কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-১০-১৩ ১২:১৩:৪৬
কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল ::

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। যুক্তরাজ্য সরকার প্রদত্ত বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক স্কলারশীপগুলোর মধ্যে অন্যতম কমনওয়েলথ স্কলারশিপ দু’বার অর্জন করেছেন। ২০০৯ সালে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করার জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কোনো গ্র্যাজুয়েট হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার প্রদত্ত কমনওয়েলথ স্কলারশীপ পেয়ে ইংল্যান্ডের লিডস মেটের স্কুল অব এপ্লাইড গ্লোবাল ইথিক্স এর পিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে মেরিটসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে ২০১২ সালে আবারো কমনওয়েলথ স্কলারশীপ অর্জন করেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ এর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে পিএইচডি গবেষনা সম্পাদনের জন্য। ২০১৮ সালে এ প্রতিষ্ঠান তথা যুক্তরাজ্য থেকে কোনো ধরনের সংশোধন ছাড়া পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন আরেক বিরল কৃতিত্বের স্বাক্ষর।

তিনি সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড পাবলিক এ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে বিএসএস অনার্সে ডিস্টিংশনসহ সব্বোর্চ সিজিপিএ অর্জন করেন। তার সিজিপিএ শুধু পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড পাবলিক এ্যাফেয়ার্স বিভাগে নয়; সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ছিল।

এজন্য তিনি চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল বা প্রেসিডেন্ট পদক, ভাইস- চ্যান্সেলর মেডেল ও ইউনিভার্সিটি বুক মেডেল অর্জন করেন। একই বিভাগ থেকে মাস্টার্স লেভেলেও ডিস্টিংশনসহ বিভাগ ও অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেন। এজন্য তিনি ভাইস-চ্যান্সেলর মেডেল ও ইউনিভার্সিটি বুক মেডেল পান। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ-২০২২ এর আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে দৈনিক ইত্তেফাকে তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দু’ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আবেদন সম্পর্কে মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের শেষ মুহুর্তের দিকনির্দেশনা দিতে সাক্ষাৎকারটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশ করা হলো :

কমনওয়েলথ স্কলারশিপ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ও প্রাথমিক ধারণা :

কমনওয়েলথ স্কলারশিপ হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক স্কলারশিপগুলোর মধ্যে একটি। যুক্তরাজ্য সরকার বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি তথা গবেষনাকে উৎসাহিত করতে বিশাল তহবিলের সংস্থান করে। তন্মধ্যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় সারা বিশ্বের কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহ বিশেষতঃ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহ থেকে মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের প্রথম সারীর বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অধ্যয়ন ও গবেষনার সুযোগ করে দেয়। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এই স্কলারশিপের তহবিল দিয়ে থাকলেও যুক্তরাজ্যের আরো কয়েকটি দাতাসংস্থা এর অর্থায়নের সাথে জড়িত। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন ইন দ্যা ইউকে বা সিএসসি হলো এই স্কলারশিপের সর্বোচ্চ সংস্থা। ১৯৬০ সালে সারা বিশ্বের ১৭৫ জন মেধাবী ও কৃতি শিক্ষার্থী ও গবেষককে এ বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়ে এযাবত প্রায় ২৮ হাজার বৃত্তির সংস্থান করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। পিএইচডি ও ১ বছর মেয়াদী মাস্টার্স কোর্সের জন্য এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া একাডেমিক স্টাফ স্কলারশিপ, কমনওয়েলথ শেয়ারড স্কলারশিপ, স্প্লিট-সাইট, ডিসট্যান্স লার্নিং ও প্রফেশনাল ফেলোশীপও প্রদান করে থাকে। কমনওয়েলথভুক্ত উন্নত দেশসমূহ তথা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মেধাবীরাও এ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হন। তবে অনুন্নত, স্বল্পোন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহ যাতে বেশি স্কলারশিপের আওতায় আসতে পারেন সেজন্য উন্নতদেশসমূহকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অনুন্নত, স্বল্পোন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন। 

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া :

