনতায় বিশ্বাসী, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে শ্রদ্ধা করে এবং দেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুরর যে ত্যাগ ছিল তা বিশ্বাস করে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী তরুণ প্রজন্ম যখন দেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অনুগত হয় এবং আমৃত্যু সম্মানিত বোধ করে তখন এই দেশের তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিশ্বাস করে। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে সম্মানিত, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের মডেল হয়ে এদেশের তরুণ প্রজন্মকে সম্মানিত করেছে। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছে আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববাসী তোমরা আমাদেরকে দেখো, আমাদেরকে অনুসরণ করো। আমাদের দেশ উন্নত দেশ সম‚হের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র দ‚রীকরণে ভ‚মিকা, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স‚চকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ক্ষুধা ও দারিদ্র অবকাঠামোবিহীন বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা নিতান্ত সহজ কাজ ছিল না। সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার ৮টি লক্ষ্যের মধ্যে শিক্ষা, শিশুমৃত্যুহার কমানো এবং দারিদ্র হ্রাসকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষা সুবিধা, নারীর ক্ষমতায়ণ, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার এবং জন্মহার কমানো। স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অনেক তাৎপর্যবহন করেছে। সরকার শিক্ষাকে দেশের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনাম‚ল্যে বই বিতরণ করছে।

দেশে একসাথে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ, এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি সরকারীকরণ, বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে এমপিওভুক্তকরণ, শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ প্রণয়ন এবং শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করাসহ নানা প্রকল্প গ্রহন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে লাল-সবুজ পতাকার স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের যেমন অর্জন রয়েছে তেমনি রয়েছে ব্যর্থতা। এরপরও সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। বিশ্বের বুকে এ কথা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। বাংলাদেশও সেই সম্ভাবনাটুকু কাজে লাগাতে যথোপযুক্তভাবে চেষ্টা করছে। যদিও দুর্নীতি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, জঙ্গিবাদসহ নানা সমস্যার ফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদের প্রিয় এই মাতৃভ‚মিকে। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রচেষ্টা, নারীর অধিকার সংরক্ষণ, মানবিক ম‚ল্যবোধের অবক্ষয় রোধ এবং দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাসহ সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারবো।

দুর্নীতির ম‚ল উৎখাত করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ সে পথে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করে প্রযুক্তি ম‚লধন ও কর্মসংস্থান তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করে বেকারত্ব ও দারিদ্রে দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাবলিল উৎপাদন রপ্তানী বানিজ্য বৃদ্ধি করে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং অর্থনৈতিক ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে সম্পদের এবং অর্থের প্রবাহ স্থির করে অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনগত সহায়তা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং রাজনীতিবীদদের পারস্পরিক সহনশীলতা সৃষ্টি করে স্বপ্নের স্বাধীনতাকে উজ্জীবিত করে বিজয়ের সোনার বাংলাকে প্রজ্জ্বলন করার স্বপ্ন তরুণ প্রজন্মের। আমাদের দেশের শিক্ষার মানকে যুগোপযুগী ও যথার্থ করে তুলে যুগের সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দেশে শতভাগ শিক্ষিত মানুষ থাকবে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি ও মননশীলতার আবহ বিরাজ করার উপযোগী হবে। বাংলার উদার নৈতিক সমাজে মানুষ পাবে আত্মবিকাশে ইতিবাচক পরিবেশ। বাংলাদেশের সমাজ হবে প্রগতিশীল সমাজ, ধর্মীয় গোড়ামি ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। স্বপ্নের বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে শিল্প প্রযুক্তির শীর্ষে উঠে শিল্পায়নের চ‚ড়ায় দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগুতে থাকবে। প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। প্রতিটি মানুষের বেকারত্বের হাত হবে বলিষ্ঠ কর্মীর হাত।

তখনই গণতান্ত্রিক ম‚ল্যবোধ সৃষ্টি করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে তরুণ প্রজন্মকে মানব সম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং বিজয়ের স্বাদ গ্রহন করা হবে। বাঙালির আত্মত্যাগ ও আন্দোলন সংগ্রামের সুদীর্ঘ রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ সংগ্রাম মৃত্যু লাঞ্ছনা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালিরা বিজয় লাভ করেছিল। স্বীকৃতি লাভ করেছিল লাল সবুজের একটি পতাকা এবং একটি গর্বিত সার্বভৌমত্ব। স্বাধীনতার দীপ্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই দিন নিপীড়িত ও বঞ্চিত বাঙালি জনগণের শোষন মুক্তির প্রত্যাশা অর্জনে পেয়েছিল এক নতুন দিক নির্দেশনা এবং নতুন মাত্রা। স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালিরা ঐক্য হয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র সংগ্রামে। বাঙালির জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে বেশি তাৎপর্য। স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে স্বাধীন জীবনযাপন লাভের প্রত্যাশাকে বাস্তবরূপ ধারণ করার প্রয়াস ঘটিয়েছিল এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা।

বাঙালির প্রতিজ্ঞায় এবং সংগ্রামের অঙ্গিকারে উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালির আত্মপরিচয়ে গৌরবে উজ্জ্বল মহিয়ান হয়ে উঠেছিল এবং নিপীড়িত বঞ্চিত ও শোষিত মানবের মুক্তির স্বপ্ন প‚রণ করে স্বাধীনতার চেতনার মহিমায় অমর হয়েছিল এই স্বাধীনতার যুদ্ধের বিজয়। জাতীয় ঐক্য এবং দেশপ্রেমের অনুভ‚তিতে স্বাধীনতা দিবস বাঙালির চেতনার অর্জিত সাফল্যের প্রেরণা। স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে বাঙালি জাতি আনন্দে গৌরবে শ্রদ্ধায় উজ্জ্বীবিত হয়। বর্তমান প্রজন্ম আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের সফলতা এবং ব্যর্থতা দেখার চেষ্টা করে। আত্মজিজ্ঞাসায় জেগে তুলে নিজের বিবেককে। স্বাধীনতা শোষনের গ্রাস থেকে নিজেকে মুক্তির শিক্ষা দেয়। আত্ম উন্নয়নের পথে স্বাধীনভাবে অগ্রসর হওয়ার পথ দেখে। আমাদেরকে বিজয়ের শুভ অর্জন ম‚ল্যায়ন করে বিজয়ের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে এগুতে হবে।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মৌলবাদ দ‚র করে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। দারিদ্র পীড়িত মানুষের অধিকার দুঃখ, ব্যর্থতা ও হতাশা দ‚র করে একটি অর্থনৈতিক নির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে তরুণ প্রজন্ম। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে বিজয় দিবসে শপথ হোক আমাদের। একটি জাতির জন্য স্বাধীনতা এবং বিজয়ের ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি বেদনার। অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বিজয়। আজ আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই সব শহীদদের, যারা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে এদেশের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার জন্য স্বাধীনতার যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছিল। বিনম্র শ্রদ্ধা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের সব সংগঠক ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধাসহ সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে সকলকে শুভেচ্ছা।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।

সিলেট প্রতিদিন/এসএ

বিজ্ঞাপন স্থান


পুরাতন সংবাদ খুঁজেন

ফেসবুক পেইজ