জাফলংয়ে বালু লুট, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-১০-১৩ ০৯:৪৩:০৯
জাফলংয়ে বালু লুট, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেটের জাফলংয়ের বালু ও পাথরখেকো সিন্ডিকেটের ৬ সদস্যর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পরিবেশ ধ্বংসের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ মাসে ওই সিন্ডিকেট জাফলংয়ের পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ জোনে নির্বিচারে প্রায় ২০ কোটি টাকার বালু লুট ধরে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের আমল গ্রহনকারী ১০ নং আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন জাফলং নয়াবস্তি গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী।

এদিকে- আদালত মামলাটি গ্রহন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামি করা হয়েছে; জাফলং মামার দোকানের বাসিন্দা সুমন, বিশ্বনাথের তেঘরী গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম, কান্দুবস্তি গ্রামের ফিরোজ আহমদ, আসামপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলাম, লেঙ্গুরা এলাকার মুজিব ও লামা দুমকা গ্রামের সুভাস দাস। মামলার এজাহারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী জানিয়েছেন- জাফলং ব্রিজ এলাকার ১৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ জোন হিসেবে চিহিৃত। গত জুন মাস থেকে আসামিরা নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি গ্রামের লোকজনের বসতবাড়ি ধ্বংস করে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে ইতিমধ্যে ৫-৬ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। এছাড়া- বাসা বাড়ির দেওয়াল ও কবরস্থান দখল করে তারা বালূ লুটপাট করছে। গোয়াইনঘাটের লিজকৃত গোয়াইন ১১৭ বালু মহাল ও পাশ্ববর্তী জৈন্তাপুরের সারি-১, সারি-২ বালু মহাল ইসিএ জোন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। কিন্তু জৈন্তাপুরের বালু মহালের কাগজ ব্যবহার করে ইসিএ জোন ভুক্ত এলাকা থেকে বালু ও পাথরখেকো সুমন, ফয়জুল, ফিরোজ, শামসুল ও মুজিবের সহযোগিতায় অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহার করে ডাউকী ও পিয়াইন নদী থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ্য টাকা অবৈধ আদায় করে আত্মসাত করেছে।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন- গত ৯ সেপ্টেম্বর জাফলংয়ে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধে আলীম উদ্দিন সিলেটের প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। আর এই অভিযোগ দায়েরের পর আসামীরা  জাফলংয়ে সশস্ত্র মহড়া অব্যাহত রেখেছে। তারা দেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে খুন করারও হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া আসামিরা পাশ্ববর্তী আড়কান্দি ও হাদারপাড় এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও বালু মেশিন দিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাট করছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন- আসামিদের অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে শতকোটি টাকা ব্যায়ে জাফলং ব্রিজ সহ কয়েকটি ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি ছাড়াও শ’শ বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও আসামিরা বেপরোয়া ভাবে তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। এজাহারে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট শামীম আহমদ জানিয়েছেন- অবৈধভাবে বালু ও পাথর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি আদালত গ্রহন করেছেন। মামলার তদন্তের জন্য গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

সিলেট প্রতিদিন/এমএনআই

ফেসবুক পেইজ