প্রতি বছর সিএসসি ওয়েবসাইটে এ বৃত্তির জন্য আবেদন আহবান করা হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ করতে ও প্রতিটি সদস্য দেশের মেধাবীরা যাতে এ বৃত্তির জন্য মনোনীত হতে পারেন সেজন্য সদস্য দেশসমূহের জন্য পৃথক নমিনেটিং এজেন্সি রয়েছে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) নমিনেটিং এজেন্সি হিসেবে প্রাথমিক আবেদন আহবান, প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচন করে মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন ফরম লন্ডনস্থ সিএসসি কার্যালয়ে পাঠায়। পরে সিএসসির একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন রয়েছে যারা নৈর্বক্তিকভাবে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজী দক্ষতা (আইইএলটিএস স্কোর), শিক্ষাবহির্ভূত যোগ্যতা, গবেষনা প্রস্তাবনার মান, এসওপি বা স্ট্যাটমেন্ট অব পারপাস, কাংখিত ডিগ্রী অর্জন শেষে প্রত্যাশিত বৃত্তিপ্রাপ্তদের ক্যারিয়ার প্লান, সেই ডিগ্রীর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সদস্যদেশ বা যুক্তরাজ্য কীভাবে সুফলভোগ করবে, প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে মনোনয়ন দিয়ে আবেদন পত্র প্রার্থীর কাংখিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাংখিত বিভাগ বা ডিসিপ্লিনে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে নিঃশর্ত ভর্তির নিশ্চয়তা পেলে প্রার্থী তালিকা প্রণয়ন করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরম পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল ভালো হলে সবকিছু বিবেচনা সাপেক্ষে চূড়ান্ত মনোনীতদের এওয়ার্ড লেটার পাঠানো হয়। স্থানীয় ব্রিটিশ কাউন্সিল সিএসসির পক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম তথা নির্বাচিত স্কলারদের ও তাদের পরিবারের ভিসার ব্যাপারে সহায়তা, এয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করা, যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা, আইন-কানুন, আবহাওয়া ও জীবন যাপন সম্পর্কে ধারনা দেয়ার জন্য কর্মশালার আয়োজনসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ১ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। 

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া এবং এ বছরের আবেদনের শেষ সীমা:

মাস্টার্স ডিগ্রীর জন্য অনার্সে দ্বিতীয় শ্রেনী ও তার ওপরে থাকতে হবে আর পিএইচডির জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে দ্বিতীয় শ্রেনী ও তার ওপরে থাকতে হবে। গ্রেডিংসিস্টেমে সমমানের সিজিপিএধারীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে যেহেতু এটি একটি তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ বৃত্তি তাই কয়েক হাজার আবেদন জমা হয়। পরে ইউজিসি প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করে শর্ট লিস্ট করে। আর শর্ট লিস্টে দেখা যায় বেশি সিজিপিএ বা এ মাইনাস বা এ গ্রেড প্রাপ্তরাই তালিকাভূক্ত হন। যেকোনো বিষয়ের অনার্স ডিগ্রীধারীরা আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিবছর যুক্তরাজ্য সরকার কিছু অগ্রাধিকার বিষয় নির্ধারন করে দেয়। প্রার্থীদের সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আবেদন করা প্রয়োজন। এবারের অগ্রাধিকার হচ্ছেঃ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফর ডেভেলপমেন্ট; স্ট্রেনদেনিং হেলথ সিস্টেম অ্যান্ড ক্যাপাসিটি; প্রমোটিং গ্লোবাল প্রসপারিটি; স্ট্রেনদেনিং গ্লোবাল পিস, সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স; স্ট্রেনদেনিং রিজেলিয়েন্স অ্যান্ড রেসপন্স টু ক্রাইসিস; এবং অ্যাকসেস, ইনক্লুশন অ্যান্ড অপরচুনিটি। সে হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি ও বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ যেসব বিষয়ে ডিগ্রী দেন তার সবাই আবেদন করতে পারবেন। আমার এক অনুজ নাটকের উপর পিএইচডি স্ক্লারশীপের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। সেটা প্রমোটিং গ্লোবাল প্রসপারিটি বা স্ট্রেনদেনিং গ্লোবাল পিস এন্ড সিকিউরিটিতে পড়ে। এমনকি বাংলা বা সংস্কৃত বা ইসলামী শিক্ষা বা ইসলামের ইতিহাস থেকেও যদি কেউ পাস করেন আর তিনি ঐ অগ্রাধিকার বিষয়ের যে কোনো একটি বিষয়ের জন্য নিজের উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য বিবেচনা করেন তাহলে তিনিও আবেদন করতে পারেন। এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারীরাও আবেদন করতে পারবেন তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য।

