শোভন-বৈশাখীর নাচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-১০-১৩ ০১:৩৬:৪৭
শোভন-বৈশাখীর নাচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এখন হিট জুটি— শোভন-বৈশাখী। যেমন উত্তম-সুচিত্রা। যেমন অমিতাভ-রেখা। তাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর হয়।

সম্প্রতি এই যুগলের নাচ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের প্রেমের এমন নির্ঘোষও এর আগে দেখা বা শোনা যায়নি। ক্যামেরার সামনে এমন ইনহিবিশন-হীন প্রেমালাপ, তা-ও একেবারে রিয়েল লাইফে, বাঙালি এর আগে দেখেনি।

একটি ওয়েবসাইটের উদ্যোগে যা শুরু হয়েছিল নেহাতই নির্দোষ পুজোর ফ্যাশনের আবডালে, তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে চ্যানেলে-চ্যানেলে। প্রথম পর্যায়ে নৃত্যগীত ছিল। বৈশাখীর ‘মম চিত্তে’র সঙ্গে মুদ্রা-সমন্বিত নাচের তালে তালে গুণমুগ্ধ শোভনের ঈষৎ আবেশজড়িত অঙ্গদোলন। তা নিয়ে বিবিধ মিম-টিমও হয়েছে। সেই ভিডিয়ো থেকে আরও গুচ্ছ-গুচ্ছ ভিডিয়ো এবং মিম বানিয়ে ‘ভিউ’ বাড়িয়ে অনেকে ফাঁকতালে পয়সা পিটে নিয়ে চলে গিয়েছেন বলেই জনশ্রুতি।

কিন্তু ভিডিও সেই একটি-দু’টিতেই থেমে থাকেনি। উল্টে ধেয়ে এসেছে বন্যার জলের মতো। যেখানে পর্যায়ক্রমে শোভন-বৈশাখী বহুতলের দোলনায় দুলতে দুলতে কখনও অন্ত্যাক্ষরী খেলেছেন। তার ফাকে বৈশাখী ‘আমার গান তো একটাই— আমার চোখে তো সকলেই শোভন’ বলে পাশে-বসা প্রেমিকের থুতনিতে ভালবাসার ঠোনা দিয়েছেন। শোভন কখনও মুকেশ হয়ে গেয়েছেন, ‘ম্যায় নে তেরে লিয়ে হি সাত রং কে সপ্‌নে চুনে’। কখনও দ্বৈতকণ্ঠে প্রেমালু যুগল গান ধরেছেন, ‘কে প্রথম কাছে এসেছি। কে প্রথম ভালবেসেছি।’

কখনও গোলপার্কের বাড়ির গোছানো বৈঠকখানায় হাতে-হাত ধরে অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে নেচেছেন। কখনও বৈশাখী যখন সাজগোজ করছেন, তখন শোভন পরম যত্নে ঠিকঠাক করে দিচ্ছেন প্রেমিকার কানপাশা। কখনও দু’জনে ভিক্টোরিয়া চত্বরে গিয়ে হাজির হয়েছেন ঘোড়ায়-টানা ফিটন গাড়িতে। শোভনের পরনে কোঁচানো ধুতি আর পাঞ্জাবি। বৈশাখীর মাথায় জুঁইফুলের গোড়ে। সামনে আঁচল দিয়ে সাবেকি ভঙ্গিতে পরা শাড়ি। তিনি শোভনের দিকে অপলকে তাকিয়ে গেয়েছেন, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুম নে যো দিল কো।’ আর শোভন কখনও দম ধরে, কখনও দম মেরে এবং কখনও ছেড়ে ‘দম মারো দম’ গানে তার জবাব ফিরিয়ে দিয়েছেন, ‘হম সব কি পরওয়া করে কিঁউ! সব নে হমারা কিয়া কেয়া!’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কখনও যুগলকে ক্যামেরা ধরেছে প্রিন্সেপ ঘাটে। সেখানে দাঁড়িয়ে দু’জন খুনসুটি করেছেন। বৈশাখী গেয়েছেন। শোভন কখনও হাতে-হাতে তালি দিয়েছেন। কখনও আঙুলে-আঙুলে তুড়ি। মিষ্টি লেগেছে।

কখনও দু’জনে দোলনায় দুলেছেন। কখনও একে অপরের দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়েছেন। কখনও অপাঙ্গে। কখনও বিলোল কটাক্ষে। সেখানে পূর্বরাগ-অনুরাগ সব মেখেজুখে একাকার।

ভাল লেগেছে দেখতে। মিষ্টি লেগেছে।

তন্ময় নামের একজন লেখেন, আমাদের ভাবতে লজ্জা করছে এঁনাদের মধ্যে এক জন মন্ত্রী ছিলেন আর এক জন অধ্যাপিকা ৷

দীপা চক্রবর্তী বলেন, এত বিখ্যাত একটা কবিতার দুটো লাইনও ঠিক করে বলতে পারেন না , লজ্জা করে না আপনাদের?

ঋতুপূর্ণা চট্টোপাধ্যায় নামে একজন বলেন, শোভন বাবু কি পুরো পাগল হয়ে গেছেন?? ওনার বাড়ির লোকের কি মানসিক অবস্থা!! সত‍্যি খারাপ লাগে।  

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

ফেসবুক পেইজ