‘সকল সংগঠনেই দরকার একজন ভিপি শামীমের’
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৪ অপরাহ্ন

সাজলু লস্কর

প্রকাশ ২০২১-১১-১৭ ১২:২৮:২৩
‘সকল সংগঠনেই দরকার একজন ভিপি শামীমের’

সাজলু লস্কর : চেহারায় চাপ নেই আভিজাত্যর।মুখশ্রীও অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক। দলীয় কর্মীদের লম্বা লাইনও নেই নেতার পাশে। উল্টো কর্মীদের খোঁজ নিতে যেকোনো সময়ে বাড়ি গিয়ে হাজির হয়ে চমকে দেন সবাইকে। বলছি জেলা যুবলীগ সভাপতি শামীম আহমদ ভিপির কথা। সিলেটে জেলা যুবলীগের এক অনন্য উপহার এই ভিপি শামীম।

কর্মীদের কাছে দরবেশ বলে সমধিক পরিচিত তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই ভিন্ন স্টাইলের আচরণ মুগ্ধ করতো সবাইকে। স্কুলে পড়ার সময় সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠা শামীম কলেজে এসেও নিজেকে পাল্টাননি এতোটুকুই। ব্যক্তিগত সদাচার এবং স্পষ্টবাদীতার জোর থেকেই একে একে সকলের মন জয় করেন তিনি।সহপাঠিদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলাধীন তাজপুর ডিগ্রী কলেজে ভিপি (১৯৯২-১৯৯৪ ) পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি।

দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ সরকার। দলের অন্যতম সহযোগী সংগঠনের জেলা সভাপতি তিনি। এই পদবী ব্যবহারের মধ্য দিয়ে অনেকেই পাল্টে ফেলেছেন নিজেদের। সেখানে ব্যতিক্রম শুধুমাত্র একজনই। তিনি ভিপি শামীম। শুধু ব্যক্তি শামীমই নয়, গোটা জেলা যুবলীগকেও রেখেছেন সকল বিতর্কের বাহিরে।

জেলা যুবলীগের এই দরবেশ নেতা থাকেন কর্মীদের কাছে প্রণম্য। এর সাথে সকল অপরাধ কর্মকান্ড থেকে যুবলীগের অবস্থান থাকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। সরকার দলের সহযোগী সংগঠনের সভাপতি হয়েও দলীয় কার্যালয় নেই শামীমের।নেই তদবির বাণিজ্য। ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানির সংবাদ নিয়ে শিরোনাম হয়না খবরের কাগজে।

সেই ভয়কে জয় করে যুবলীগের তরী বেয়ে চলছেন তিনি। চিন্তা চেতনায় লালন করেন দেশপ্রেম। ছাত্রাবস্থায় বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণ শোনে শিহরিত হতেন তিনি। স্বপ্ন দেখতেন,একদিন তিনিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিবেন। স্বপ্নের সেই সিঁড়ি বেয়ে আজো পথ চলছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে বহন করছেন বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ। সেই আদর্শে কালিমা লাগায়নি পরিবারের কেউই। উত্তরাধিকার সূত্রে একই অবস্থা শামীম আহমদের। ফাঁকা পকেটেও অনৈতিকতার কাছে নীতিভ্রষ্ঠ না হয়ে কর্মীদের কাছে আগামীর দৃষ্ঠান্ত হয়ে উঠেছেন তিনি।

পিতা মরহুম মো. আব্দুল্লাহ ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে থাকা একমাত্র চেয়ারম্যান। বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদ ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একাধারে ৩ বারের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। তার তার আরেক ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমদ কনা মিয়া বালাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

তার স্ত্রী সিলেট জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুষমা সুলতানা রুহী । শামীম আহমদের শ্বশুর প্রয়াত কমরেড আজহার আলী তাজপুর ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ।

তাজপুর ডিগ্রি কলেজে নির্বাচিত ভিপি পরবর্তী অনেক সুযোগ আসে শামীমের উপর। কাড়ি কাড়ি টাকা রুজির পথও ছিলো তৈরি। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ ছিলোনা কোনোদিন। পারিবারিক ইতিহাস,ঐতিহ্য এবং বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা হওয়ার সেই স্বপ্ন তাকে কোনোদিনই স্পর্শ করাতে পারেনি অনৈতিকতায়। এরই পথ ধরে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বালাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৪ সালে জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ও ১/১১ এর সময় যখন কেউই জীবনের ভয়ে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে চাননি, সেই সময় সাহসিকতার সাথে সিলেট জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

এখন কাউন্সিলারদের সরাসরি ভোটে জেলা সভাপতির পদে সেই গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি নিষ্ঠার সাথে। আজ ভিপি শামীম আহমদের জন্মদিন। তিনি যেন শতায়ু হোন সেই প্রার্থনা করি।

সিলেট প্রতিদিন/এসএল

ফেসবুক পেইজ