ইতোমধ্যে ২০২২ সালের জন্য কমনওয়েলথ বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউজিসি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি নিয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করতে পারবেন। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে ইউজিসি বরাবর আবেদন করতে হবে। ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে তা পূরন করে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, প্রকাশনার কপি, আইএলটিএস করা থাকলে তার সনদ, যুক্তরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফারলেটার থাকলে সেটা সংযুক্ত করে তা কমিশন বরাবর ডাক বা কুরিয়ার বা সরাসরি জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র পূরন করা খুবই সহজ। চাকুরীরত প্রার্থীরা অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই প্রাথমিক নির্বাচিত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতে পারে। ইউজিসির চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ, দেশের প্রতিথযশা শিক্ষাবিদ ও সিনিয়র অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত নির্বাচনী বোর্ড প্রতিটি সাবজেক্ট গ্রুপ থেকে ১ বা ২ জন প্রার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে তাদের সিএসসির ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে তা পূরণ করে ইউজিসিতে জমা দিতে বলবে। ইউজিসি আবেদনপত্র যাচাইবাছাই করে তা লন্ডনের সিএসসিতে পাঠিয়ে দেয়। আর সিএসসি বাকী কাজগুলো সম্পন্ন করে। তবে একাডেমিক স্টাফ স্কলারশীপের জন্য প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নমিনেশন দিয়ে সরাসরি ইউজিসিতে প্রেরন করেন। সেখান থেকে ইউজিসি ১০ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন। 

আইইএলটিএসের নূন্যতম স্কোর:

আইইএলটিএস স্কোর কিন্তু আবেদনের পূর্বশর্ত নয়। আবেদনপত্রে আপনি দেখবেন ‘আইইএলটিএস স্কোর যদি থাকে’ লিখা রয়েছে। তবে ইউজিসি প্রাথমিক নির্বাচিত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার যেহেতু ইংরেজী মাধ্যমে নিবে সেহেতু ইংরেজীতে আবেদনকারীদের অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। এখানে একটি বিষয় লক্ষনীয় যেহেতু এটি তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ সেহেতু যদি একজন প্রার্থীর আইইএলটিএসে ভালো স্কোর থাকে তাহলে নির্বাচনী বোর্ড যাদের আইইএলটিএস স্কোর নেই বা কম স্কোর তার চেয়ে তাদের বেশি প্রাধান্য দিবে। আইইএলটিএস স্কোর ছাড়া যদি কোনো প্রার্থী ইউজিসির নমিনেশন পেয়েও যান তাহলে ১/২ মাস তথা লন্ডনের সিএসসি এর সিলেকশন শুরু হওয়ার পূর্বেই তাকে আইইএলটিএসের স্কোর জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে নূন্যতম স্কোর হলো ৬.৫। তবে সেটা নির্ভর করে কাংখিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তির নূন্যতম আইইএলটিএস স্কোরের উপর। উদাহরণস্বরূপ কোনো প্রার্থী যদি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চায় তাহলে তার আইইএলটিএস স্কোর ৭ এর উপর থাকতে হবে। আবার কোনো প্রার্থী যদি স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে চায় তাহলে তার আইইএলটিএস নূন্যতম স্কোর ৭.৫ থাকতে হবে। 

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের প্রাথমিক আবেদনের সময় যুক্তরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন বা এডমিশনের অফার লেটার সম্পর্কিতঃ 

