গোয়াইনঘাট ইউপি নির্বাচনে ‘সুর-ছন্দে’ ভোট প্রার্থনা
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০২ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশ ২০২১-১১-২৫ ১১:৩৭:৪৬
গোয়াইনঘাট ইউপি নির্বাচনে ‘সুর-ছন্দে’ ভোট প্রার্থনা

কাওছার আহমেদ রাহাত : চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (৩য় ধাপের) নির্বাচনে গোয়াইনঘাটের ৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের স্লোগানগুলো এমনই মধুমাখা। এসব স্লোগানে নিজের প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে মিলছে হরেক রকমের সুর। স্লোগানে মিলছে ছন্দও। সেই সাথে কোথাও কোথাও আবার নির্বাচনের সুরে ভাসছে পরিচিত গানের কলি ও আঞ্চলিক ভাষায় গানও।

আমরা সবাই একজোট/নৌকা মার্কায় দিব ভোট। শেখ হাসিনার সালাম নিন/নৌকা মার্কায় ভোট দিন। উন্নয়নের শপথ নিন/সুবাস ভাইকে ভোট দিন।

নিজাম ভাইয়ের সালাম /ঘোড়া মার্কায় ভোট দিন। পরিবর্তনের শপথ নিন/ঘোড়া মার্কায় ভোট দিন। উন্নয়নে নিজাম ভাই/ঘোড়া মার্কায় ভোট চাই।

আমিরুল ভাইয়ের সালাম নিন/নৌকা মার্কায় ভোট দিন। উন্নয়নের মার্কা/নৌকা মার্কা। মা'গো তুমার একটি ভোটে/ নৌকা এবার যাবে জিতে।

শাহাব উদ্দিন ভাইয়ের সালাম নিন/চশমা মার্কায় ভোট দিন। দিকে দিকে একি শুনি/চশমা মার্কার জয়োধ্বনি। যোগ্য নেতা শাহাব উদ্দিন ভাই/তার জন্য ভোট চাই।

দেলওয়ার ভাইয়ের সালাম নিন/চশমা মার্কায় ভোট দিন। গরিব দুঃখির দেলওয়ার ভাই/চশমা মার্কায় ভোট চাই। যোগ্য নেতা মন্নান ভাই/মোটরসাইকেল মার্কায় ভোট চাই। মোটরসাইকেলে দিলে ভোট/শান্তি পাবে এলাকার লোক।

ছয় ইউনিয়নের অলিগলিতে মাইকে ভেসে আসছে এমন ছন্দময় সব শব্দ। এর মাধ্যমেই প্রতিদিন সকাল থেকেই চলছে প্রার্থীদের মাইকিংয়ে প্রচারণার মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা! ভোটারদের মন জয় ও নজর কাড়তে এভাবেই প্রার্থীরা চালাচ্ছেন তাদের নির্বাচনী প্রচারণা।

৯নং ডৌবাড়ী ইউনিয়নে জনগণ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এ নিজাম উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ আমাকে তুলনাহীন ভালবাসা দিয়েছে। যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তারপরও ভিন্ন কিছুর প্রতি বা নতুনত্বের দিকে মানুষের সবসময় আলাদা আকর্ষণ থাকে। নির্বাচনে ভোট পাওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মন জয়ের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। বিষয়টি মাথায় রেখে মাইকিংয়ে রসালো ও আকর্ষণীয় স্লোগান দিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ডৌবাড়ী ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনীত (নৌকা মার্কার) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুবাস দাস বলেন, 'ভোটারদের মন জয়ের লক্ষ্যে নানা মাধ্যমকে বেঁচে নেই প্রার্থীরা। এর মধ্যে একটি হলো প্রচারণায় মাইকিংয়ে চমকপ্রদ স্লোগান ও সুর-ছন্দ।

ডৌবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী (চশমা মার্কার) মাও দেলওয়ার হোসেন বলেন, যে প্রার্থীর স্লোগান যত বেশি ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারবে, সেই প্রার্থীই প্রচারণায় সফল হবে।

৭নং নন্দিরগাও ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনীত (নৌকা মার্কার) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস.কামরুল হাসান আমিরুল বলেন, স্লোগান নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে এক প্রকারের প্রতিযোগিতাও হয়।

১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, 'নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মাইকিংয়ে রসালো স্লোগানে পুরো ইউনিয়ন মাতিয়ে থাকছে।

৪নং লেঙ্গুড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল মন্নান বলেন,ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রার্থীরা কেউ আঞ্চলিক ভাষায় কেউবা অন্য কোনো পন্থায় দিচ্ছেন স্লোগান। এসব স্লোগান ভোটারদের বেশ নজরও কাড়ছে।

কিছু প্রতিকের বিষয়ে গোয়াইনঘাটের অনেকই অভিযোগ করছেন, রসালো স্লোগান, ছন্দ ও গান গুটিকয়েক প্রতীকের সাথে গেলেও এবারের নির্বাচনে সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা পানির "পাম্প মার্কা, টচ লাইট "হেলি কাপ্টার এরকম প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন প্রার্থীরা। তাছাড়া চাহিদামতো নির্বাচনী প্রচারণা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই সাথে ম্লান হচ্ছে ব্যক্তি ইমেজও। প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়া উচিত।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

ফেসবুক পেইজ