বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

সরকারী নিবন্ধন নাম্বার ৯৩

Sylhet Protidin 24


টিভিতে কী দেখবো?

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-১০-০৮ ১০:২৫:৫৬

নাজনীন মুন্নী :: বিষয়টি আমি খেয়াল করছিলাম অনেক দিন আগেই। যেহেতু সাংবাদিকতা করি তাই কোনও বিষয়ে চট করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন। তাই দিনের পর দিন আমি এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে আসছি। ফলাফল আমাকে ভীষণ রকম মন খারাপ করিয়েছে, সাথে আতঙ্কিত করেছে।

বলছি  আমাদের দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কনটেন্টের কথা।  কী দেখায়  আমাদের চ্যানেলগুলো? জনগণ কি আসলেই সেসব দেখতে চায়?

প্রশ্নটা তৈরি হয়েছিল একেবারেই ব্যক্তিগত জায়গা থেকে। আমি দেখছিলাম একই জিনিস আমি করে যাচ্ছি বছরের পর বছর। চোখ যখন নিজের ওপর থেকে পুরো মিডিয়ার ওপর দিয়েছি তখন দেখেছি ঘটনা একই।

একই অনুষ্ঠান, একই ধরনের নিউজ বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। প্রশ্ন তখনই ছিল সংবাদকর্মী হিসেবে যা আমাকে আকর্ষণ করছে  না, তা কী করে জনগণকে করবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি আমি  অনেকখানিই।

বাংলাদেশে ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এই দেশে  প্রায় ৫ কোটি মানুষ বুঁদ  হয়ে থাকে ফেসবুকের পাতায়। মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দর্শক ধরে রাখতে টিভি চ্যানেলগুলো আশ্রয় নিলো ফেসবুকে।  নিজের প্রচার  বা  বিস্তারের জন্য সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেল ফেসবুকে তাদের নিজেদের জমি তৈরি করে ফেললো। যাকে বলে ‘ফেসবুক পেজ’।

সেখানে নিজের রাজত্বে জনগণও কম নয়।  একেক চ্যানেলের ফলোয়ার ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ। একটা ছোটখাটো দেশের সমান।  খুবই সুখবর  আপাতদৃষ্টিতে।  কিন্তু এই সব জনগণ ফেসবুকে বসে কি চ্যানেলের প্রচার করা অনুষ্ঠান দেখে? উত্তর হলো, খুবই কম।

এই যে দেখে কী দেখে না সেই হিসাব করতে জটিল টিআরপি  লাগে না।  ফেসবুক  ভিউ তাৎক্ষণিক বলে দিচ্ছে  কী দেখছে মানুষ। ফেসবুকজুড়ে নানা প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তিগত ব্যবসার হাট। একজন শাড়ি বিক্রেতার লাইভে যেখানে একসাথে ৬ বা ৭ হাজার মানুষ চোখ রাখছে সেখানে টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া কোনও শো যখন ফেসবুকে স্ট্রিমিং করা হয় সেখানে দর্শক ৩শ’ও থাকে না।

এটা তো ফেসবুকের  হিসাব, বাস্তবেও কি মানুষ টিভিতে আমাদের চ্যানেল দেখে? এই প্রশ্ন  আমি নিজে অনেককে করেছি, অনেকে যেচেই বলেছেন– দেখতে ইচ্ছে করে এমন কী দেখান  টিভিতে? আমারও একই প্রশ্ন– কী দেখাই আমরা, যা দেখার মতো? যদি জানতে চাই  চট করে,  বলুন তো এই দেশের জনপ্রিয় একটা শো বা অনুষ্ঠানের নাম।  আমি নিশ্চিত বেশিরভাগ মানুষই পারবেন না। আমরা যারা কাজ করি গণমাধ্যমে, তারাও পারবো না।

এই দেশের অধিকাংশ চ্যানেলে বাধ্যতামূলক টকশো আর নিউজ।  প্রতিঘণ্টার নিউজে এমন নতুনত্ব বা বৈচিত্র্য থাকে না যা  সারা দিন-রাত মানুষকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। যেকোনও এক চ্যানেলের খবর  দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন কী ঘটছে দেশ-বিদেশে।

একজন আরেকজনকে অনুকরণ করাই আমাদের প্রধানতম কাজ।  কয়েকটি নিউজ চ্যানেল আছে  যেখানে প্রায় সব একই। হঠাৎ যদি লোগো মুছে দেন  আমি নিশ্চিত অনেকেই বুঝতে পারবেন না কোনটা কোন চ্যানেল।

এই দুর্দশা তো একদিনে হয়নি। হয়েছে বছরের পর বছর।  একুশে টিভি এই দেশে এক দারুণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল।  ঘটনা ২১ বছর আগের।  সেই সময় একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ যাদের  তৈরি করেছিলেন তারাই এ দেশের ৩২ টি চ্যানেলের সাথে নানাভাবে কাজ করছেন।  ২১ বছর আগের  সময় আর এখনকার চাহিদা  কি এক? ২১ বছর আগে মানুষ যা দেখে বাহবা দিয়েছে বা মুগ্ধ হয়েছে  এই সময়ে তা-ই দেখতে চাইবে- এই ধারণা কীভাবে আমরা ধরে  রাখলাম?

