১৫ পরীক্ষার্থীর সবার বিয়ে, পরীক্ষায় নেই একজনও
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-১১-২৩ ১১:২০:৫৬
১৫ পরীক্ষার্থীর সবার বিয়ে, পরীক্ষায় নেই একজনও

নাটোরের বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন ছাত্রী। তারা সবাই পরীক্ষার ফরম পূরণও করেছিলেন। কিন্তু একজনও পরীক্ষা দিচ্ছে না। কারণ করোনাকালে তাদের সবাই বিয়ে করে এখন সংসারী।

গত ১৪ই নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ অংশ না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক আবদুর রউফ। এই ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে আবদুর রউফের নিজের মেয়েও রয়েছে।

মাদ্রাসাটির তত্ত্বাবধায়ক রউফ দুঃখ করে বলেন, আমার মেয়েও নিজের পছন্দে বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। সেও পরীক্ষা দিচ্ছে না। আমি ভেবেছিলাম সবাই না হোক কয়েকজন তো পরীক্ষা দেবে। তাই তাদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে এসেছি। কিন্তু কেউ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দিয়ে থাকে।

এবার পরীক্ষার্থী না থাকায় হতাশ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সব শেষ করে ফেলেছে। তিনি জানান, অন্য ছাত্রীদের মনোবল বাড়াতে নিজের মেয়েকেও এখানে ভর্তি করেছিলেন। কষ্টের কামাইয়ের টাকা দিয়ে তার ফরমও ফিলআপ করেছিলেন। তার মেয়ের সঙ্গে আরও ১৪ জন মেয়ে দাখিল পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলআপ করে। ফরম পূরণের পরপরই করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যায়।

এই শিক্ষার্থীরা কেন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুর রউফ বলেন, কেউ কেউ নিজেরাই পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার কেউ পরিবারের বাধায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার ১৫ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্র উপজেলার পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা।

কেন্দ্রের সচিব ইব্রাহিম হোসাইন জানান, তার কেন্দ্রে পাঁচটি মাদ্রাসার ৯৮ জন ছাত্রীর পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই বাগাতিপাড়া মহিলা মাদ্রাসার ১৫ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। অন্য চারটি মাদ্রাসার ৮৩ জন ছাত্রী এ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

ফেসবুক পেইজ