মূলতঃ কমনওয়েলথ স্কলারশিপের প্রাথমিক আবেদনের সময় যুক্তরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন বা এডমিশনের অফার লেটার থাকতে হয় না। আবেদনপত্রে এমন একটি কলাম রয়েছে। তবে সেখানে উল্লেখ আছে ‘যদি থাকে’। সেক্ষেত্রে যদি কারো যুক্তরাজ্যের ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকে বা আনকন্ডিশনাল অফার লেটার থাকে তাহলে সেটি প্রার্থীর একটি বাড়তি যোগ্যতা। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী বোর্ডের সদস্যরা যাদের সেই অফার লেটার বা ভর্তি নেই তাদের চেয়ে যাদের ভর্তি বা অফার লেটার রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দিবেন সেটিই স্বাভাবিক। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনও মনে করে যাদের এডমিশন রয়েছে তাদেরকে স্কলারশীপ দিলে অন্ততঃ তার স্কলারশিপ বাতিল হবে না। আমার জানা মতে অনেকেই ইউজিসির নমিনেশন পেয়েও পরে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের লিস্টেড কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন নিশ্চিত করতে না পারায় পরে তাদের স্কলারশিপ বাতিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিন্তু বিরাট ক্ষতি হয়ে গেলো। তাই ইউজিসিও চায় তাদের নির্বাচিত প্রার্থী অবশ্যই যাতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। এতে ইউজিসির মর্যাদার ব্যাপারটিও জড়িত। তবে ইউজিসির মনোনয়ন পাওয়ার পর সিএসসির আবেদন পত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করতে হয়। সিএসসি সে মোতাবেক প্রার্থীদের কাগজপত্র তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করে ভর্তির কনফার্মেশনের অপেক্ষা করে। কনফার্মেশন পেলেই পরবর্তী পর্যায় শুরু হয়। সেক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী যদি ভর্তির কনফার্মেশন লেটার দিয়ে দেয় তাহলে সেটি অবশ্যই প্রার্থীর একটি বাড়তি যোগ্যতা। সেটি ইউজিসির বিশেষজ্ঞ বোর্ডকেও ইমপ্রেস করতে সহায়তা করে। 

কমনওয়েলথ স্কলারশিপের সুবিধাসমূহ:

দেখুন আমি পূর্বেই বলেছি এটি বিশ্বের সম্মানজনক স্কলারশীপগুলোর মধ্যে একটি। আর কমনওয়েলথ এর প্রধান হচ্ছেন ব্রিটিশ রানী। যারা এ বৃত্তি পান তারা মহামান্য রানীর অতিথি হিসেবেই যুক্তরাজ্যে গমন করেন। সে সম্মান তো অর্থ দিয়ে মূল্যায়িত করা যায় না। তারপরও কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আর্থিক সুবিধা উল্লেখ করার মতো। কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন নির্বাচিত স্কলারদের যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদয় টিউশান ফি, প্রার্থীর ইউকে ভিসা ফি, মেডিক্যাল ফি, বাংলাদেশের প্রার্থীর নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট পর্যন্ত রিটার্ণ এয়ার টিকেট, লন্ডনের বাইরে থাকলে মাসিক ভাতা হিসেবে দেওয়া হয় ১ হাজার ৮৬ পাউন্ড। লন্ডনের ভেতরে থাকলে ভাতার পরিমাণ ১ হাজার ৩৩০ পাউন্ড। মাসিক ভাতার বাইরেও এককালীন ৪২১ পাউন্ড উষ্ণ পোষাকের জন্য, ‘স্টাডি ট্রাভেল গ্র্যান্ট’ হিসেবে ২০০ পাউন্ড, ‘থিসিস গ্র্যান্ট হিসেবে দেওয়া হয় ২২৫ পাউন্ড, কমনওয়েলথ কমিশন কর্তৃক আয়োজিত যেকোনো প্রশিক্ষণ, স্বল্পমেয়াদি কোর্স, ওয়েলকাম ইভেন্ট ও আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য ট্রেনের টিকিট, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা, সাথে স্পাউস ও সন্তান নিয়ে গেলে তাদের মাসিক ভাতা দেয়া হয়। এছাড়া পিএইচডির স্কলারদের ফিল্ড ওয়ার্কের জন্য যাওয়া আসার বিমান টিকেট দিয়ে থাকে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশন। তবে প্রতিবছরই নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত হয়। এটি ২০১৭ সালের হ্যান্ডবুক থেকে নেয়া। প্রতিবছরই মুদ্রাস্ফিতি ও জীবন-ধারনের ব্যয় বৃদ্ধি অনুযায়ী বৃত্তির পরিমান বেড়ে থাকে।

লেখক

অধ্যাপক

পলিটিক্যাল স্টাডিজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সিলেট প্রতিদিন/এসএএম

ফেসবুক পেইজ