চ্যানেল মানেই এক বা একাধিক  টকশো,  সেখানে  যারা গেস্ট থাকেন  তারাও সবাই সব চ্যানেলে কথা বলেন। একই কথা ঘুরে ফিরে সব জায়গায়।  টকশোর বাইরে কোনও অনুষ্ঠান কি চ্যানেলগুলোতে  খুঁজে পায় না। বিনোদন  কোথায় পাবে মানুষ?  ‘ইত্যাদি’র মতো  ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান বা ‘সংশপ্তক’ বা ‘কোথাও কেউ নেই’- এর মতো নাটক কি এই দেশে কেউ বানায় এখন?

নিজেদের যদি স্বকীয়তা না থাকে  তাহলে অন্তত ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ বা ‘সা রে গা মা পা’ বা ‘আমেরিকান আইডল’ কেন  আমরা অন্তত বানানোর চেষ্টা করি না বা অন্তত একটা রান্নার প্রতিযোগিতা?

আসলে আমরা কি চেষ্টা করি কোনও? এই দেশে মেধাবী মানুষের অভাব নেই। তাদের  কাছ থেকে আদায় করার কষ্টটাই আমরা হয়তো কেউ নেই না। কারণ, আমাদের কাছে ৩ জনকে এনে কথা শোনা সবচেয়ে সহজ। ‘দামে কম, মানে ভালো’ টাইপ।

দিন বদলায়, সাথে মানুষের রুচি, সাথে কারা  টিভি দেখে সেই গোষ্ঠীও।  আমরা যারা চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করি তারা কি জানি যে ২০ বছরের একজন তরুণ কী দেখতে চায়, তার মনোজগৎ কী? আমরা কি  জানতে চাই আমার বাসার মা থেকে শুরু করে কাজের সহকারী মানুষটি  একযোগে কোন লোভে ভারতীয় চ্যানেলে আটকে থাকে? আমরা কি জানতে চাই এ দেশের  প্রায় ৪ কোটি শিশু আছে; তারা কী দেখতে চায়? আমরা কি কিছু জানতে চাই?

প্রায়ই মনে হয় আমরা চাই না। অল্প টাকায় কয়েকজন কর্মী দিয়ে আমরা কেবল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাই, যাতে নিজেদের  নানা প্রয়োজনে এই চ্যানেলগুলো ব্যবহার করতে পারি এই কারণে। পুরো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে আমরা কি একবার জনগণের দিকে তাকাবো নাকি ঘরের টিভিকে কেবল ‘বাক্স’ হিসেবে দেয়ালে ঝুলাবো সেই সিদ্ধান্ত এখন কেবলই আমাদের। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।

লেখক: সাংবাদিক

সিলেট প্রতিদিন/ ইকে

Local Ad Space

বিজ্ঞাপন স্থান


পুরাতন সংবাদ খুঁজেন

ফেসবুক পেইজ

সিলেটে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির ছড়াছড়ি : ৩ মাসে...

সিলেটে আ.লীগের শান্তি সমাবেশ হবে কেন্দ্রীয়...

কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ওসি’র...

নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় ৩শ মানুষের...

নবীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি কাঁটায় লাখ টাকা জরিমানা

হবিগঞ্জে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীতে মামলা...

লক্ষ্য স্থির করে কাজ করলে সফলতা অবশ্যই আসবে...

জকিগঞ্জে ঈসালে সওয়াব মাহফিল বাস্তবায়নে...

কলেজের নামাঙ্কিত জমিদার মদন মোহন দাসের...

বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে...

ওসমানীতে চালু হচ্ছে হার্ট ফেইলিওর কর্ণার ও শিশু...

সিলেটে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযান,...

সাংবাদিক সামিউল’র পিতার মৃত্যু বার্ষিকীতে...

ধর্মপাশায় যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী...

হবিগঞ্জে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে কাটা পড়ে নির্মাণ...

দেশে গরুর চেয়ে ছাগল বেশি

লালাবাজারে ১ম চেয়ারম্যান কাপ ফুটবলের উদ্বোধন

দুই আসনেই হারলেন হিরো আলম

শাবির লোকপ্রশাসনের নতুন বিভাগীয় প্রধান ড....

শাবির লোকপ্রশাসনের নতুন বিভাগীয় প্রধান ড....

লালাবাজার দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে...

অল্প ভোটে হেরে গেলেন হিরো আলম

কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজে নবীন বরণ

শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করলে মুনাফা সম্ভব :...

কমলগঞ্জে জুয়ারিদের হামলায় পুলিশসহ আহত ৫ : আটক...

লতিফা-শফি চৌধুরী মহিলা ডিগ্রি কলেজে...

ইমজার নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সিলেট জেলা...

বাংলা একাডেমি পুরস্কার তুলে দিলেন...

চলতি বা আগামী অধিবেশনে ওষুধ আইন পাস হবে:...

ধর্মপাশায় শিশুদের সাথে আনন্দ উৎসব

মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম’র কবিতা -আত্মজিজ্ঞাসা

সিলেট আইডিয়াল কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান

ধ্রুব গৌতম’র ছড়া- চিত্রলেখা

আজ বিশ্ব হিজাব দিবস

শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাক্টর চাপায় যুবক নিহত

বিজ্ঞাপন স্থান